২০ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাদারীপুরে পদ্মায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি

মাদারীপুরে পদ্মায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর ॥ পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শিবচরের চরাঞ্চলের ৩ ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গন আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। ভাঙ্গনের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়ে অর্ধশত ঘরবাড়ি, ১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে ৮ স্কুল ভবন, ২ স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হাট-বাজারসহ ৩ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা হাজারো বসতবাড়ি। ভাঙ্গন কবলিতরা নিরাপদ স্থানে ছুটে যাচ্ছেন। এদিকে চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপির নির্দেশে বুধবার বিকেল পর্যন্ত নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ^জিৎ রায়, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতৃবৃন্দ। নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে এখনো পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরাঞ্চলজুড়ে আতংক বিরাজ করছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৪/৫ দিন ধরেই পদ্মা নদীর শিবচর অংশে পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে উপজেলার চরাঞ্চল বন্দরখোলা, চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গনের ব্যাপকতা বেড়েছে। ভাঙ্গনে আক্রান্ত হওয়ায় অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছে অর্ধশত ঘরবাড়ি। ভাঙ্গনের প্রকোপ বাড়ায় ক্ষতিগ্রস্থরা পরিবারের সদস্য, গবাদি পশু, বসত ঘর নিয়ে কোনমতে নিরাপদ আশ্রয়ে পাড়ি দিচ্ছেন। ভাঙ্গন মুখে পড়েছে শত শত ঘরবাড়ি হাজারো পরিবার। শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। বন্দরখোলার কাজীরসুরা তাহফীজুল কুরআন গোরস্থান মাদরাসার স্থানান্তরের কাজ চলছে। ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে ৮ স্কুল ভবন। নদী ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে ২৬ নং বন্দরখোলার কাজীরসুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৪ নং মাগুরখন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩০ নং পূর্ব খাস বন্দরখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭২ নং নারিকেল বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙ্গনের মুখে পড়ায় বন্দরখোলার নুরুউদ্দিন মাদবরেরকান্দি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের তলা ভবন থেকেও মালামাল সরিয়ে নেয়া শুরু হয়েছে। এছাড়াও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বন্দরখোলার ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন, সুরার হাটের ৮০ দোকান, চরজানাজাতের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য, পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রসহ ৩ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা, হাজারো বসতবাড়ি ফসলী জমি।

চরজানাজাত ইউপি চেয়ারম্যান রায়হান সরকার বলেন, ‘গত বছর পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে আমার এলাকাসহ চরাঞ্চলের ৩ ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙ্গনে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বছরও ভাঙ্গনে এখন পর্যন্ত বহু পরিবার গৃহহীন হয়েছে। পানি বৃদ্ধির গতি বেশি থাকায় যে যেভাবে পারছে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছে।’

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আধুনিকতার ছোঁয়া পাওয়া চরাঞ্চল পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে গ্রাস হয়ে যাচ্ছে। চীফ হুইপ স্যার নূর-ই-আলম চৌধুরীর নির্দেশে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা সার্বক্ষনিক নজর রাখছি। ত্রাণ তৎপরতা শীঘ্রই শুরু করা হবে। শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি।’