১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওই নারীর অভিযোগ সঠিক নয় ॥ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সম্প্রতি এক বাংলাদেশী সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক বলে মনে করেন না ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মিলার এমন মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার অফিসে কথা বলেন। এতে বাংলাদেশী পরিচয় দিয়ে এক নারী ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটি ৭০ লাখ হিন্দু- বৌদ্ধ-খ্রীস্টান নিখোঁজ হয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।

এরপর তিনি বলেন, এখন সেখানে এক কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন বিচার পাইনি।

হোয়াইট হাউসের ওয়েব সাইটের বিবৃতিতে বাংলাদেশী ওই নারীকে মিসেস সাহা পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানা যায়, ওই নারীর নাম প্রিয়া সাহা। তিনি বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মানবাধিকার কর্মী।

ওই নারীর এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে মনে করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার। রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় বৌদ্ধ মন্দিরে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একে-অপরকে শ্রদ্ধা করে। আমার প্রথম আট মাসের দায়িত্ব পালনকালে আমি বাংলাদেশের আটটি বিভাগেই ঘুরেছি। মসজিদ, মন্দির ও চার্চে গিয়ে ইমাম-পুরোহিতদের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন আমি এসেছি একটি বৌদ্ধ মন্দিরে, আমার কাছে যেমনটা মনে হয়েছে, এখানকার ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাসের লোকজন একে-অপরকে শ্রদ্ধা করে। তাই আমি মনে করি, তার অভিযোগ সঠিক নয় বরং ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য নাম। যদিও কোন দেশই সংখ্যালঘুদের অধিকার দিতে সফলতা পায়নি।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারীর বক্তব্য শোনার পর একপর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই সহানুভূতিশীলতার স্বরূপ তার সঙ্গে হাত মেলান। কারা এমন নিপীড়ন চালাচ্ছে? ট্রাম্পের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া সাহা বলেন, দেশটির মৌলবাদীরা এসব করছে। তারা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে।

ওই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম নিজ ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় একাধিকবার ভরা হাউসে পৃথিবীর সব দেশের এবং বাংলাদেশ ও বাইরের দেশের এনজিওদের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। যেখানে শ্রদ্ধেয় রানা দাশ গুপ্তর মতো মানুষেরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেয়া প্রিয়া সাহার অভিযোগের মতো কোন অভিযোগ বা প্রশ্ন কাউকে করতে দেখিনি।’

‘তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি কেন এটা করলেন তা খতিয়ে দেখা হবে। তার অভিযোগগুলোও সরকার শুনবে এবং খতিয়ে দেখবে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পও জানেন যে তার কাছেও মিথ্যা অভিযোগ করা হয়। মার্কিন প্রশাসন তাদের এখানকার দূতাবাসের মাধ্যমেই প্রতিনিয়ত তথ্য পেয়ে থাকে এবং আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগে থাকি।’

‘প্রিয়া সাহার সমালোচনা করতে গিয়ে অনেকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সমালোচনা করছেন। এটাও ঠিক নয়। যেমনটি নয় প্রিয়া সাহার করা অভিযোগ। সমাজের সকল স্তরে যার বিচরণ এবং সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যার যোগাযোগ তার একই রকম আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ। অনেকেই ব্যক্তি স্বার্থে বা না বুঝে এটার ক্ষতি করে ফেলেন। সবার উচিত এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা’- উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ॥ বাংলাদেশী পরিচয় দেয়া ওই নারীর এমন বক্তব্যে সামাজিক মাধ্যমেও ঝড় বয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, ওই নারী এমন বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। অনেকেই বলছেন, এমন মিথ্যা কথা তিনি কীভাবে বললেন। সামাজিক মাধ্যমে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, এটা দেখি ঘষেটি বেগম। অপর একজন লিখেছেন, এটা কাদের চাল হতে পারে বুঝলাম না।

অন্য এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, আমার চোখে কি দেখলাম আর কি শুনলাম। আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। মানুষ এতটা অকৃতজ্ঞ, বেইমান, রাজাকার, নিকৃষ্ট আর দেশদ্রোহী কেমনে হয়? আমাদের দেশে কোন দিন শুনি নাই জোর করে কাউকে কালেমা বা গরুর গোশত খাওয়াতে। মুসলমানদের কাছে অমুসলিমরা যতটা শান্তিতে আছে সেটা অমুসলিম দেশেও নাই।

প্রিয়া সাহার অভিযোগ উদ্দেশ্যমূলক- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ॥ সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের শিকার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা নামের বাংলাদেশী নারী যে অভিযোগ করেছেন, তা উদ্দেশ্যমূলক বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘তিনি (প্রিয়া সাহা) যে অভিযোগ করেছেন, তেমন কিছু ঘটছে বলে আমার জানা নেই। এটা নিশ্চয়ই কোন চক্রান্ত; এটা উদ্দেশ্যমূলক বলেই আমার মনে হয়।’

হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার ভিডিও দেখেছেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কথা হচ্ছে যে, এই ধরনের অভিযোগ (সংখ্যালঘু নির্যাতন) বাংলাদেশের কোন মানুষই বিশ্বাস করবে না; করেও না। কারণ, এদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পরিশ্রমের কারণে দেশ আজ এ পর্যায়ে এসেছে, যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘ভিডিওতে যে মহিলাকে (প্রিয়া সাহা) কথা বলতে দেখা গেছে, তিনি তো কোনদিন আমাদের কাছে এসে এমন দুঃখের কথা কোনদিন বলেন নাই। পুলিশ প্রশাসন সবসময় সজাগ থাকে যেন দেশের কোন জায়গায় সংখ্যালঘুরা কোনভাবে অত্যাচারিত না হয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাকে (প্রিয়া সাহা) এখনও বলব, এ ধরনের কোন ঘটনা যদি ঘটে থাকে, তবে তিনি যেন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমরা এ ধরনের অভিযোগের কোন সত্যতা এখন পর্যন্ত খুঁজে পাইনি।’

প্রিয়া সাহার অভিযোগের বিষয় খতিয়ে দেখা হবে- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ॥ সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের শিকার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে এক বাংলাদেশী নারীর অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি কেন এটা করলেন, তা খতিয়ে দেখা হবে।’ শুক্রবার (১৯ জুলাই) নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।