১৮ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্রামীণফোন ও রবির ব্যান্ডউইথ থেকে ব্লক তুলে নেওয়ার ঘোষণা বিটিআরসির

গ্রামীণফোন ও রবির ব্যান্ডউইথ থেকে ব্লক তুলে নেওয়ার ঘোষণা বিটিআরসির

অনলাইন রিপোর্টার ॥ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির ব্যান্ডউইথ থেকে ব্লক (কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল) তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। তবে, ব্লক তুলে নিলেও অপারেটর দু’টির এনওসি (নো অবলিগেশন সার্টিফিকেট) বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। বুধবার রাজধানীর রমনায় বিটিআরসির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে অপারেটর দু’টির ব্যান্ডউইথ প্রত্যাহার হয়ে যাবে (তারা ফিরে পাবে)। তাহলে টাকা কীভাবে আদায় হবে? আমাদের আইনে যা আছে, তা আমরা প্রয়োগ করবো। আমাদের আইনে যে ব্যবস্থা দেওয়া আছে, তা প্রয়োগ করে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে। এটুকু সিদ্ধান্ত হয়েছে। টাকাটা পাবলিক ডিমান্ড। রাষ্ট্রীয় টাকা। এই টাকা মাফ করার কোনও সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই টাকা অপারেটরগুলোর না দেওয়ার যেমন কোনও সুযোগ নেই, তেমনি বিটিআরসিরও না নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘অপারেটর দু’টির এনওসি ইস্যু করা আমরা দ্রুত বন্ধ করে দেবো।’

প্রসঙ্গত, বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করায় গত ৪ জুলাই গ্রামীণফোন ও রবির ব্যান্ডইউথ কমিয়ে দেয় বিটিআরসি। গ্রামীণফোনের ৩০ ভাগ এবং রবির ১৫ ভাগ ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দিতে ওই দিনই কয়েকটি আইআইজিকে (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) নির্দেশনা পাঠায় বিটিআরসি।

এই নির্দেশনা কার্যকরের পর থেকে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়েন। বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ অ্যাপ ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছিল গ্রাহকদের। বাফারিং ছাড়া ইউটিউব দেখা যাচ্ছিল না। অন্যদিকে কল ড্রপের সংখ্যাও বেড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় বইতে থাকে সমালোচনার ঝড়।

এদিকে, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। মন্ত্রী, বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে অপারেটর দু’টির ব্যান্ডউইথ থেকে ব্লক তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ওই বৈঠকের এক দিন পরেই বিটিআরসি সংবাদ সম্মেলন করে ব্যান্ডউইথ থেকে ব্লক তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে বকেয়া আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপারেটর দু’টিকে কোনও এনওসি দেওয়া হবে না বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পাওনা আদায়ে বিটিআরসি আরও কৌশল অবলম্বন করবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।