২৪ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেয়ারবাজারে ৫১ ভাগ কোম্পানির প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১৬২ কোম্পানি গত জুন মাসে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার বৃদ্ধির তথ্য দিয়েছে। অর্থাৎ ডিএসইতে মোট ৫১ ভাগ কোম্পানির প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে। এর মধ্যে মোট শেয়ার বিবেচনায় সর্বাধিক ৭ শতাংশ শেয়ার বৃদ্ধি হয়েছে আনলিমা ইয়ার্নে। অন্যদিকে ১০৩ কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার কমার তথ্য দিয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক পৌনে ১০ শতাংশ কমেছে নিউ লাইন ক্লোথিংস থেকে।

জুন শেষে তালিকাভুক্ত ৩১৭ কোম্পানির মধ্যে ৩০৭টি বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার ধারণের যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তা পর্যালোচনায় এমন চিত্র মিলেছে। বুধবার পর্যন্ত ১০ কোম্পানি জুনের শেয়ার ধারণের তথ্য প্রকাশ করেনি।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জুন শেষে ৩১২ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ছিল। কোম্পানিগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার মোটের ১৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ধারণ করা সব শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৪৯ হাজার ২৩ কোটি টাকা, যা কোম্পানিগুলোর মোট বাজার মূলধনের ১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ।

বেড়েছে ॥ গত মে মাসের শেষে আনলিমা ইয়ার্নে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ছিল মোটের ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে তা ১১ দশমিক ০৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার বেড়েছে ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার বৃদ্ধির প্রভাব কোম্পানিটির শেয়ারদরেও দেখা গেছে। গত জুনে শেয়ারটির দর প্রায় ২২ শতাংশ বেড়ে ৪১ টাকায় উঠেছিল।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকা সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ১৬ দশমিক ০৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২২ দশমিক ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বেড়েছে প্রায় পৌনে ৭ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা কাট্টলী টেক্সটাইলে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার মোটের সোয়া ৬ শতাংশ বেড়ে ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ থেকে ১৬ দশমিক ০৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। জুনে শেয়ারটির দর সাড়ে ১২ শতাংশ বেড়েছিল।

পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, এইচআর টেক্সটাইলে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার বেড়েছে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ। একইভাবে প্রিমিয়ার ইনস্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশনস এবং জেনেক্স ইনফোসিসে ৩ থেকে পৌনে ৪ শতাংশ বেড়েছে।

তবে টাকার অঙ্কে গত জুনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সর্বাধিক বেড়েছে ইসলামী ব্যাংকে। ব্যাংকটিতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার এক কোটি ২৭ লাখ ৫৭ হাজার বেড়েছে, যা মোটের শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ। এই শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩২ কোটি টাকা। আরও যেসব কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়েছে সেগুলোর উল্লেখযোগ্য হলো- ন্যাশনাল ব্যাংক (২ কোটি ৬৯ লাখ শেয়ার), বেক্সিমকো ফার্মা (৩০ লাখ শেয়ার), বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস (১৫ লাখ ৩৩ হাজার শেয়ার), এনসিসি ব্যাংক (১ কোটি ২৬ লাখ শেয়ার)।

কমেছে ॥ গত মে মাসের শেষে নিউ লাইন ক্লোথিংসে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ছিল মোটের ২৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা জুন শেষে পৌনে ১০ শতাংশ কমে ১৭ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমেছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কমার পরও শেয়ারটির দর গত মাসে ৪ শতাংশ বেড়েছিল।

এ ছাড়া লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার মে’র শেষে ছিল ১৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জুনের শেষে তা অর্ধেকেরও বেশি কমে পৌনে ৮ শতাংশে নেমেছে। প্যারামাউন্ট ইনস্যুরেন্সের ১৫ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশের নিচে নেমেছে। জেএমআই সিরিঞ্জেসে পৌনে ১৪ শতাংশ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশের নিচে নেমেছে। সংশ্নিষ্ট কোম্পানির প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার ৫ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ কমেছে শমরিতা, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার ও উত্তরা ব্যাংকের।

অন্যদিকে টাকার অঙ্কে সর্বাধিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ প্রত্যাহার হয়েছে গ্রামীণফোন থেকে। মে’র তুলনায় জুনে কোম্পানিটি থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার সোয়া ২০ লাখ টাকা কমেছে, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৭২ কোটি টাকা।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া