২১ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতে বাণিজ্য বাড়ছে

ভারতে বাংলাদেশের বাণিজ্য তথা রফতানি আয় বাড়ছে শীর্ষক সংবাদটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। ভারতের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও বেড়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্য। ইইউ, যুক্তরাজ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির খবর তো আছেই। এমনকি জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করা না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য বেড়েই চলেছে। সদ্য বিদায়ী অর্থবছর ২০১৮-১৯ এ দেশের সামগ্রিক পণ্য রফতানি ৪০ বিলিয়ন বা ৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের মাইফলক স্পর্শ করেছে। যদিও রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। ইত্যবসরে প্রবাসী আয় বা হোম রেমিটেন্সের পরিমাণও বেড়েছে আশাব্যঞ্জক গতিতে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে নতুন উচ্চতায় উঠেছে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়টি। এই প্রথমবারের মতো ভারতে বাংলাদেশী পণ্যের রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার। এর আগের অর্থবছরে যা ছিল মাত্র ৮৭ কোটি ডলার। তার মানে এক বছরের ব্যবধানে রফতানি আয় বেড়েছে ৪২ দশমিক ৯২ শতাংশ। মোট রফতানির ৪০ শতাংশই তৈরি পোশাক। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ভারত বাংলাদেশকে অস্ত্র ও মাদক বাদে প্রায় সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়। এতে ভারতের এক শ্রেণীর উদ্যোক্তা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বলে খবরও আছে, বিশেষ করে পোশাক খাতে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়ার প্রশ্নে। তবে ভারতের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এও মনে করে যে, শুল্কমুক্ত সুবিধা বন্ধ বা প্রত্যাহারের কোন সুযোগ নেই। কেননা, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের মজুরি সস্তা, পণ্য বৈচিত্র্যও বেশি। এই প্রেক্ষাপটে বিজিএমই-এর সভাপতির বক্তব্য, ভারতে পোশাক রফতানি আরও বাড়তে পারে যদি সে দেশের কাপড় ব্যবহারসহ ডিজাইন ও নক্সায় আরও বৈচিত্র্য আনা হয়। এর পাশাপাশি আগামীতে পোশাকশিল্পে সবচেয়ে বড় বাজার হতে পারে আসিয়ান। বর্তমানে সেখানে ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। ২০৩০ সাল নাগাদ আসিয়ান হবে বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। আমাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদারও ভারত। তবে বাংলাদেশের পাটপণ্যের ওপর এন্টি ডাম্পিং শুল্ক (বাজার দখলে কম দামে পণ্য ছাড়ার শাস্তিস্বরূপ শুল্ক) আরোপের সুপারিশ করেছে ভারতের ডাম্পিং নিয়ন্ত্রণকারী সরকারী প্রতিষ্ঠান ‘এন্টি ডাম্পিং এ্যান্ড এ্যালাইড ডিউটিস (ডিজিএডি)’। এ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাংলাদেশের পাটপণ্য রফতানিকারকরা। এতে বাংলাদেশের অনেক পাটকল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সরকার কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ওই শুল্ক আরোপ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে, এমনটাই প্রত্যাশা ব্যবসায়ী মহলের।

তবে দুই দেশের বাণিজ্য আরও সহজীকরণে স্থলবন্দর, রেলপথ, সড়কপথসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বাণিজ্য কার্যক্রমের জন্য এক স্থানে সব সুবিধা (সিঙ্গেল উইনডো ফ্যাসিলিটিজ) দেয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। ঢাকা ও দিল্লীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমানে যেসব ইস্যু বাধা হিসেবে কাজ করছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মূলত অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সুগমতার সঙ্কট। এসব সমস্যা সমাধানে করণীয় নির্ধারণ এবং পর্যালোচনা করা হবে, এমনটাই প্রত্যাশা। দেশের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা দরকার। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার এখনই সময়। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ আরও বেশি প্রত্যাশিত।