১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লৌহজংয়ে ১০ পরিবারের ভিটেমাটি পদ্মায় বিলীন

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ ৩ দিনের ব্যবধানে লৌহজং উপজেলার খড়িয়া গ্রামের ১০ পরিবারের ভিটেমাটি পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত ২০ পরিবার ও খড়িয়া মসজিদ। ক্রমশ ভাঙ্গন তীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। গত শুক্রবার ও শনিবার ভাঙ্গন এলাকাঘুরে লোকজনকে বাড়িঘর দ্রুত ভেঙ্গে সরিয়ে নিতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে। নদী ভাঙ্গনের শিকার কুমারভোগ ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানান, গত দুই দিনে অন্তত ৬০ হাত জায়গা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আরও বলেন, নদী ভাঙ্গনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ৬ ঘর ভেঙ্গে নিতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। জাকির হোসেনের প্রতিবেশী জিন্নত আলী, সুজন শেখ ও রিমা আক্তারও একই রকমের দুর্ভোগের কথা বলেন। ৯০-এর দশকে টানা ১০ বছর পদ্মার ভাঙ্গনে তেউটিয়া ও ধাইদা ইউনিয়ন দুটির অধিকাংশ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়। এরপর দুই দশক ভাঙ্গন বন্ধ থাকে। ৫-৬ বছর আগে খড়িয়া থেকে আধা কিলোমিটার দূরত্বে বালু ফেলে শিমুলিয়া ঘাট তৈরি করা হয়। ফলে পদ্মার এই শাখা নদীটির বাক পরিবর্তন হওয়ায় স্রোত এসে খড়িয়া গ্রামে সরাসরি আঘাত করে। তাই প্রতিবছর বর্ষাকালে নদীতে লৌহজংয়ের কোথাও না ভাঙলেও খড়িয়া ভেঙ্গেই চলেছে। ভিটেমাটি নদী ভাঙ্গনের মুখে থাকা মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহযোগিতা চাই না। সরকারের কাছে একটাই দাবি- নদী শাসন করে আমাদের ভিটেমাটি রক্ষা করা হোক। একই গ্রামের বাসিন্দা ও মুন্সীগঞ্জ জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম খান বলেন, খড়িয়া গ্রাম থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বে পদ্মা সেতুর নদী শাসনের কাজ চলছে। সেতুর হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের সঙ্গে সামান্য কিছু খরচ করে নদী শাসনের কাজ করলে এ এলাকা ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেত। বেঁচে যেত আমাদের বাপ-দাদার ভিটেবাড়িসহ হাজারও এলাকাবাসী। ইউএনও মোহাম্মদ কাবিরুল ইসলাম খান জানান, খড়িয়ার ভাঙ্গন সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। এলাকাটি ইতোমধ্যেই পদ্মা সেতুর নদী শাসনের আওতায় রয়েছে। আগামী অর্থবছরে ভাঙ্গনরোধে এর কাজ শুরু হবে।