১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকায় দ. কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক ইয়োন বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক হৃদ্যতাপূর্ণ আলোচনায় সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় উঠে আসে। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের যে সেতুবন্ধন রয়েছে তাকে আরও জোরদার করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের অগ্রযাত্রায় সহযোগিতার আহ্বান জানান। এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে লি নাক ইয়োনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তার ওপরও বিশেষ জোর দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, ব্যবসা-বাণিজ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। সঙ্গত কারণে এই বাণিজ্য বৈষম্য কমাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের কোন ব্যতিক্রম ছাড়া শুল্কমুক্ত সুবিধার বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পায়। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আমলে নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারপ্রধান তা বিবেচনায় এনে সমাধানের আশ্বাস দেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে গার্মেন্টস পণ্য, ওষুধ, নিটওয়্যার, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়ার তৈরি পণ্যসামগ্রী, হিমায়িত খাদ্য এবং সিরামিক আমদানির ওপর সফররত প্রধানমন্ত্রীর নিকট প্রস্তাব রাখা হয়। জবাবে লি নাক ইয়োন বাংলাদেশকে ‘সম্ভাবনাময় দেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দেন। পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা সম্প্রসারিত করতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বৈঠকে উপস্থাপিত হয়। ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া টেক্সটাইল, ট্যানারি ও জুতা কারখানায় বাংলাদেশে যথেষ্ট বিনিয়োগ করেছে। সেটাকে সম্প্রসারিত করে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে’ আরও বিনিয়োগ বাড়ানো যেতে পারে, যা দু’দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তৃত বলয়ে অবিস্মরণীয় ও সুদূরপ্রসারী অবদান রাখবে।

বর্তমানে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশে যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে তার একটি উপযুক্ত সমাধানে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা কামনা করা হয়। মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল থেকে রোহিঙ্গাদের যে অমানবিক উপায়ে বাস্তুচ্যুত আর দেশ ছাড়া করা হয়েছে সেই নির্মমতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার আশু ও মানবিক সমাধান কামনা করেন। এক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া বিশেষ অবদান রাখতে পারে বলে শেখ হাসিনা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। লি নাকের পক্ষ থেকেও সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়। রোহিঙ্গা সঙ্কটকে মানবিক দায়বদ্ধতায় সামলানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচীর প্রশংসা করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী। শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কাকে আমলে এনে জরুরীভিত্তিতে এমন বিপর্যয় উত্তরণের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। এই বৈঠকে ঢাকা ও সিউলের মধ্যে ৩টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হয় দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে। এছাড়াও বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার তথ্য প্রযুক্তি, জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেয়ার ঘোষণা আসে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। বাংলাদেশের ২০৪১ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দক্ষিণ কোরিয়া সব সময় পাশে থাকার নিশ্চয়তাও দিয়েছে। উন্নয়নের অভিগামিতায় আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধিকরণে বন্ধপ্রতিম রাষ্ট্রের সহযোগিতা পাওয়া বাংলাদেশের জন্য এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরী।