২৩ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘আমার ক্রিকেট জীবনের সেরা মুহূর্ত’

 ‘আমার ক্রিকেট জীবনের সেরা মুহূর্ত’

জাহিদুল আলম জয় ॥ ‘স্কুলের শিশুদের কাছেও এমনটা আশা করা যায় না’। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের রাউন্ড রবীন লীগে শ্রীলঙ্কার কাছে বাজেভাবে হারের পর ইংল্যান্ড দল নিয়ে এমন কথা বলেছিলেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন। অথচ সেই ভন ইংলিশরা বিশ্বকাপ জয়ের পর সুর পাল্টে ফেলেছেন। এখন তিনি কিভাবে ইয়ন মরগান, বেন স্টোকস, জস বাটলারদের প্রশংসা করবেন তার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। আবেগঘন এক সাক্ষাতকারে ৪৪ বছর বয়সী ভন প্রথমবারের মতো বিশ্বজয়ী ইংল্যান্ড দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, এটাই তার ক্রিকেট জীবনের সেরা মুহূর্ত। লর্ডসের ঐতিহাসিক ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের দেয়া ২৪২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৮৬ রানেই চার উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। দলের টপঅর্ডারের তিন তারকা ব্যাটসম্যান জেসন রয় (১৭), জনি বেয়ারস্টো (৩৬) ও জো রুট (৭) ফিরে যান সাজঘরে। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগানও ফিরে যান মাত্র নয় রান যোগ করে। এরপর ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে অক্সিজেনের যোগান দেন বেন স্টোকস ও জস বাটলার। এই দু’জনের যুগলবন্দীতে ইংল্যান্ড ১১০ রান যোগ করে স্কোরবোর্ডে। আর তখনই স্টোকসের সঙ্গে ব্যাটিং করতে থাকা বাটলারকে দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার মাইকেল ভন এক অদ্ভূত প্রস্তাব দেন। ভন তখন টুইটারে লেখেন, ‘কাম অন জস বাটলার, তুমি যদি এখান থেকে আমাদের বিশ্বকাপ জেতাতে পার তাহলে আমি তোমাকে আজীবন মদ কিনে দেব।’

কথা রেখেছেন বাটলার। তবে বাটলারের চেয়েও এগিয়ে গেছেন স্টোকস। মূলত স্টোকসের অতিমানবীয় ইনিংসের কারণেই প্রায় ফসকে যাওয়া বিশ্বকাপের স্বাদ নিতে পেরেছে ক্রিকেটের জনকরা। তাইতো স্টোকসকে প্রশংসায় ভাসিয়ে ভন বলেন, ওর প্রতি পুরো দেশবাসী কৃতজ্ঞ। স্টোকস যা করেছে তা এককথায় অসাধারণ। ভাষায় প্রকাশ করার নয়। আসলে এই সাফল্যের অংশীদার পুরো দল। আমাদের হিরোদেরই প্রাপ্য ছিল এই কাপ। কেননা গত চার বছর তারা অসাধারণ ক্রিকেট খেলে চলেছে। যোগ্য দল হিসেবেই বিশ্বকাপ জিতেছে ইংল্যান্ড। ভন যখন খেলেছেন তখন ইংল্যান্ডের ওয়ানডে দল অনেকটাই সাদামাটা ছিল। বিশ্বকাপ জয়ের ভাবনাও তাই খুব একটা ছিল না ইংলিশদের! কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই ইংল্যান্ড দল এখন অনেক বেশি পরিণত। বিগত চার/পাঁচ বছর অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই স্বপ্নের বিশ্বকাপ জিতেছে দলটি। নিজেরা না পারলেও তাই উত্তরসূরিদের অর্জনে মহাখুশি ভন। মাঠে খেলতে না পারলেও এই বিশ্বকাপ জয়কেই নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ প্রসঙ্গে ভন বলেন, বিশ্বকাপ জয় আমাদের (ইংল্যান্ড) ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা মুহূর্ত। আমার ক্রিকেট জীবনেরও সেরাদিন। এটা কোনদিন ভুলতে পারব না। দলের প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ভন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, আগামী বছর টি২০ বিশ্বকাপেও ভাল করবেন মরগানরা। অথচ এই ভনই বিশ্বকাপের রাউন্ড রবীন লীগের মাঝামাঝিতে ইংল্যান্ডের টানা দুই ম্যাচ হারের পর কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, এই দলটা অনেকটা বাচ্চাদের মতো। যেভাবে তারা খেলছে তাতে বিশ্বকাপ দূরে থাক, সেমিফাইনালেই খেলা হবে না!! সেই ভনই এখন মরগানবাহিনীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। খেলোয়াড়ী জীবনে দল হিসেবে খুব একটা সাফল্য পাননি ভন। মূলত ২০০২-০৩ মৌসুমের এ্যাশেজ সিরিজের পর তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পান। ওই সিরিজে তিনটি সেঞ্চুরিসহ ৬৩৩ রান করেছিলেন। তীক্ষè বুদ্ধি ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি ২০০৩ সালে ইংল্যান্ড টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব পান। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৫১ টেস্টে ইংলিশদের নেতৃত্ব দেন। ভনের নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় অর্জন, ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমের পর দীর্ঘ ১৮ বছর পর ২০০৫ সালে ইংল্যান্ড এ্যাশেজ ট্রফি জয় করে। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের পর নাসের হুসেনকে অধিনায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ভনকে ওয়ানডে দলের দায়িত্ব দেয় ইসিবি। এরপর টেস্ট দলেরও অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন তিনি।