১৮ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাল্টে যাচ্ছে ডেঙ্গুর ধরন, বিভ্রান্ত চিকিৎসকরাও

  • রাজধানীতে আক্রান্তের হার বাড়ছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে রাজধানীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি। জ্বরে আক্রান্ত হলেই যেন ডেঙ্গু রোগী ! রাজধানীতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হার নগরবাসীদের আতঙ্কিত করে তুলছে। বুধবার ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে নতুন দুই শ’১৭ জন। মঙ্গলবার এই সংখ্যা ছিল এক শ’ ৭১ । অর্থাৎ বুধবার গড়ে ঘণ্টায় ভর্তি হয় নয়জন নতুন ডেঙ্গু রোগী। আর সরকারী হিসেবে ১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে মোট ২৯৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ৪৯৪৩ জন। বেসরকারী পরিসংখ্যানে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, পাল্টে যাচ্ছে ডেঙ্গুর ধরন। ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পরও রোগীর শরীরে থাকা ডেঙ্গু জীবাণুর ধরন বুঝতে সময় লাগছে চিকিৎসকদের। ততক্ষণে রোগীর শরীরে থাকা ডেঙ্গুর জীবাণু দ্রুত আরেক রূপ ধারণ করছে। কিছু বুঝে উঠার আগেই আঘাত হানছে রোগীর ব্রেইন, হার্ট ও লিভারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর জীবাণু আগের তুলনায় বেশ শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। জ্বর হওয়ার পর পরই শয্যাশায়ী হয়ে পড়ছে রোগী। কিছু বুঝে উঠার আগেই মৃত্যু ঘটছে অনেক রোগীর। এখন জ্বর হলে মানুষ যেমন প্রথমে ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার ভয় পায়, তেমনি ডাক্তাররাও তা শনাক্ত করে চিকিৎসা করেন। কিন্তু যার ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে, তা ঠিক কোন টাইপের ডেঙ্গু, তা শনাক্ত করা হচ্ছে না। ফলে ডেঙ্গু পরীক্ষার পাশাপাশি টাইপিংও করতে হবে। না হলে রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দেয়া যাবে না। আর ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। জ¦র হলেই কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। আর চিকিৎসকদের উচিত হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধকল্পে সরকার কর্তৃক তৈরিকৃত জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করে চিকিৎসা প্রদান করা ।

দেশে ডেঙ্গুর ধরনে পরিবর্তন আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ডেঙ্গুর গতি-প্রকৃতি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালানো দরকার। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধকল্পে জাতীয় গাইডলাইন তৈরি করেছে সরকার। চিকিৎসা প্রদানের সময় গাইডলাইনটি অনুসরণ করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন অনেকেই। ভেক্টর বর্ন ডিজিজ নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা এসেন্ডের কান্ট্রি হেড অধ্যাপক ডাঃ বে-নজীর আহম্মেদ জনকণ্ঠকে বলেন, ডেঙ্গু বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। সব ডেঙ্গুই প্রাণঘাতী হয় না। চার ধরনের ডেঙ্গু (ডিইএনভি-১, ডিইএনভি-২, ডিইএনভি-৩ ও ডিইএনভি-৪) মধ্যে ঠিক কোন ধরনের ডেঙ্গুর প্রকোপ বাংলাদেশে বেশি, তা খতিয়ে দেখা জরুরী। এখন জ্বর হলে মানুষ যেমন প্রথমে ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার ভয় পায়, তেমনি ডাক্তাররাও তা শনাক্ত করে চিকিৎসা করেন। কিন্তু যার ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে, তা ঠিক কোন টাইপের ডেঙ্গু, তা শনাক্ত করা হচ্ছে না। ফলে ডেঙ্গু পরীক্ষার পাশাপাশি টাইপিংও করতে হবে। না হলে রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দেয়া যাবে না।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ খান আবুল কালাম আজাদ জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ আজ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। এই রোগ প্রতিরোধে জাতীয় গাইডলাইন তৈরি করেছে সরকার। নানামুখী সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিষয়টি এখন মানুষ জানে। তবে এর যে গতি-প্রকৃতিতে পরিবর্তন হচ্ছে সে সম্পর্কে সচেতনতা নেই। অনেক চিকিৎসকেরও এ বিষয়ে ভাল ধারণা নেই। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে সচেতন ও সতর্ক থাকলে এবং জ¦র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সময়ক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে ডেঙ্গু থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।