২১ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সব বিচারে ভাল ফল

বৃক্ষের পরিচয় ফলে। শিক্ষার্থীর শিক্ষার্জনের সাফল্যের পরিচয়ও ফুটে ওঠে ফলে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে বুধবার। পরীক্ষায় কৃতকার্য সব শিক্ষার্থীকে আমাদের অভিনন্দন। নতুন পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়নের ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে পরীক্ষার ফলে। পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই বেড়েছে। যথাযথভাবে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা হচ্ছে এখন। এজন্য খাতা মূল্যায়নকারীরা সঠিকভাবে কাজ করেছেন কিনা সেটিও মনিটরিং করা হয়। এছাড়া নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বেশ কঠোরতার সঙ্গেই সম্পূর্ণ পরীক্ষা গ্রহণ পদ্ধতিটি অনুসৃত হয়। ফলস্বরূপ তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে ফলে। তবে এটাও অনুধাবন করা প্রয়োজন যে, সব সময়েই সচেষ্ট থাকতে হবে শ্রেণীকক্ষে যথাযথ পাঠদানের বিষয়ে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের নিবিড় তত্ত্বাবধান সম্ভব হলে পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের সংখ্যা যে কমে আসবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই।

২০০৩ সালে গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর পর প্রায় প্রতিবছরই পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ব্যতিক্রম শুধু বিগত দুটি বছর। গত বছর কৃতকার্যের সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এবার অবশ্য পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই বেড়েছে। গত বছরের চেয়ে ৭.২৯ শতাংশ পাসের হার বেড়ে যাওয়াকে আমরা উল্লেখযোগ্য উন্নতিই বলব। এবারও ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে মেয়েরা। গড় পাসের হার ৭৩.৯৩ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ২৮৬ জন। এবারের ফল গতবারের তুলনায় যথেষ্ট ভাল হওয়ার পেছনে মূলত কাজ করেছে শিক্ষার্থীদের ইংরেজীভীতি কাটিয়ে ওঠা। এছাড়া আইসিটির ফলও সার্বিক ফলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহ তৈরি এবং ফল ভাল করা- দুটোই ইতিবাচক। রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের শতভাগ পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। এর পরেই রয়েছে ভিকারুননিসা।

এইচএসসি পরীক্ষা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জীবনের বড় ধরনের একটি বাঁক পরিবর্তনের সময়। এ পরীক্ষার ফলাফলের ওপর একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা গ্রহণের বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করে। কাজেই ভাল ফলের জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকম-লীসহ সংশ্লিষ্ট সবার যত্নবান ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে অনুত্তীর্ণদের সংখ্যা শূন্যের কাছাকাছি আনার চ্যালেঞ্জও গ্রহণ করা দরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উচ্চ মাধ্যমিকের ফল নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই ফল যথেষ্ট ভাল ও গ্রহণযোগ্য। বলা প্রয়োজন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করা, যারা একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে। শিক্ষার উন্নত গুণগত মান সে কারণে জরুরী। শিক্ষার মান বাড়ানোর কথা আমরা বার বার বলে আসছি। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার মানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সে লক্ষ্যে প্রয়োজন মানসম্মত শ্রেণীকক্ষ, যা নির্ভর করে মানসম্পন্ন শিক্ষকের ওপর। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিত করা দরকার। ভুলে গেলে চলবে না, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত। দেশের সেই ভবিষ্যত নাগরিকদের গড়ে তোলার দায়িত্ব যাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে, তাদের মান হতে হবে প্রশ্নাতীত। পরীক্ষার ফলের সঙ্গে শিক্ষার মানের বিষয়টি সম্পর্কযুক্ত। শিক্ষার মানের উন্নতি হলে পরীক্ষার ফলেরও উন্নতি হবে- এটা সাধারণ হিসাব। কিন্তু রাতারাতি শিক্ষার মান বাড়ানো অসম্ভব। এর জন্য সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যাবশ্যক।