২১ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বালিশকান্ডে দুর্নীতি

রূপপুর পারমাণমিক বিদ্যুত কেন্দ্র দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি মেগা প্রকল্প। এই পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের গ্রীন সিটি আবাসন প্রকল্পে ১৬৯ কোটি টাকার অনিয়ম গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রকাশ করেছে। এই তদন্ত প্রতিবেদনে ৫০ জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন এ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। গত ১৫ মে গ্রীন সিটি আবাসন প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয় তারই ভিত্তিতে হাইকোর্ট এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

তারই প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদন আদালত সমীপে পেশ করে ৫০ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। গ্রীন সিটি মেগা প্রকল্পে ২০ ও ১৬ তলা বহুতল ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য মাত্রাতিরিক্ত মূল্যে তোষক-বালিশ, আসবাবপত্র কেনা এবং তা ওঠানো বাবদ যে অর্থ অপচয় করা হয়েছে তা রূপপুরের রূপকথাই বটে। একটি বৈদ্যুতিক চুলার দাম ধরা হয়েছে সাড়ে সাত হাজার টাকা। এই চুলা ওপরে তুলতে ধরা হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার টাকা। একটি বালিশের দাম দেখানো হয় ৬ হাজার টাকা এবং তা ওপরে ওঠাতে লাগে ৭৩০ টাকা। বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং আসবাবপত্র ক্রয় ও ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া নিয়ে যে পরিমাণ ব্যয় দেখানো হয়েছিল তাতে সারাদেশ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। টনক নড়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়েরও। আবাসন প্রকল্পে যে বড় ধরনের অর্থ আত্মসাত তা কোনভাবেই স্বচ্ছতা আর নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে না। এই দৃষ্টিকটু পুকুরচুরি সততা, ন্যায়নিষ্ঠতা আর বিধিনিষেধকেও চরমভাবে উপেক্ষা করে। প্রধানমন্ত্রীর ২০১৮ সালের নির্বাচনের মূল অঙ্গীকারই ছিল দুর্নীতির ব্যাপারে শূন্য সহনশীলতা। আর এমন আকাক্সিক্ষত প্রত্যাশাকে সামনে রেখে দুর্নীতি নামক সামাজিক ব্যাধিকে সমূলে উৎখাত করতে হবে। আইনী কার্যক্রমের আওতায় এনে তদন্ত প্রতিবেদনে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তি বিধান করা সবচেয়ে জরুরী। এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়ানোও প্রত্যেক নাগরিকের সচেতন দায়বদ্ধতা।

গ্রীন সিটি আবাসিক প্রকল্পে আসবাবপত্রের দরের যে হিসাব এসেছে তা অযৌক্তিক এবং অর্থ অপচয়ের এক নিকৃষ্ট নমুনা। অর্থ অপচয় তো বটেই, আত্মসাতের ব্যাপারটিও উপেক্ষার নয়। এমন গর্হিত অপরাধের শাস্তি দ্রুত বিচার এবং যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত অপরাধীরা একেবারে ভবন নির্মাণের মূল দায়িত্বে থাকা ক্ষমতাবান ব্যক্তিবর্গ। চিহ্নিত ৫০ জনের মধ্যে ৩৪ জন প্রকৌশলী রয়েছেন যারা গ্রীন সিটি আবাসিক প্রকল্পের নির্মাণ কৌশলের দায়িত্ব পালন করা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দাখিল করা প্রতিবেদনের শুনানি পরবর্তী কার্যদিবসে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জড়িতরা যেই হোক না কেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি থেকে তারা যেন রেহাই না পায়।