১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশেষ ফোর্সের প্রয়োজন নেই, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর থাকার নির্দেশ

  • ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনে মতবিনিময়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) জন্য বিশেষ ফোর্সের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ডিসিদের সঙ্গে পরামর্শ করে একযোগে কাজ করে থাকে। সরকারী কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ ডিসিদের বলেছেন, ‘পেনাল কোড’ (সিআরপিসি) অনুযায়ী, সরল বিশ্বাসে সরকারী কর্মকর্তাদের কৃতকর্ম কোন অপরাধ নয়। তবে শর্ত আছে, প্রমাণ করতে হবে যে, কাজটা সরল বিশ্বাসেই করা হয়েছে। সরকারী কর্মকর্তাদের সরল বিশ্বাসে কৃতকর্ম কোন অপরাধ নয়। জেলা প্রশাসকদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য একটি ব্যাংক করার প্রস্তাবও এসেছে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে। তিনি বলেন, তাদের জন্য একটি ব্যাংক করতে পারি কিনা এমন একটা প্রস্তাব তারা করেছেন। সেটা আমরা বিবেচনা করব বলে আমরা তাদের জানিয়েছি। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনের পঞ্চম ও শেষ দিনের পৃথক কার্য অধিবেশনে ডিসিদের মতিবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। নির্বাচনী ওয়াদা বাস্তবায়নের তাগিদ ॥ ডিসিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, ডিসি সম্মেলন প্রতিবছরই হয়। তারা দায়িত্ব পালন করতে গেলে জেলায় কি কি সমস্যা হয় তা প্রধানমন্ত্রীকে জানান। বৈঠকে স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য ডিসিদের বলা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আমার গ্রাম আমার শহর আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা। এটি বাস্তবায়নের জন্য ডিসিদের বলেছি। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলেছি। সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ চরমপন্থীদের আবির্ভাব যেন না হয়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বলেছি। মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে বলেছি।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় নিরাপত্তার স্বার্থে একটি বিশেষায়িত পুলিশ ফোর্স নিয়োগসহ ১৬টি প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা। সম্মেলন সামনে রেখে এবার ডিসিরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ৩৩৩টি প্রস্তাব দেন। এসব প্রস্তাব নিয়ে ডিসি সম্মেলনে আলোচনা করা হয়।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর থাকার নির্দেশ ॥ জেলা প্রশাসকদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে ডিসি সম্মেলনের পঞ্চম দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

জেলা-উপজেলা অফিসগুলোতে ভোগান্তির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেখানে অনিয়ম আছে তা শনাক্ত করা প্রয়োজন। আমরা জানি কিছু কিছু জায়গা আছে। যেমন আমরা বলেছি, এসি ল্যান্ড অফিসে ভূমির নাম খারিজের জন্য বিষয়গুলো আরও দ্রুততার সঙ্গে কিভাবে করতে পারি এবং সেখানে ডিজিটালাইজেশন আরও দ্রুত কিভাবে করতে পারি সে বিষয়ে উদ্যোগ নেবে এবং আমাদের বলবে। কোন কর্মকর্তা দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে ডিসিরা তাদের ডেকে বলে সংশোধনের চেষ্টা করবে, সেটা না হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা আছে।

সরকারী অফিসগুলোকে ডিজিটালাইজেশনের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ই-ফাইলিংসহ সব ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের আরও ডিজিটালাইজেশন করতে হবে। কমকর্তাদের সেজন্য ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলা শহরের হাসপাতালগুলো দালালমুক্ত, অনিয়ম, দুর্নীতিমুক্ত করার বিষয় ডিসিরা দেখবেন। পাসপোর্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে ভোগান্তি সেদিকে তারা নজরদারি বাড়াবেন। আমরা চেয়েছি ডিসিরা যেন আরও জনমুখী হয়ে মানুষের সেবায় ব্যাপক অবদান রাখতে পারে।

ডিসিদের প্রতি কি কি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার আমরা দুর্নীতিমুক্ত, জনমুখী ও জনকল্যাণমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তুলব। মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে জনগণের কাছে কিন্তু নিয়ে গেছি। ডিসি অফিস আরও সুন্দরভাবে সাজিয়েছি। এ ছাড়া সার্কিট হাউজসহ সব লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে।

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের জন্য একটি ব্যাংক করার প্রস্তাবও এসেছে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের জন্য একটি ব্যাংক করতে পারি কিনা সেটা একটা প্রস্তাব তারা করেছেন। সেটা আমরা বিবেচনা করব বলে আমরা তাদের জানিয়েছি।

সব সরকারী দফতর এরকম ব্যাংক চাইলে তার ফল কি হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনপ্রশাসনে পাঁচ হাজার কর্মকর্তা আছেন। যারা সাবেক, তারাও এখানে সংযুক্ত হতে পারেন। যদি দেশের জন্য কল্যাণকর হয়, তাহলে অবশ্যই বিবেচনা করা যায়। আর যদি কল্যাণকর না হয়, সেটা বিবেচনার দায়িত্ব সরকারের।

এদিন জনপ্রশাসন সম্পর্কিত অধিবেশনে জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে মোট ২৬টি প্রস্তাব দেয়া হয়, যার মধ্যে একটিতে ডিসিদের গাড়ির তেল খরচের বেঁধে দেয়া সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তেলের সিলিংটা একেক জায়গায় একেক রকম। সেই বিষয়টি আমরা স্পষ্ট করেছি, যথেষ্ট দেয়া হচ্ছে, পর্যাপ্ত দেয়া হচ্ছে। ফরহাদ হোসেন বলেন, জনপ্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি। প্রতিবছর জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বেশ ভাল ভাল পরামর্শ আসে। কিভাবে আমরা জেলা প্রশাসনকে আরও সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করতে পারি, জনগণের সেবায় জেলা প্রশাসনকে আরও কিভাবে সম্পৃক্ত করতে পারি। সে বিষয়গুলো এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আলোচনা হয়।

সম্মেলনে সরকারের তরফ থেকে জেলা প্রশাসকদের প্রতি কিছু নির্দেশনাও দেয়া হয় জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে নির্বাচনী ইশতেহার- দুর্নীতিমুক্ত জনপ্রশাসন গড়ে তুলব, জনমুখী, জনকল্যাণমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তুলব। গত ১০ বছরে অনেক কাজ করা হয়েছে। এ সরকার জনপ্রশাসনকে মাঠ পর্যায়ের জনগণের খুব কাছাকাছি নিয়ে গেছে।

সেবার ধরন পরিবর্তন করে কিভাবে জনগণের আরও কাছাকাছি যাওয়ায় যায় সে বিষয়েও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

সরকারী কর্মকর্তাদের সরল বিশ^াসের কৃতকর্ম অপরাধ নয় ॥ জনপ্রশাসন বিষয়ে ডিসিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেছেন, সরল বিশ্বাসে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি ভুল করে তাহলে সেটা অপরাধ হবে না। আপনারা জানেন যে, দুদকের সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ। দমনটা অনেক পরে আসে। আমাদের উদ্দেশ্য মামলা করা নয়, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। এ কারণে দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য আমাদের যেসব প্রোগ্রাম রয়েছে তা বাস্তবায়ন করার জন্য জেলা প্রশাসকদের বলেছি।

টেকসই উন্নয়নের জন্য দুর্নীতি মুক্ত সমাজ দরকার জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এজন্য প্রাইমারী ও হাইস্কুলে মানসম্মত শিক্ষা, মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা যাতে হয় সে ব্যাপারে নজর রাখতে বলা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, স্বাভাবিকভাবে প্রতিটির ক্ষেত্রে ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। আমরা সেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।