১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাউফলে ১০ টাকার রেভিনিউ স্ট্যাম্প ২ হাজার ২শ’ টাকা!

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল, ১৮ জুলাই ॥ দশ টাকার রেভিনিউ স্ট্যাম্প কেনার নামে অধীনস্থ আনসার কোম্পানি কমান্ডার, আনসার প্লাটুন কমান্ডার, ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডার, ইউনিয়ন সহকারী আনসার প্লাটুন কমান্ডারদের মাসিক সম্মানী ভাতা থেকে মাথাপিছু ২ হাজার ২শ’ টাকা করে উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা ইসমেত আরার বিরুদ্ধে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আনসার সদস্যদের মাসিক সম্মানী ভাতা, পূজা ও নির্বাচনী ডিউটির টাকা থেকে উৎকোচ নিলেও ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি কেউ। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন কয়েকজন সাংবাদিক ছদ্মবেশে উপজেলা পরিষদ এলাকায় আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা ইসমেত আরার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করে দেখতে পান, ইসমেত আরা একের পর এক ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডারকে ডেকে মাস্টার রোলে স্বাক্ষর নিয়ে তাদের প্রাপ্ত মাসিক সম্মানি ভাতা থেকে উৎকোচ রেখে দিচ্ছেন। এ সময়ে ছদ্মবেশী সাংবাদিকরা তার কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে পরিচয় দিয়ে উপস্থিত ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডার ও ইউনিয়ন সহকারী আনসার প্লাটুন কমান্ডারদের কাছে তাদের প্রাপ্য সম্মানী ভাতার পরিমাণ জানতে চান। নাজিরপুর ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডার মোঃ ওবায়দুল ইসালাম জানান, তাঁর প্রাপ্য সম্মানীর টাকা হচ্ছে ৭ হাজার ২শ’ টাকা। কিন্তু তাঁকে দেয়া হয়েছে ৫ হাজার টাকা। একই কথা জানান, দাশপাড়া ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডার গোপাল কৃষ্ণ সাহা এবং বগা ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডার আমিনুল ইসলাম।

তখন আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা ইসমেত আরাকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, অফিসিয়াল কিছু খরচপাতি আছে এ জন্য ওই টাকা রাখা হয়েছে। কিসের খরচ জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেভিনিউ স্ট্যাম্পের খরচ এরপর কল্যাণ তহবিল। রেভিনিউ স্ট্যাম্পের দাম কত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১০ টাকা’। কল্যাণ তহবিলে কত জমা হয় জানতে চাইলে বলেন, ‘কল্যাণ তহবিলে ৫ টাকা জমা হয়’। তাহলে বাকি ২ হাজার ১শ ৮৫ টাকা কোথায় যায়? এই প্রশ্নের কোন সদোত্তর দেননি তিনি। অক্টোবর ২০১৮ থেকে মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত মোট ৬ মাসের সম্মানী ভাতা প্রদানের মাস্টার রোলে দেখা গেছে, প্রত্যেক উপজেলা আনসার কোম্পানি কমান্ডারে জন্য বরাদ্দকৃত সম্মানী ভাতার পরিমাণ লেখা রয়েছে ৯ হাজার টাকা।

টেকনাফে কমেছে ইয়াবা , অধরা উখিয়ার ১৫ গডফাদার

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ জমা দিয়ে গায়েব করে ফেলা এবং পুলিশের কাছ থেকে দশ লাখ ইয়াবা ক্রেতা জয়নাল মেম্বারের ব্যবসা দেখভাল করছে তার পার্টনার আনোয়ারসহ চারজন ইয়াবা সম্রাট। কতিপয় অসৎ পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন চুক্তিতে থাকা জয়নাল এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। তবে উখিয়ার ওসি অন্যত্র বদলি হওয়ায় এবার হয়ত থাইংখালীর জয়নাল, আনোয়ার, লাদেন, সোহেল ও আকতারকে আইনের আওতায় আনতে পারে পুলিশ।

জানা গেছে, যুবদল নেতা জয়নাল নিজেকে রক্ষার জন্য পুলিশের সোর্স হয়ে কাজ শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যে উখিয়া থানা পুলিশের আস্থাভাজন হয়ে উঠে জয়নাল। হঠাৎ বদলে যাওয়া জয়নাল মেম্বার পুলিশের কাছে থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে তা রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিয়ে কামাই করেছে লাখ লাখ টাকা। পরে অঢেল টাকা খরচ করে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়। তারপর রহমতেরবিল সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা কলিমুল্লাহ ওরফে লাদেন, আকতার ও ইউনুছ ওরফে সোহেলকে দিয়ে গঠন করে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ইয়াবা সিন্ডিকেটের পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত রেখে লেনদেনের দায়িত্ব দেয়া হয় থাইংখালীর আনোয়ারকে। উখিয়া থানা পুলিশ জয়নালকে আটক না করায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। টানা ১০ বছর ধরে এক যুবদল নেতা ওপেন সিক্রেট ইয়াবা কারবার করে আসলেও উখিয়া থানা পুলিশ কোন এক অজ্ঞাত কারণে তাকে আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে। সম্প্রতি গুরা মিয়া নামে এক গডফাদারকে আটক করলেও চারদিন পর মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে মাত্র সাড়ে তিন’শ পিস ইয়াবা দিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে উখিয়া থানা পুলিশ। বিদায়ী ওসির এসব রহস্যঘেরা কা- দেখলেও প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি স্থানীয়রা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরা জয়নাল মেম্বারসহ ১৫ গডফাদার ও তাদের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে না পারার বিষয়টি এখন লোকমুখে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, পালংখালী ইউপি সদস্য আলোচিত মেম্বার ইয়াবা গডফাদার জয়নাল আবেদিন পুলিশের সঙ্গে মাসিক চুক্তি করে চালিয়ে গেছে ইয়াবা কারবার। বিভিন্ন সময় তাকে ধরতে উখিয়া থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানানো হলেও উখিয়া থানার কিছু অসৎ পুলিশের কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান তিনি। যুবদল নেতা জয়নাল গেলবারের নির্বাচনে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে পালংখালী ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েই তার ইয়াবা জগতের প্রসার ঘটে। বর্তমানে তার সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে। সে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে এলেও রাতে আত্মগোপনে চলে যায়। তার অবর্তমানে জয়নাল মেম্বারের যাবতীয় কারবার চালাচ্ছে লাদেন, সোহেল ও আকতার। ইয়াবার চালানের নগদ টাকা বুঝে নিচ্ছে তার বিশ্বস্ত সহচর আনোয়ার। তবে উখিয়া থানায় নতুন ওসি যোগদান করায় কিছুটা আতঙ্কে রয়েছে থাইংখালী ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার জয়নাল।

সূত্র জানায়, ইতিপূর্বে এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ পুলিশ ১০ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করে মাত্র ১০ হাজারটি জব্দ দেখিয়ে নয় লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা বিক্রি করিয়েছিল জয়নাল মেম্বারের মাধ্যমে। ঘটনা জানাজানি হলে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয় ওসব পুলিশের বিরুদ্ধে। সরকারের পক্ষ থেকে ইয়াবার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর থেকে ৮০ মাদক কারবারি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। আত্মসমর্পণ করেছে ১০২ ইয়াবা কারবারি। কিন্তু এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে আলোচিত দশ লাখ ইয়াবা ক্রেতা জয়নাল মেম্বার। অপরদিকে টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর তৎপরতায় ইয়াবা কারবার কমে গেছে। মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান আসা রোধ করে দিয়েছে টেকনাফ থানা পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, জয়নাল তার ইয়াবা কারবারের নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ সরকার সমর্থিত লোকজনকে তার কাছে নিয়ে আসেন। স্থানীয় প্রতিবাদী মহল ও পুলিশকে জয়নাল মাসে মাসে বিপুল অঙ্কের টাকা দিয়ে তার কারবারকে অধরা করে রাখে।

উখিয়া থানার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ওসি মোঃ আবুল খায়ের সাংবাদিকদের বলেছেন, ইয়াবা ডন জয়নাল মেম্বারকে ধরার জন্য পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে গত তিন বছরেও (৩৫ মাস) তিনি জয়নালকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে রহমতেরবিল সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত মিয়ানমার থেকে আসছে ইয়াবার চালান। তবে উখিয়া থানা পুলিশের রহস্যজনক কারণে উখিয়া সদর, বালুখালী, থাইংখালী রহমতেরবিলসহ উখিয়ার গডফাদাররা এ পর্যন্তও অধরা রয়ে গেছে।