২০ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খালেদার মুক্তির জন্য রাজপথ দখলের সময় এসেছে ॥ ফারুক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথ দখলের সময় এসেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ নামক একটি সংগঠন আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বেগবান করতে শীঘ্রই কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে জানিয়ে ফারুক বলেন, আমি আশা করব সরকার তার আগেই তাকে মুক্তি দেবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

ফারুক বলেন, বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বরিশালের মহাসমাবেশে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়েছে। চট্টগ্রাম ও খুলনার মহাসমাবেশেও লাখ লাখ লোকের সমাগম ঘটবে। তাই আশা করব, সরকার খুলনার মহাসমাবেশের আগেই খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করবে। তা না হলে সারাদেশে যে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠবে সেই আন্দোলনের তোড়ে সরকারের গদি নড়ে যাবে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জয়নুল আবদিন বলেন, আসুন আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে রাস্তায় নামি, রাজপথ প্রকম্পিত করি। আর দেরি নয়, রাজপথ দখলে নেয়ার সময় এসে গেছে। যতই অত্যাচার হোক, যতই নির্যাতন হোক, যতই মামলা-হামলা হোক বিএনপির ঐক্য আরও জোরদার হবে। দিন দিনই বিএনপির ভিত আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

সরকারের সমালোচনা করে ফারুক বলেন, এই সরকারের কাছে দাবি করে কি লাভ? যে সরকার বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ায় না, যে সরকার পৌরসভার কর্মচারীদের বেতন দিতে পারে না; সে সরকারের কাছে কি দাবি করব? তিনি বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই চট্টগ্রাম শহর তলিয়ে যায়, কিন্তু সরকার এই খবরও রাখে না। অথচ শহর তলিয়ে যাওয়ায় অসংখ্য মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ফারুক বলেন, সরকার কোনভাবেই চায় না বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি হোক, তারা চায় না দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হোক। এই সরকার চায় কৌশল করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে। আর সেটিই করে যাচ্ছে তারা। তিনি বলেন, সারাদেশের মানুষ আজ মানবেতর জীবনযাপন করছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে দেশে যে দলটি ক্ষমতাসীন সেই দলটির অত্যাচার-নির্যাতন ও গুম-খুনে জর্জরিত বিএনপি এবং দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, যিনি দেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, যিনি দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। খালেদা জিয়া আজ বানোয়াট মামলায় কারাগারে। তার মুক্তির দাবিতে আজকে আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। দিন দিনই আন্দোলন জোরদার হবে।

ফারুক বলেন, একটি সাজানো মামলায় খালেদা জিয়ার এতদিন জেলে থাকার কথা নয়। যদি সত্যিকার অর্থেই এই সরকার মানবিক হতো, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার হতো তাহলে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এতদিন জেলে থাকার কথা নয়। আমরা তার মুক্তির জন্য বারবার এই সরকারের কাছে দাবি করে আসছি, কিন্তু তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। কেন মুক্তি দেয়া হচ্ছে না দেশের মানুষ জানতে চায়।

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, সরকার আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার করছে। ২৫ লাখের অধিক মামলা বহন করে আমাদের নেতাকর্মীরা জীবনযাপন করছে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আজকে আমাদের কারাবন্দী নেত্রী খালেদা জিয়া অসুস্থ। তার চিকিৎসার জন্য কেন বারবার দাবি জানাতে হবে। আপনি একটি প্রাচীন রাজনৈতিক দলের সভাপতি তাই মুক্তিযুদ্ধে খালেদা জিয়ার স্বামীর কথা যদি স্মরণ করেন তাহলে আজকে তাকে কারাগারে থাকতে হতো না। তাই আমরা দাবি করছি, অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিন। আর মুক্তি দেয়া না হলে যে কোন অঘটনের জন্য আপনাকে দায় নিতে হবে।

আয়োজক সংগঠনের সহসভাপতি খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির সহ-শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ, আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।