২২ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জামালপুরে বন্যার পানিতে ডুবে ও সাপের দংশনে মৃত্যু ৩

জামালপুরে বন্যার পানিতে ডুবে ও সাপের দংশনে মৃত্যু ৩

নিজস্ব সংবাদদাতা, জামালপুর ॥ জামালপুরে যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘন্টায় ২৬ সেন্টিমিটার কমলেও শনিবার বিকেলে ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি কমলেও যমুনানদী তীরবর্তী দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার বন্যার্তরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলায় এখনও আট লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জামালপুর সদর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। জামালপুর সদর উপজেলাসহ বন্যা কবলিত জেলার সবগুলো উপজেলাতেই সরকারি ত্রাণ সহায়তা খুবই অপ্রতুল হওয়ায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে। সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের পশ্চিম দৌলতপুর গ্রামে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণের চাল মাপে কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় প্রতিবাদ করায় ত্রাণবিতরণকারী যুবলীগনেতাকর্মীদের লাঠিপেটায় চায়না বেগম নামের একজন নারীসহ সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার বেলা ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে শনিবার ভোর থেকে জামালপুর-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা এলাকায় দুটি স্থানে বন্যার পানিতে সড়ক ডুবে গেছে। সেখানে সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যানবাহন চলাচলে চরম বিঘœ ঘটছে। বন্যার পানি বাড়তে থাকলে সড়ক ও একটি কালভার্ট ধসে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের বেপারিপাড়া এলাকায় বন্যার পানির তোড়ে জামালপুর-সরিষাবাড়ী সড়কের প্রায় ১০০ মিটার সড়ক ভেঙ্গে একরাতে মধ্যে অন্তত ১৫টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় জামালপুর-সরিষাবাড়ী সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানিতে ডুবে এবং সাপের ছোবলে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কুশলনগর গ্রামের হামিদুল ইসলামের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলে রাহাত (১০) শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাড়ির পাশে বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। একই উপজেলার বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ঝালরচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের কান্দু শেখের ছেলে মো. রাজা বাদশা (২৮) শুক্রবার গভীর রাতে ঘরের বাইরে বের হলে তাকে সাপে ছোবল দেয়। শনিবার দুপুরে তিনি মারা গেছেন।

শনিবার দুপুরে জামালপুর সদরের তিতপল্লা ইউনিয়নের তিতপল্লা গ্রামে বন্যার পানি দেখতে গিয়ে কেন্দুয়া ইউনিয়নের ফারুক গাজীর ছেলে মো. সিফাত (১৬) বন্যার পানিতে ডুবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে জামালপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।