২০ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাইবার ট্রাইব্যুনালে ওসি মোয়াজ্জেমের বিচার শুরু

কোর্ট রিপোর্টার ॥ ফেনীর সোনাগাজী মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাতের জবানবন্দীর ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর মামলায় সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিচার শুরু হয়েছে। সাইবার ট্রাইব্যুনালে চার্জ গঠনের মাধ্যমে গতকাল বুধবার মামলার একমাত্র আসামির বিচার শুরু হলো।

দুই পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ওসি মোয়াজ্জেমকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি দোষী না নির্দোষ?’ উত্তরে

মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আমি নির্দোষ।’ এরপর বিচরাক বলেন, আপনার (ওসি মোয়াজ্জেম) বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় চার্জ গঠন করা হলো। আদালত চার্জ গঠনের আদেশ দিয়ে আগামী ৩১ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করে।

চার্জ গঠন শুনানির জন্য ওসি মোয়াজ্জেমকে দুপুর ২টায় আদালতে হাজির করা হয়। ৫ মিনিট পরে বিচারক এজলাসে ওঠেন। আসামির উপস্থিতিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ ও আবু সাঈদ সাগরসহ অন্যরা চার্জ শুনানিতে অংশ নেন। আসামির আইনজীবীরা বলেন, মামলাটিতে আসামি যে ভিডিও ছেড়েছে সেই বিষয়ে এজাহারে উল্লেখ নেই। মামলার বাদী ব্যারিস্টার সুমন আহমেদ নিহতের পরিবারের কেউ না। এছাড়া তিনি থানায় না গিয়ে সরাসরি আদালতে এসেছেন। নুসরাতের পরিবার যদি মামলা করতে না পারে তাহলে কাউকে ক্ষমতা দিয়ে মামলা করাতে পারতেন। কিন্তু এমনটি ঘটেনি।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, ভিডিওটি আসামির মোবাইল থেকে করা হলেও তিনি তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেননি। তিনি জোর করেও ভিডিও করেননি। তিনি যখন টয়লেটে যান তখন একজন সাংবাদিক তার মোবাইল থেকে ভিডিওটি নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। তথ্য চুরির অভিযোগে সেই সময় তিনি একটা জিডিও করেছিলেন।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম (শামীম) চার্জ গঠন করার জন্য আবেদন করে বলেন, এ মামলায় একটা প্রমাণই তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করার জন্য যথেষ্ট- আর তা হলো তিনি ভিডিওটি করেছেন কিনা। আসামিপক্ষও বলছে না তিনি ভিডিও করেননি। আর ওসি ভিডিও করার সময় নুসরাতকে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘তুমি যা বলেছো তা রেকর্ড হচ্ছে’। একজন সাংবাদিক তার মোবাইল থেকে ভিডিও নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন আসামিপক্ষের এমন দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, মোবাইল একটা সিকিউরড জিনিস। সেটার সংরক্ষণের দায়িত্ব তার। ব্যারিস্টার সুমনের মামলা করার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি একজন মানবাধিকার কর্মী, মানবতার কারণেই তিনি এ মামলা করেছেন। আর পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষমতা সকল পরিবারের থাকে না। এরপর বিচারক চার্জ গঠন করেন।

গত ১৬ জুন বিকেলে হাইকোর্ট এলাকা থেকে আটক হওয়ার পর ওসি মোয়াজ্জেম শাহবাগ থানা পুলিশের হেফাজতে ছিলেন। এরপর ১৭ জুন সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। ২৪ জুন মোয়াজ্জেম হোসেনকে জেল কোড অনুযায়ী ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।

গত ১৫ এপ্রিল মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এই আবেদন গ্রহণ করে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেয়।