২২ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উবাচ

অক্টোবরে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা বড় শহর। বেশি মানুষ। তাই এই শহর একটি সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে সামাল দেয়া কঠিন। এই যুক্তিতে ঢাকায় দুই সিটি কর্পোরেশন। ভাল কথা, তাহলে মানুষের তো আরও বেশি সেবা পাওয়ার কথা। কিন্তু তা কি কেউ সত্যিই পাচ্ছেন? ধরা যাক মশার কথাই। কি করছে সিটি কর্পোরেশন? দায়িত্বশীলরা বলছেন, মশার ওষুধে নাকি কাজই হচ্ছে না। এই ওষুধে মশা মরছে না। আবার কেউ কেউ বলছেন, ৫০ কোটি টাকা খরচ করলাম তাও কাজ হচ্ছে না। এখন কি করতে হবে? নতুন ওষুধ কিনতে হবে। কিন্তু সেটা কবে। এখন শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। ডেঙ্গু সাধারণত জুন-জুলাই মাসে বেশি হয়। তাহলে এখনই তো যা করার করতে হবে। কিন্তু ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম অনেক ধৈর্যশীল। তিনি বলেছেন, আগামী অক্টোবরে মশার নতুন ওষুধ কিনবেন। এখন মশার কামড়ে মানুষ মারা যাক। এরপর আপনি অক্টোবরে মশা মারেন! উত্তরের মানুষকে মানুষ মফিজ বলে। এটা কোন গালি নয়। তাদের অতি সরলতার জন্যই এটা বলে থাকে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যেহেতু উত্তর শব্দটি জড়িয়ে রয়েছে, তাহলে উনাকেও কি এখন থেকে মফিজই ভাবতে হবে। আতিকুল ইসলাম বলেছেন আমরা আটজনকে নিয়ে একটা বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছি। কোন্ ওষুধ আনব তা বিশেষজ্ঞ টিম বলে দেবে। বাবারে বাবা! এ তো মশা মারতে কামান দাগার অবস্থা। তিনি বলেছেন, এখন যে ওষুধ আছে তাতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। অক্টোবর থেকে আমরা নতুন ওষুধ প্রয়োগ করতে চাই। এই ওষুধে যদি কাজই না হয় তাহলে অক্টোবর পর্যন্ত আপনি কেন অপেক্ষা করবেন?

নিয়ন্ত্রণে আছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এক সময় কলেরায় গ্রামের পর গ্রামের মানুষ মারা যেত। সেই চিত্র যারা সচক্ষে দেখেছেন তারা এখনও অনেকে জীবিত রয়েছেন। তারা বলেন, গ্রামে কলেরা এলে বেশিরভাগ মানুষ মারা যেতেন। কেউ কেউ সেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে বাঁচার চেষ্টা করতেন। এমনও দেখা যেতÑ কোন পরিবারের একজনকে কবরে রেখে এসে দেখা গেছে আরেকজন মরে পড়ে রয়েছে। কোন গ্রামে কলেরা আসার কয়েকদিন পরে রাতে ওই গ্রামের মধ্য দিয়ে হঁাঁটলে বেশিরভাগ বাড়িতে কোন আলো দেখা যেত না। কারণ, ওসব বাড়ির লোকই মারা গেছেন। সন্ধ্যায় বাতি জ¦ালাবার মতো কেউ একজন আর অবশিষ্ট নেই। সিনেমা, নাটক, উপন্যাসে ঘুরেফিরে এই চিত্র নানাভাবে এসেছে। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। সাধারণত কেউ আর কলেরায় মারা যায় না। মানুষ যখন শিখেছে রোগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল তখন কেন তা মহামারি আকারে দেখা দেবে। ঢাকার দক্ষিন সিটির মেয়র সাঈদ খোকন সম্ভবত এখনও মহামারী বলতে রোগাক্রান্ত হয়ে গ্রামের পর গ্রাম শহরের পর শহরের মানুষের মৃত্যু হবে এমনটি মনে করছেন। না হলে কিসের মহামারী। সময় বদলেছে। যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা নিয়ন্ত্রণ করাই কী ভাল নয়। একটি হাসপাতালে ৪০০ রোগী ভর্তি হলে ৩৫০ জনই ডেঙ্গু আক্রান্ত। সেখানে মেয়র খোকন বলছেন, ডেঙ্গু নাকি উনার নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। নাকি নিজের না হওয়া পর্যন্ত উনি টেরই পাচ্ছেন না তার শহরে ডেঙ্গু এসেছে।

ধৈর্য

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির এক মধ্যম সারির নেতা একবার খুব হাঁকডাক দিয়ে বললেন, বড় নেতারা কেউ ঘরে বসে থাকবেন না। আন্দোলন করতে আসবেন। এরপর ওই নেতাকেই আর কর্মসূচীতে দেখা গেল না। এর অর্থ হচ্ছে ফাঁকা আওয়াজ অনেকেই দেন কিন্তু কাজের বেলায় আর পাওয়া যায় না। বিএনপির সিনিয়র নেতারা দেখতে দেখতে এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। এজন্য আউটডোরের চেয়ে এখন তারা ইনডোর আন্দোলনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কোনমতে প্রেসক্লাবের ভেতরে বা কোন মিলনায়তনে ১০০ লোক জড় করতে পারলেই নানামুখি প্রতিবাদ করা যাচ্ছে। আর এখন এসব লোক তো অনেক সময় ভাড়ায়ও পাওয়া যায়। আর নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করার জন্য তো একজন আছেনই। কিন্তু এসব কিছুতে আর হচ্ছে না জয়নুল আবদিন ফারুকের। এই বিএনপি নেতা দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন, আন্দোলনে নামতে আর কতদিন তাদের ধৈর্য ধরতে হবে। তিনি বলেন, জনগণ বলতে শুরু করেছে, কিছু কর্মসূচী দেন নেতারা। এখনও আন্দোলনে, রাস্তায় নামার সাহস আমাদের সবারই আছে। আমাদের কৌশল নিতে হবে, রাস্তায় নামতে হবে, আন্দোলন করতে হবে। মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। সত্যিই কি বিএনপির সঙ্গে মানুষ আসলেই আছে। সাধারণ মানুষ কি আসলেই মনে করে বিএনপি আবার এলে দেশ উদ্ধার করে ছেড়ে দেবে। নাকি মনে করে আবার একটা হাওয়া ভবন হবে। হয়ত ঠিকানাটা বদলে যাবে। আবার অস্ত্র আসবে। ট্রাকের সংখ্যা ১০ নাও হতে পারে। আরও বেশিও হতে পারে। গ্রেনেড হামলা হবেই হয়ত-তারিখটা ২১ আগস্ট না হয়ে একটু এদিক-সেদিক হবে। এছাড়া নতুন কি করবে বিএনপি!