২১ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘পরিচয়’

দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাইয়ের গেটওয়ে ‘পরিচয়’ (িি.ি ঢ়ড়ৎরপযড়ু. মড়া. নফ)। রাজধানীর আইসিটি টাওয়ারে বুধবার এর শুভ সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এর অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, সরকারী সেবাগুলো ডিজিটাইজ করে সহজে এবং দ্রুততম সময়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া। ‘পরিচয়’ হচ্ছে এমন একটি গেটওয়ে সার্ভার, যা নির্বাচন কমিশনের ডেটা বেজের সঙ্গে সংযুক্ত। এটি এমন একটি এ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম, যা সরকারী-বেসরকারী বা ব্যক্তিগত যে কোন সংস্থার গ্রাহকদের তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে সেবা দিতে পারবে নিমিষেই। যে সেবা আগে পেতে কমপক্ষে ৩-৫ কর্মদিবস অপেক্ষা করতে হতো। বেসরকারী খাতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব সহযোগিতার মাধ্যমে সরকার এটির কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে জনগণের তথ্যসমৃদ্ধ একটি জাতীয় ডেটাবেজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় প্রথম তৈরি করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও সরকারের আইসিটি বিভাগ। এনআইডিতে একজন নাগরিকের ২৫ ধরনের তথ্য থাকলেও ‘পরিচয়’ ওয়েব সাইটে পাঁচ-ছটি তথ্য যাচাই করা যাবেÑ যেমন নাগরিকের নাম, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ ইত্যাদি। এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে একটি ফি দিতে হবে, যা নির্ধারিত হয়নি এখনও। তবে সেই ফি যেন সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা বাঞ্ছনীয় অবশ্যই। সর্বস্তরের নিরীহ সাধারণ নাগরিকের সহজে সরকারী সেবাপ্রাপ্তির পাশাপাশি ‘পরিচয়’ দেশের অপরাধী, সন্ত্রাসী, জঙ্গী, মাদক ব্যবসায়ীদের শনাক্তকরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি থাকতে হবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষণের নিশ্চয়তা।

তবে কারিগরি ত্রুটিসহ নানা কারণে খোদ রাজধানীতেই এখন পর্যন্ত অনেক নাগরিক স্মার্টকার্ড পাননি অথবা সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, রাজধানীতে স্মার্টকার্ড বিতরণের হার ৬০ শতাংশের বেশি। বাকি ৪০ শতাংশ নাগরিক স্মার্টকার্ড পাননি। ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে রাজধানীতে শুরু হয় স্মার্টকার্ড বিতরণ। খোদ রাজধানীতেই কয়েক লাখ ভোটার স্মার্টকার্ড পাননি। সে অবস্থায় সারাদেশের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। তদুপরি পর্যাপ্ত প্রচারের অভাব, ভাসমান ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার, বদলির চাকরিজীবী, কারিগরি ত্রুটি ও সমন্বয়হীনতার কারণে স্মার্টকার্ড বিতরণে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এনআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড পৌঁছে দেয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রিন্টার পর্যন্ত তাদের হাতে নেই। এমনকি ফ্রান্সের যে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে স্মার্টকার্ড তৈরির ব্ল্যাঙ্ককার্ড সরবরাহের কথা, চুক্তি থাকলেও তা তারা দিতে পারেনি যথাসময়ে। ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত মাত্র অর্ধেক ব্ল্যাঙ্ককার্ড সরবরাহ করেছে। অথচ দেশে ভোটারের সংখ্যা ৯ কোটিরও বেশি। তদুপরি ১৮ বছর বয়সী নতুন নতুন ভোটারের নামও তালিকাভুক্ত হচ্ছে। তাদের জন্য কাগজে মুদ্রিত লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্রই ভরসা! অধুনা জাতীয় পরিচয়পত্রকে আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও আধুনিকা করে নাম দেয়া হয়েছে স্মার্টকার্ড। সে অবস্থায় নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্টদের স্মার্টকার্ড বিতরণে আরও কার্যকর ও গঠনমূলক ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে হবে। এর পাশাপাশিা এনআইডি যাচাইয়ের গেটওয়ে ‘পরিচয়’কে সবর্দাই থাকতে হবে হাল নাগাদ।