১৮ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বন্যা- চার জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ

  • ভাগ্যকুল পয়েন্টে পদ্মার পানি ৪৮ ঘণ্টায় বিপদসীমা অতিক্রম করবে ॥ মধ্যাঞ্চলে পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাড়তে থাকা অব্যাহত বন্যার পানি ঢাকার সঙ্গে উত্তরের চার জেলার রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। উত্তরের পাশাপাশি মধ্যাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। প্রথমবারের মতো বুধবার পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও টাঙ্গাইলের পাশাপাশি মধ্যাঞ্চলের মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করা হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দুর্গতদের দুর্ভোগ কমেনি।

বুধবার দেশে উত্তরাঞ্চলে পানি বেড়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বহু মানুষ। পাশাপাশি স্টেশন ডুবে যাওয়ায় গাইবান্ধ্,া কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাটের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। রেললাইনের নিচের মাটি ও পাথর সরে যাওয়ায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গাইবান্ধার বাদিয়াখালি থেকে ত্রিমোহনী পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রেললাইনে বন্যার পানি ওঠায় গাইবান্ধা-বগুড়া হয়ে ঢাকা রুটে লালমনিরহাটের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে পার্বতীপুর হয়ে লালমনিরহাট ঢাকা রুটের আন্তঃনগর ট্রেন ঢাকা যাচ্ছে। গাইবান্ধার স্টেশন মাস্টার আবুল কাশেম জানান, বাদিয়াখালী এলাকায় রেললাইনে পানি ওঠায় বুধবার বেলা সাড়ে এগারোটা থেকে ট্রেন চালানো বন্ধ রেখেছেন তারা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। পানি ওঠায় স্লিপার, মাটি ও পাথর সরে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না আবার কখন ট্রেন চালু করা যেতে পারে।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ও জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। উত্তরের জেলাগুলোতে পানি কমার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। মূলত উজানের ঢলে দিনদিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এক কুড়িগ্রামেই ৬ লাখের বেশি মানুষ শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি তীব্র সঙ্কটে পড়েছে। নওগাঁর মান্দায় বাঁধ ভেঙ্গে নতুন করে ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। এদিকে শীতলক্ষ্যায় পানি বেড়ে ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে ডুবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে পারাপার। ভোগান্তি চরমে উঠেছে।

পাউবো জানায়, আপার মেঘনা এবং দক্ষিণ পূর্ব পাহাড়ী এলাকা ছাড়া দেশের সব প্রধান নদ নদীর পানি সমতলে বাড়ছে। এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে দেশের উপরে আর ভারি বৃষ্টিপাত সম্ভাবনা নেই। এমনকি দেশের পার্শ্ববর্তী উজানের ভারতেও এই মুহূর্তে ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ভারি বৃষ্টি থামলেও উজানের ঢল কমলে বন্যা পরিস্থিতির অচিরেই উন্নতি হবে। তবে তারা জানায়, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র যমুনা ও গঙ্গা পদ্মাপারের পানি সমতলে বাড়বে। আজকের মধ্যে পদ্মার পানি ভাগ্যকূল পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করবে। ইতোমধ্যেই গোয়ালন্দ পয়েন্টে বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। এছাড়া আত্রাই ধলেশ্বরী, যমুনা ব্রহ্মপুত্র, সুরমা-কুশিয়ারার পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে।

গাইবান্ধা ॥ ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। শহর সংলগ্ন খোলাহাটী ইউনিয়নের গোদারহাট এলাকায় সোনাইল বাঁধের প্রায় ৩শ’ ফুট এলাকা ধসে যাওয়ায় শহরে পানি ঢুকেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ত্রিমোহিনী স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, রংপুরের সঙ্গে ঢাকাগামী রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

ঘাঘট নদীর পানির তোড়ে সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় সুন্দরগঞ্জ-গাইবান্ধা সড়কে হাঁটুর উপরে উঠায় যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এদিকে শহরের ভেতর পানি প্রবেশ করায় আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তবে মূল শহর রক্ষা বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবারের বন্যায় সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৩৪ ইউনিয়নের ২৩০ গ্রামের ৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯ হাজার ২৩০।

নওগাঁ ॥ মান্দায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে আত্রাই নদীর ডান তীরে উপজেলার কশব ইউনিয়নের চকবালু নামকস্থানে বাঁধটি ভেঙ্গে যায়। এতে অন্তত অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ক্ষেতের ফসল। বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় ঘরের আসবাবপত্র ও মালামাল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ। বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে পূর্বমান্দার সবধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শহরের ছোট যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। গত ২৪ ঘণ্টা এ নদীর পানি যে হারে বেড়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সে হারে বাড়লে নদীর পানি আউট লেটের ড্রেন দিয়ে শহরে প্রবেশ করবে।

বগুড়া ॥ বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উজান থেকে আসা ঢল অব্যাহত থাকায় বুধবার বিকেল পর্যন্ত সারিয়াকান্দিতে যুমনার পানি বিপদসীমার ১১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এটা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে। পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি যমুনাপাড়ের গ্রামগুলোর লোকজনের মধ্যে নানামুখী শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অপরদিকে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়া বেশ কিছু নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নদী তীরবর্তী ও চর এলাকায় প্রায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮২ হাজার মানুষ। এদের মধ্যে বেশিরভাগই পানিবন্দী। অনেকে আশ্রয় নিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে।

নীলফামারী ॥ টানা বৃষ্টি, উজানের পাহাড়ী ঢল ও তিস্তা নদীর পানি উপচে এবারের বন্যায় কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারী হিসাব অনুযায়ী নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ৯০০ একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে আছে। এর মধ্যে ২২৫ বিঘা জমির ফসল সম্পন্নরূপে ক্ষতি হয়েছে। এসব জমিতে রয়েছে আমনের বীজতলা, আউশ ধান শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল। এই নিয়ে ওই উপজেলার তিস্তা নদী বেস্টিত গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা দেড় হাজার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছে। বন্যার পানি দ্রুত অপসারণ না হলে পরবর্তী ফসল ঘরে তোলা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। এদিকে ফসল হারিয়ে কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা নেমে এসেছে। বেশির ভাগ কৃষক এনজিও, ব্যাংক অথবা চড়া সুদে মহাজনের কাছ থেকে ঋণে টাকা এনে ফসলের আবাদ করেছে। এখন বন্যায় ফসলহানিতে তারা দুই চোখে অন্ধকার দেখছে।

কুড়িগ্রাম ॥ ঘরে শুকনো খাবার নেই। নেই রান্নার খড়িও। নলকূপ তলিয়ে থাকায় মিলছে না বিশুদ্ধ খাবার পানি। টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ছে বিড়ম্বনা। এ চিত্র এখন কুড়িগ্রামের ৪ শতাধিক চরাঞ্চলসহ জেলার ৫৬ ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক পরিবারের। এসব পরিবারের প্রায় সোয়া ৬ লাখ মানুষ তাদের গবাদি পশুসহ অবর্ণনীয় কষ্টে দিন পার করছেন। এদের বেশিরভাগ মানুষই বন্যার থৈ থৈ পানির মাঝে বাড়িতে নৌকায় ও ঘরের ভেতর মাচান উঁচু করে অতি কষ্টে দিন-রাত যাপন করছেন। শুকনো খাবারের তীব্র সঙ্কটে পড়েছেন পানির মাঝে বসবাসকারী পরিবারগুলো। আর যারা ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু বাঁধ ও পাকা সড়কসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তারাও পড়েছেন নানা দুর্ভোগে। কোথাও কোথাও বন্যা দুর্গতদের আশ্রিত স্থানেও হানা দিয়েছে বন্যার পানি। আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলি কোন রকমে জীবন বাঁচানোর তাগিদে রান্নার কাজ সেরে নিচ্ছেন। অনেক পরিবার শুকনো খড়ির অভাবে রান্নার কাজ করতে না পারায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন দোকান থেকে কেনা শুকনো খাবারের ওপর। কিন্তু নগদ টাকার অভাবে অনেক পরিবারের ভাগ্যে জুটছে না দোকান থেকে কেনা সে খাবার টুকুও। সেই সঙ্গে শত শত মানুষ একসাথে বাঁধ ও পাকা সড়কের দুই ধারে ধাপড়ি ঘর ও পলিথিনের তাঁবু টাঙ্গিয়ে স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও গবাদি পশু নিয়ে বসবাস করলেও অনেক পরিবার পলিথিন বা ত্রিপলের অভাবে রয়েছেন খোলা আকাশের নিচে।

মৌলভীবাজার ॥ কমছে নদীর পানি বাড়ছে দুর্ভোগ। গেল দু’দিন থেকে উজানের ঢল ও বৃষ্টি না হওয়াতে জেলার নদী ও হাওড়ের পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এতে করে নতুন করে নদীর বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবনের শঙ্কা কমলেও বাড়ছে দুর্ভোগের দুশ্চিন্তা। কুশিয়ারা নদী ছাড়া জেলার মনু, ধলাই নদীর পানি এখন বিপদ সীমার নিচে প্রবাহিত হলেও বাড়ছে বন্যাকবলিত মানুষের চরম দুর্ভোগ। নদী ও হাওড়ের পানি কিছুটা কমতে শুরু হলেও এখন নতুন করে বাড়ছে জলাবদ্ধতা।

মাদারীপুর ॥ পদ্মায় অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌপথের লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে তীব্র ঘূর্ণি¯্রােতে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে নৌযান পারাপারে। স্রোতে চলাচল করতে গিয়ে বাড়তি সময় ব্যয় হওয়ায় কমে গেছে ফেরির ট্রিপের সংখ্যা। মাত্র ৩টি ড্রেজার স্রোতের প্রতিকূলে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে অপ্রতুল ড্রেজিং ও নাব্য সঙ্কটে যেকোন মুহূর্তে ফেরি সার্ভিস বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা খননকাজে নিয়োজিতদের।

রাঙ্গামাটি ॥ পাহাড়ী ঢল ও বর্ষণে লেকের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সদর উপজেলা , বাঘাইছড়ি, লংগদু বরকল, কাপ্তাই, নানিয়াচর, বিলাইছড়ি ও জুরাইছড়ি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ লোক পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। রাঙ্গামাটি ও লংগদু এলাকায় লেকের তীরে গড়ে উঠা অধিকাংশ বাড়ি ঘরে লেকে পানি ঢুকে গেছে। কাপ্তাই লেকের তীরে আবাদ করা কয়েক হাজার একর আমন আবাদ ও ক্ষেতের ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

জামালপুর ॥ যমুনা নদীর পানি বাড়তে থাকায় জামালপুর জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও চরম অবনতি হয়েছে। জেলার সাতটি উপজেলায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সরকারী ত্রাণ বিতরণ অপর্যাপ্ত হওয়ায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণের জন্য হাহাকার বিরাজ করছে। মঙ্গলবার থেকে জেলায় ত্রাণের মজুদ ফুরিয়ে গেছে।

রূপগঞ্জ ॥ শীতলক্ষ্যার পানি বৃদ্ধির কারণে ফেরি ঘাটের গ্যাংওয়ে ডুবে গেছে, জরাজীর্ণ পল্টুনে পানি ঢুকে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ফেরি দিয়েই পারাপার হচ্ছে ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহন। হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে কয়েকটি যানবাহন পানিতে আটকা পড়েছে। ঘাটের পর দুটি ফেরি রয়েছে।