২০ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সিদ্ধিরগঞ্জে পৃথক দু’টি স্থানে ছেলে ধরা সন্দেহে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে অজ্ঞাত এক যুবক (২৫) নিহত ও শারমিন বেগম (৩৫) নামে এক নারী আহত হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টায় ও সাড়ে ৯টায় সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজির আল-আমিন নগর ও পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকায় এ ঘটনা দুটি ঘটে। গণপিটুনিতে নিহত ওই যুবকের নাম পরিচয় বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এদিকে সকাল সাড়ে ৯টায় পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে শারমিন বেগম নামে এক নারীকে গণপিটুনী দিয়ে এলাকাবাসী আটক করে রাখে।

খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে গেলে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ওই নারীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আল-আমিন নগর এলাকায় আইডিয়াল ইসলামীক কিন্ডার গার্টেন স্কুলের প্লে গ্রুপের ছাত্রী সাদিয়াকে সকাল আটটার দিকে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল এক যুবক। এ সময় একই স্কুলের শিক্ষক সাঈদ হৃদয়ার আহমেদ সামনের একটি ফার্মেসীতে বসে ছিলেন। ওই ছাত্রীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় ওই শিক্ষার্থী তাকে দেখে স্যার স্যার বলে চিৎকার করলে ওই যুবক নিজের মেয়ে বলে তাকে পরিচয় দেয়।

কিন্তু শিক্ষার্থী এ সময় ওই যুবক তার পিতা নয় বলে জানালে ওই যুবককে দাঁড়াতে বললে সে একটি রিকশা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আশপাশের লোকজন এসে তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ তিনশ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ জানায়, নিহতের নাম পরিচয় জানা যায়নি। আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে ও বিভিন্নভাবে তার পরিচয় সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে সকাল সাড়ে ৯টায় পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে শারমিন বেগম (৩৫) নামে এক নারীকে ইটালী প্রবাসী ইসমাইলের বাড়িতে নিয়ে যায়। এসময় ওই নারীর কথাবার্তা অসংলগ্ন হওয়ায় স্থানীয়রা তাকে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনী দেয়। এ সময় শারমিন বেগম পাশের বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখানেও তাকে গণপিটুনী দেয়া হয়। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের সাথে স্থানীয় এলাকাবাসীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিল্লালের বাড়ি থেকে আহত অবস্থায় শারমিন বেগমকে উদ্ধার করে খানপুর তিনশ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শারমিন বেগম ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল এলাকার সালমান শাহর স্ত্রী বলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মীর শাহিন শাহ পারভেজ নিশ্চিত করেছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মীর শাহিন শাহ পারভেজ জানান, ছেলে ধরা সন্দেহ ওই নারীকে গণপিটুনী দিয়ে আটক করে রাখে। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করতে গেলে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় টিল ছুড়ে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানের কাঁচ ভাংচুর করে। তিনি আরো জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয় এবং হালকা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। এটি গুজব না কি অন্য কোন কারণে হয়েছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ডিবি ) সুবাস চন্দ্র সাহা জানান, ছেলেধরা গুজবে গণপিটুনির এসব ঘটনা ঘটছে। সিদ্ধিরগঞ্জে গণপিটুনিতে এক যুবক নিহত ও এক নারী আহত হওয়ার ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে আইনত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সাথে তিনি এসব গুজবে কান না দিয়ে এমন কোন ঘটনা ঘটলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে থানা পুলিশকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান।