১৯ জুলাই ২০১৯

ট্রাকে পাখির বাসা

 ট্রাকে পাখির বাসা

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছেই একটি ছোট্ট শহরে বাড়ি ট্রাকচালক বাহাতিন গুরসির। ট্রাক চালিয়েই তার সংসার চলে। আশপাশের বড় বড় শহরগুলোতে বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের কাজ করেন তিনি। এ বছর ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরেন বাহাতিন। বাড়ির সামনে খোলা জায়গায় রেখে দেন তার ট্রাক। তখনই ট্রাকের ইঞ্জিনে বাসা বাঁধে একটি ছোট্ট মা পাখি। সেই বাসায় ডিমও পাড়ে। অবশ্য পুরো বিষয়টাই অজানা ছিল ট্রাকচালকের। ছুটি শেষে ট্রাক নিয়ে বের হতে গিয়েই প্রথম তিনি বিষয়টি লক্ষ্য করেন। ট্রাকের ইঞ্জিনে দেখেন আস্ত একটি পাখির বাসা। আর তাতে কয়েকটি ডিম। আশপাশে মা পাখিটিকেও দেখতে পাননি তিনি। ট্রাক চালু করলেই ইঞ্জিনের ঝাঁকুনিতে ভেঙ্গে যাবে বাসা। নষ্ট হবে ডিম। তখনই মনস্থির করে ফেলেন বাহাতিন। যতদিন না ডিম ফুটে বাচ্চাগুলো বড় হয়ে উড়ে না যাবে ততদিন তিনিও ট্রাক চালাবেন না। তার এই সিদ্ধান্তে একই মত দেয় তার পরিবারও। যেমন ভাবা তেমন কাজ। শুরু হলো অপেক্ষা। এলাকার বাচ্চারা যাতে বাসাটির কাছে না যায়, সেইদিকে ছিল তার কঠোর নজরদারি। একসময়ে ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। ৪৫ দিন পর বাচ্চাগুলো উড়তে শিখলে তাদের নিয়ে বাসা ছেড়ে উড়ে যায় মা পাখি। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন বাহাতিন। এতদিন ট্রাক না চলায় আয় বন্ধ ছিল তার। ফিরিয়ে দিয়েছেন মোটা অঙ্কের ভাড়ার বায়নাও। তাই এবার ট্রাক নিয়ে আবার বের হতে উৎসাহী তিনি। পাশাপাশি ছোট্ট পাখিগুলোকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে পেরেও খুশি তিনি। তুরস্কের সংবাদমাধ্যমে বাহাতিনের এই মানবিকতার কাহিনী প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন বাহাতিন। অবশ্য এই নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ তিনি। অনেকদিন পর আবার কাজে ফিরতে পেরে খুশি তিনি। বাহাতিন বলেন, গত ১৫ জুলাই বাচ্চাদের নিয়ে উড়ে গেছে পাখিটা। এবার আমি আবার আয় করতে পারব। আমি খুব খুশি। খুশি তার ছোট মেয়ে আয়সিমাও। পাখিগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে সে বলল, ওরা বাসা বানাল বলেই একসঙ্গে এতদিন বাবাকে কাছে পেলাম। আমি খুব খুশি। বাবাকে আমি ভালবাসি। -জি নিউজ