২১ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এরশাদের জীবনাবসান

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আর নেই। রাজধানীর সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

দীর্ঘ সময়জুড়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এরশাদ ও তার দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কখনও সরকারে কখনও বা বিরোধী দলে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত-সমালোচিত চরিত্র এরশাদ। জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের কাছে ‘পল্লীবন্ধু’ হিসেবেই তিনি পরিচিত ছিলেন।

৩০ মে ১৯৮১ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমানের হত্যাকা-ের পর রাজনৈতিক অভিলাষ জাগে এরশাদের। ২৪ মার্চ ১৯৮২ সালে এরশাদ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা পরোক্ষভাবে নিজ হাতে নেন। ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে আবির্ভূত হন। ১৯৮২ সালের ২৭ মার্চ বিচারপতি আবুল ফজল মোহাম্মদ আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত করেন। ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এরশাদ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসনের পর রাষ্ট্রপতি আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে অপসারণ করে নিজেই এ পদে বসে যান।

১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি গঠন করেন এবং পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। শুরু হয় প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম। ১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে এরশাদ জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাঁচ বছর মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী আইন পাস করে জাতীয় সংবিধান পুনর্বহাল করেন। তবে বিরোধী দলগুলোর প্রবল আন্দোলনের মুখে ১৯৮৭ সালের ৭ ডিসেম্বর এরশাদ সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। বিরোধী দলগুলো ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনও বর্জন করে। এরশাদের অপশাসনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন। ১৯৯১ সালে গ্রেফতার হন এরশাদ। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে কারান্তরীণ অবস্থায় রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে বিজয়ী হন তিনি। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার এরশাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির মামলা করে। ১৯৯৬-এর সাধারণ নির্বাচনেও এরশাদ সংসদে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ছয় বছর কারাভোগের পর ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্ত হন। ২০০০ সালে জাতীয় পার্টিতে ভাঙন দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত এরশাদের নেতৃত্বাধীন অংশ টিকে যায়। এরপর তিনি ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মহাজোট গঠন করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের দল ২৭টি আসনে বিজয়ী হয়। অনুষ্ঠিত দশম এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাইরে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়ে বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিল তার দল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং তার স্ত্রী রওশন এরশাদ প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হন।

সব মিলিয়ে এক বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন এরশাদ। তার শাসনামলে দৃশ্যমান কিছু উন্নয়ন হয়, যা রাজনীতিতে স্থায়িত্ব পায়। তবে রাজনীতিতে আলোচিত-সমালোচিত দু’ভাবেই মূল্যায়িত হবেন এরশাদ। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। তার মৃত্যুতে আমরাও শোকার্ত। তার আত্মার মাগফিরাত ও শোকার্ত কর্মী-সমর্থক এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।