১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সামাজিক অবক্ষয় রোধে সংস্কৃতি রক্ষাকবচ

  • শিল্পকলা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সামাজিক অবক্ষয় ও মৌলবাদ প্রতিরোধে সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, সামাজিক অবক্ষয় রোধে সংস্কৃতি হচ্ছে রক্ষাকবচ। সমাজ থেকে জঙ্গীবাদ, মৌলবাদ ও হিংসা-বিদ্বেষ দূর করতে সংস্কৃতির বিকাশ খুবই জরুরী। গ্রাম থেকে শহর, নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত প্রতিটি স্তরে সংস্কৃতির চর্চা যত বেশি হবে, সমাজও ততবেশি আলোকিত হবে। আলোকিত সমাজই পারে মানবিক সমাজ গড়তে, একটি দেশ ও জাতির কাক্সিক্ষত সমৃদ্ধি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে। শিল্পকলা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাত গুণী শিল্পীকে শিল্পকলা পদক প্রদান করা হয় বৃহস্পতিবার। পদকপ্রাপ্ত শিল্পীরা হলেন- চারুকলায় অলকেশ ঘোষ, নাট্যকলায় ম. হামিদ, কণ্ঠসঙ্গীতে গৌর গোপাল হালদার, যন্ত্রসঙ্গীতে সুনীল চন্দ্র দাস, লোকসংস্কৃতিতে মিনা বড়ুয়া, নৃত্যকলায় শুক্লা সরকার ও আবৃত্তিতে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। পদকপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা সম্মানীর সঙ্গে স্বর্ণপদক ও সনদপত্র প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। বৃহস্পতিবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অপসংস্কৃতি বর্জনের আহ্বান জানিয়ে মোঃ আবদুল হামিদ বলেন, আকাশ সংস্কৃতির বদৌলতে প্রতিনিয়ত আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ভিনদেশী সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটছে। তাই বিদেশী বা আকর্ষণীয় হলেই সবকিছু লুফে নেয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যতটুকু সামঞ্জস্য ততটুকুই গ্রহণ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয়, বিজাতীয় ও অপসংস্কৃতির সবকিছু বর্জন করতে হবে।

মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ গড়তে সন্তানদের সংস্কৃতিচর্চায় উৎসাহিত করার পরামর্শ দিয়ে অভিভাবকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংস্কৃতি হচ্ছে জীবনের দর্পণ। সংস্কৃতি নিয়ে কেউ জন্মায় না। প্রতিনিয়ত চর্চার মাধ্যমে সংস্কৃতি অর্জন করতে হয়। একজন সংস্কৃতিবান কখনও সমাজের ক্ষতি করতে পারে না। তাই সমাজ থেকে পঙ্কিলতা দূর করতে সংস্কৃতিকে হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। সুস্থ সংস্কৃতির লালন ও বিকাশে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা আপনাদের সন্তানদের লেখাপড়ার পাশাপাশি সংস্কৃতিচর্চায় উৎসাহিত করুন। কারণ সুকুমারবৃত্তির চর্চাই মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে বিকশিত করার স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য যে, বঙ্গবন্ধু তাঁর সেই স্বপ্নের একাডেমির বিশাল কর্মকা- দেখে যেতে পারেননি। শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকদের হাতে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ বঙ্গবন্ধু নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে নিহত হন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আজ শাখায় পত্র পল্লবে সুশোভিত। ঢাকায় একাডেমি চত্বরে জাতীয় নাট্যশালা, জাতীয় চিত্রশালা, জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র, নন্দনমঞ্চসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রতিদিন চলছে শিল্পযজ্ঞ। শিল্পকলা একাডেমি এখন সম্প্রসারিত হয়েছে জেলা থেকে উপজেলায়। বেড়েছে কাজের পরিধি। সাম্প্রতিককালে শিল্পকলা একাডেমি ৭৬টি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক নির্মাণ, বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্প ও পুতুলনাট্য, বটতলাকেন্দ্রিক বাউল গানের আসর, শতবর্ষী নাট্যমঞ্চে নাট্যোৎসব আয়োজনসহ শিল্প ও সংস্কৃতিকে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দিয়ে সৃজনশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে চলেছে। সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাটকের ক্ষেত্রে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান ও উৎসব আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি সংস্কৃতিপিপাসু মানুষকে করছে উজ্জীবিত এবং অনুপ্রাণিত। দ্বি-বার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনেও একাডেমির ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার। পাশাপাশি জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সামনে রেখে একাডেমি শিল্পের আলোয় ভাষা আন্দোলন, শিল্পের আলোয় মহান মুক্তিযুদ্ধ, শিল্পের আলোয় বঙ্গবন্ধু শীর্ষক ব্যাপক শিল্পযজ্ঞ পরিচালনা করেছে যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।