১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাজার নিয়ন্ত্রণ জরুরী

নিত্যপণ্যের বাজারে গত কয়েকদিন ধরেই মূল্যবৃদ্ধির একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর আপাত দৃশ্যমান কয়েকটি কারণ হতে পারে- জাতীয় বাজেট পাস, আকস্মিক প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ী ঢল, বন্যা, জলাবদ্ধতা, বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সর্বোপরি একশ্রেণীর ব্যবসায়ীর কারসাজি। বাজেটে কয়েকটি পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধিসহ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। অতিবৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শাকসবজি ও মৎস্য খামার। তদুপরি কয়েকদিন পরেই আসছে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা। এসব মিলিয়ে আপাতত মূল্যবৃদ্ধির বেশি প্রভাব পড়েছে চিনি, ভোজ্যতেল, লবণ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, গরম মসলা, গুঁড়াদুধসহ মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে। অথচ দেশে এসব প্রায় প্রতিটি পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে। ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে শুল্ক বাড়ালেও তা আমদানির আগেই মূল্যবৃদ্ধি ব্যবসায়ীদের কারসাজি। লবণের ক্ষেত্রেও তাই। কোরবানিতে লবণের চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ। এমতাবস্থায় বাজার মনিটরিং ও দাম নিয়ন্ত্রণ জরুরী এবং অত্যাবশ্যক।

ঈদ-উল-আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তবে সাধারণ মানুষের জন্য আদৌ কোন সুসংবাদ অপেক্ষা করে নেই দৈনন্দিন বাজারে। পাইকারি ও খুচরা- সর্বত্রই লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিবিধ পণ্যের দামের উল্লম্ফন প্রবণতা। গত কয়েক বছর ধরে সবরকম চালের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বৃষ্টি, বর্ষা ও বন্যার প্রকোপে আকস্মিক বেড়ে গেছে চালের দাম। বেশি বেড়েছে সরু ও উন্নতমানের চালের দাম। অথচ এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু যার ন্যায্য দাম পায়নি কৃষক।

তবে গরিব, বন্যাদুর্গত ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিলে মোটা চালের দাম বাড়া সমীচীন নয়। সরকার অবশ্য কাবিখা, টাবিখা, ছিন্নমূল ও ভিজিএফ কার্ডধারীদের সাশ্রয়ী এবং স্বল্পমূল্যে চালসহ কয়েকটি নিত্যপণ্য দেয়ার ব্যবস্থা করে থাকে সামাজিক খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায়। এতে কিছুটা হলেও সাশ্রয় হয়।

এর বাইরে প্রবল অস্থিরতা ও উল্লম্ফন লক্ষ্য করা যাচ্ছে চিনি, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, মসলা, ডাল ও লবণের ক্ষেত্রে। কোরবানির ঈদে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য বিপুল পরিমাণ লবণের চাহিদা থাকলেও আকস্মিক লবণের দামের মূল্যবৃদ্ধি মেনে নেয়া যায় না। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে গত বছর প্রায় দুই লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম কমা সত্ত্বেও দেশীয় বাজারে কেন অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ছে তার কারণ অনুসন্ধান করে দেখতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নীতিনির্ধারকদের।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির নানা কারণের মধ্যে অন্যতম দুর্বল বাজার মনিটরিং, অসাধু আমদানিকারক, উৎপাদক, পরিবেশক, সরবরাহকারী, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী, অকার্যকর টিসিবি, সর্বোপরি ট্যারিফ কমিশন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রাজস্ব বোর্ডের মধ্যে আদৌ কোন সমন্বয় না থাকা। যে কারণে ভোক্তা ও ক্রেতাস্বার্থ অধিকার এবং সংরক্ষণ বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। সিন্ডিকেট তথা মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ীর বাজারের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফা লুটে নেয়ার কথা প্রায়ই উচ্চারিত হয়। এফবিসিসিআই, ঢাকা চেম্বার, মেট্রো চেম্বারসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো খুবই শক্তিশালী এবং সরকারের ওপর তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তিও অস্বীকার করা যায় না। জাতীয় সংসদেও ব্যবসায়ীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে ভোক্তা ও ক্রেতাস্বার্থ একরকম উপেক্ষিত ও অনালোচিত থাকছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে লাভ-ক্ষতি ইত্যাদি থাকবেই। তবে এসবই হতে হবে নীতি-নৈতিকতা, সততা ও নিয়মকানুনের আওতায়, যেক্ষেত্রে আমাদের ঘাটতি রয়েছে বহুলাংশে। অনেকটা এই প্রেক্ষাপটেই নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও দাম নিয়ন্ত্রণ আবশ্যক হয়ে পড়েছে।