২১ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিডি পুলিশ হেল্পলাইন

পুলিশের সেবার মান নিশ্চিতকরণ, কার্যক্রমে গতিশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে বিডি পুলিশ হেল্পলাইন। ‘বিডি পুলিশ হেল্পলাইন’- পুলিশ সদর দফতরের একটি এ্যাপ। এই এ্যাপ ব্যবহার করে যে কেউ অভিযোগ ও অপরাধের তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে শুরু করে পুলিশ সদর দফতর পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। অপরাধ দমনেও কাজ করছে এই এ্যাপ। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়ে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন শেখ হাসিনা এবং তার নেতৃত্বাধীন চৌদ্দদলীয় জোট। সরকার দেশকে এনালগ পদ্ধতি হতে ক্রমান্বয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে উন্নীতকরণের কাজ শুরু করে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ সাধনের মাধ্যমে গত দশ বছরে দেশ অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়েছে। ব্যবসাবাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতির বিস্তার ঘটেছে। ইন্টারনেটভিত্তিক কার্যক্রম বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের গতি যেমন বাড়িয়েছে তেমনি জনগণের কাছে পৌঁছে গেছে সুযোগ-সুবিধাও। টানা তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসা শেখ হাসিনার সরকার ‘ই-পুলিশ’ পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে। পুলিশ বিভাগে আধুনিকীকরণের কাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। তারই সবিশেষ অংশ হিসেবে নতুন বছরে নতুন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, পুলিশের আধুনিকায়নে আধুনিক বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মেলাতে এই কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। আর তাতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ই-সেবা সংক্রান্ত ক্ষেত্র কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি যেমন ঘটবে তেমনি সেবার মানও বাড়বে। উপকৃত হবে দেশের জনগণ। ১৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই পদ্ধতি চালুর যে প্রকল্প নেয়া হয়েছে তা আগামী জুন মাসে শুরু হবে। পুলিশের জন্য বর্তমানে বড় ‘চ্যালেঞ্জ’ হচ্ছে সাইবার অপরাধ। তা মোকাবেলায় পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশ, অপরাধের ধরন পর্যালোচনা, সিসিটিভির নজরদারি প্রভৃতি সেবাদানের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত করার কাজটি সুচারুরূপে করা যাবে। একইসঙ্গে ডাটা সংরক্ষণে অধিকতর দক্ষতা বাড়বে এবং তা নিরাপত্তার সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে।

তবে বিডি পুলিশ হেল্পলাইন নামের এ্যাপটির যাত্রার মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে জনসাধারণের যোগাযোগ স্থাপনের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে, এটি অনস্বীকার্য। এর মাধ্যমে পুলিশের কাজে গতিশীলতা এসেছে। অপরাধ দমনের পাশাপাশি নিশ্চিত হচ্ছে সরাসরি জবাবদিহিতা।

রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছিলেন, আপনাদের দ্বারা যেন কোন নিরীহ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার না হন। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্যই পুলিশ বাহিনী। সেই প্রেক্ষাপটে দেশের পুলিশ বাহিনীকে সর্বদাই আইনের রক্ষকের ভূমিকায় জনবান্ধব হিসেবে অবতীর্ণ হতে হবে। জনসাধারণের সমস্যাকে দেখতে হবে আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময়ে পুলিশকে মানুষের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে গুরুত্ব দিতে হবে সর্বাধিক। উল্লেখ্য, জনবান্ধব পুলিশের বিষয়টি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত।

অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাংলাদেশের পুলিশ অনেকাংশেই জনবান্ধব ও হিতকারী, অন্তত পাকিস্তানী এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের চেয়ে তো বটেই। তাদের সীমিত জনবল, আধুনিক পর্যাপ্ত যানবাহন ও অস্ত্রশস্ত্রের অভাব, তথ্যপ্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধার স্বল্পতা, মাত্রাতিরিক্ত খাটুনি ইত্যাদি অস্বীকার করা যায় না। ইদানীং রাজধানী ও অন্যত্র খুন-ধর্ষণ-সড়ক দুর্ঘটনা অনেক বেড়েছে, তাও সত্য। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীকে আরও তৎপর ও নজরদারি বাড়াতে হবে। সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েছে বহুলাংশে। পুলিশের এক্ষেত্রে সবিশেষ করণীয় রয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা বিডি পুলিশ হেল্পলাইনের মধ্য দিয়ে জনসাধারণের সহায়তা পাওয়ার দিকটিতে উন্নতি সাধিত হবে।