১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বসুন্ধরাকে হারাল শেখ রাসেল, জয় ঢাকা আবাহনীর

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উৎসবের মঞ্চ প্রস্তুতই ছিল। জিতলেই কেল্লাফতে, তিন ম্যাচ হাতে রেখেই প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক প্রথম লীগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে ভাসতে পারত নবাগত দল বসুন্ধরা কিংস। কিন্তু তাদের এই লীগ-শিরোপা জেতার মুহূর্তটাকে পিছিয়ে দিয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেড। শনিবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবলে তাদের কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে ১-০ গোলে হেরে গেছে বসুন্ধরা কিংস। একবারের লীগ চ্যাম্পিয়ন রাসেলের উজবেক ফরোয়ার্ড আলিশের আজিজভ খেলার ৫২ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন। লীগের প্রথম লেগে একই ব্যবধানে রাসেলকে হারিয়েছিল বসুন্ধরা। শনিবারের জয়ে মধুর প্রতিশোধ নিল রাসেল।

নিজেদের একবিংশ ম্যাচে এটা রাসেলের চতুর্দশ জয়। আগের ৩ ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ৪৫। পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানটি ধরে রেখেছে তারা। পক্ষান্তরে সমান ম্যাচে এটা বসুন্ধরার প্রথম হার। আগের ১৯ জয় ও ১ ড্রতে ৫৮ পয়েন্ট তাদের। পরের তিন ম্যাচ থেকে মাত্র তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে তারা।

এদিকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রাতের ম্যাচে অপর শিরোপাপ্রত্যাশী ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী লিমিটেড আগে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েও বড় এবং দারুণ জয় কুড়িয়ে নিয়ে নিয়েছে। তারা ৪-১ গোলে হারায় সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডকে। বিজিত দলের গোলদাতা কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার দেইনার আন্দ্রেস কর্দোবা (৩৭ মিনিটে)। বিজয়ী দলের নাইজিরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবা জোড়া গোল করেন (৫১ ও ৬৫ মিনিটে, প্রথম গোলটি পেনাল্টি থেকে, লীগে ১৯ গোল করে এখনও শীর্ষ গোলদাতা তিনিই)। এছাড়া ১টি করে গোল করেন ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ জীবন (৫৯ মিনিটে, পেনাল্টি থেকে; ১৪ গোলের লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তিন নম্বরে ও দেশীয়দের মধ্যে শীর্ষে আছেন তিনি) এবং মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম (৮০ মিনিটে, সরাসরি কর্নার কিক করে)। দু’দলের আগের মোকাবেলাতেও সাইফকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল আবাহনী।

তুমুল উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে রেফারি আনিসুর রহমান দু’দলের তিন ফুটবলারকে লাল কার্ড দেখান। এরা হলেন আবাহনীর আফগান ডিফেন্ডার মাসিহ্ সাইঘানি (৫৬ মিনিটে), সাইফের রুয়ান্ডার ডিফেন্ডার এমেরি বায়িসেঙ্গে (৫৬ মিনিটে) এবং সাইফের অধিনায়ক-মিডফিল্ডার জামাল ভুঁইয়া (খেলা শেষে রেফারির দিকে তেড়ে যাবার কারণে)।

নিজেদের ২২তম ম্যাচে এটা ১৭ বারের লীগ চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর অষ্টাদশ জয়। ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে আগের দ্বিতীয় স্থানেই আছে তারা। শীর্ষে থাকা বসুন্ধরার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান ৭ থেকে ৪-এ কমিয়ে আনল তারা। এক্ষেত্রে গত ম্যাচে তারা যদি দুর্বল মোহামেডানের কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে ০-৪ গোলে না হারত, তাহলে বসুন্ধরার সঙ্গে তাদের এখন পয়েন্টের ব্যবধান থাকত মাত্র ‘১’ (যদিও বসুন্ধরার চেয়ে ১ ম্যাচ বেশি খেলেছে আবাহনী)! পক্ষান্তরে ২১ ম্যাচে এটা সাইফের চতুর্থ হার। ৪১ পয়েন্ট নিয়ে তারা রয়ে গেছে আগের চতুর্থ স্থানেই।