১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঝাঁকে উড়তে পাখি বেশি ডানা ঝাপটায়

ঘরে ফেরার পথে কবুতর একাকী ওড়ার সময় যতবার ডানা ঝাপটায় তার তুলনায় জোড়ায় জোড়ায় ওড়ার সময় প্রতি সেকেন্ডে একবার বেশি ডানা ঝাপটায়। এক নতুন গবেষণায় এই তথ্যটি জানা গেছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের ড. লুসি টেলর পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে হাঁসের মতো যেসব পাখি ইংরেজী ‘ভি’ ফরমেশনে ওড়ে তারা বায়ুবিদ্যাগতভাবে সন্তোষজনক পজিশনে ওড়ার মধ্য দিয়ে এনার্জি সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়। পক্ষান্তরে ঘরে পালা কবুতরের মতো যেসব প্রজাতির পাখি ‘ভি’ ফরমেশনে ওড়ে না তাদের ক্ষেত্রে দল বেঁধে ওড়ার সুবিধা-অসুবিধা কতটুকু তা তেমন বোঝা যায়নি।

গবেষণায় দেখা গেছে। একাকী ওড়ার তুলনায় আরেকটা পাখির সঙ্গে একত্রে ওড়ার জন্য অধিকতর এনার্জির প্রয়োজন হয়। এই গবেষণার ফলাফল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। এনার্জিই হলো জীবনের মূল শক্তি। তাই এটা বিস্ময়কর যে পাখিরা একত্রে ওড়ার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এনার্জি ব্যয় করতে প্রস্তুত।

ড. লুসি টেলরের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষক দল একাকী ওড়ার তুলনায় জোড়ায় জোড়ায় ওড়ার জন্য কবুতররা কিভাবে তাদের ডানা ঝাপটানোর ধারা বদলায় তা দেখতে ও পরিমাপ করতে হাই ফ্রিকোয়েন্সি জিপিএস ও একসিলরোমিটার বায়োলগার ব্যবহার করেছে একসিলরোমিটার অনেকটা ফিটনেস ট্র্যাকারের মতো কাজ করে। তবে পদক্ষেপ পরিমাপের বদলে গবেষকরা এখানে ডানা ঝাপটানোর ব্যাপারটি পরিমাপ করেছেন। ডানা ঝাপটানোর ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি ইউসেইন বোল্টের নিজস্ব প্রচলিত গতিতে ১শ’ মিটার স্প্রিন্ট দৌড়ানোর সমান সেখানে তিনি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় একটা বাড়তি ধাপ ফেলেন। ড. টেলর বলেন, কবুতররা জোড়ায় জোড়ায় ওড়ার সময় দ্রুততর গতিতে ডানা ঝাপটায়। তবে তারা যে দ্রুততর গতিতে এগিয়ে যায় তা কিন্তু নয়।

ড. টেলর বলেন, ডানা ঝাপটানোর ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধির ব্যাপারটা সম্ভবত ওড়ার কাজের সমন্বয় সাধনের চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কিত। টেলর উল্লেখ করেন, ‘কল্পনা করুন ওড়ার কাজে সমন্বয় সাধন এবং ঘণ্টায় প্রায় ৪৪ মাইল গতিতে উড়ে চলা অপর কোন ক্ষুদে বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা লাগা এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। গতিটা একজন অলিম্পিক স্প্রিন্টারের গতির প্রায় দ্বিগুণ এবং পাখিরা ওড়ার সময় উপর নিচ এবং ডান-বাম করতে পারে। একটা কবুতরের বেলায় অপেক্ষাকৃত দ্রুত ডানা ঝাপটালে শরীরে প্রতিক্রিয়া হবে দ্রুততর, এতে চলাচলের ওপর অধিকতর নিয়ন্ত্রণ থাকবে। মাথাটাও থাকবে সুস্মিত যার ফলে অন্য কবুতরটি কোথায় আছে তার হদিস পাওয়া তার জন্য সহজতর হবে।

প্রতি সেকেন্ডে বাড়তি একবার ডানা ঝাপটালে পাখিদের এনার্জি বাড়তি খরচ হয়। তা সত্ত্বেও পাখিরা একত্রে ওড়াই পছন্দ করে। তা থেকে বোঝা যায় তারা দল বেঁধে উড়বার অন্য যেসব সুবিধা আছে সেগুলো পেতে সমর্থ হয়। যেসব পাখি জোড়ায় জোড়ায় ওড়ে সেগুলো একই সঙ্গে তাদের ঘরে ফেরার নির্ভুল কৌশলটার আরও উন্নতি ঘটাতে পারে। তার মানে তারা ঘরে ফেরার হ্রস্বতর পথটা বেছে নিয়ে নিজেদের এনার্জি বাঁচিয়ে রাখতে পারে। গবেষণা থেকে এই তথ্যটি বেরিয়ে এসেছে যে দল বেঁধে উড়লে বাড়তি ডানা ঝাপটানোর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এনার্জি খরচ হয় বটে তবে দল বেঁধে ওড়ার সার্বিক সুবিধাগুলো সেই ক্ষতিটাকে ছাপিয়ে যায়।

সূত্র : সায়েন্স ডেইলি