১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রিয়ার মিথ্যা দাবির পেছনে মার্কিন দূতাবাসের দুরভিসন্ধি রয়েছে

 প্রিয়ার মিথ্যা দাবির পেছনে মার্কিন দূতাবাসের দুরভিসন্ধি রয়েছে
  • জয়ের সন্দেহ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ভয়ঙ্কর মিথ্যা কথা বলেছেন প্রিয়া সাহা। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সরকার অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার নীতিতে বিশ্বাসী নন। তারা এ ধরনের ভয়ঙ্কর মিথ্যা দাবি বিশ্বাস করার মতো বোকাও নন। তবে এর পেছনে মার্কিন দূতাবাসের ‘দুরভিসন্ধি’ রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

রবিবার সজীব ওয়াজেদ জয় ফেসবুকে তার ভেরিফাইড পেজে লেখা এক পোস্টে এমন সন্দেহ পোষণ করেন। সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেছেন, গত নির্বাচনের পর আমি একটু বিরতি নেই, তাই এই পেজেও কম পোস্ট করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমার কিছু বলা উচিত বলে মনে হলো। আপনারা হয়ত দেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার ভয়ঙ্কর ও মিথ্যা দাবি। উনি বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে নাকি ৩ কোটি ৭০ লাখ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ‘গায়েব’ বা ‘গুম’ হয়ে গেছেন। প্রায় ৪ কোটির কাছাকাছি যে সংখ্যাটি উনি বলছেন তা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যার ১০ গুণেরও বেশি, আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের সংখ্যার কাছাকাছি। এত মানুষ গুম হলো সবার অজান্তে? ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ গায়েব হলো কোন তথ্য প্রমাণ ছাড়াই?

জয় লিখেছেন, প্রিয়া সাহাকে আমেরিকায় পাঠানো হয় বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের মনোনয়নে। অনেক সমালোচনার পর আজ তারা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তারা বলেছেন তারা অংশগ্রহণকারীদের কথাবার্তার ওপর কোন বিধিনিষেধ আরোপ করেন না। কিন্তু যখন তাদের একজন মনোনীত অংশগ্রহণকারী তাদেরই রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে কোন ভয়ঙ্কর মিথ্যা বক্তব্য দিলেন, তাদের উচিত ছিল তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রতিবাদ জানানো, যা তারা করেননি।

বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র জয় মনে করেন, এ বিষয়টি থেকে কিন্তু মার্কিন দূতাবাসেরই দুরভিসন্ধি প্রকাশ পায়। তারা জেনেশুনেই প্রিয়া সাহাকে বাছাই করে, কারণ তারা জানতো উনি এ ধরনের ভয়ঙ্কর মিথ্যা মন্তব্য করবেন। এই ধরনের কাজের পেছনে একটাই কারণ চিন্তা করা যায়, মানবিকতার দোহাই দিয়ে আমাদের এই অঞ্চলে সেনা অভিযানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। মনে রাখা ভাল কয়েকদিন আগেই মার্কিন এক কংগ্রেসম্যান একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, বাংলাদেশের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য দখল করা উচিত।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘মার্কিন দূতাবাস যে আওয়ামী লীগ বিরোধী তা নতুন কিছু নয়। তাদের সব অনুষ্ঠানেই জামায়াত নেতাকর্মীরা ও যুদ্ধাপরাধীরা নিয়মিত আমন্ত্রিত হতেন। প্রিয়া সাহার মিথ্যা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তাদের সরাসরি আধিপত্য বিস্তারের ষড়যন্ত্র পরিষ্কারভাবেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’ প্রিয়া সাহার মিথ্যা বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করবে না বলে মনে করেন জয়। তিনি বলেন, ‘সৌভাগ্যবশত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সরকার অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার নীতিতে বিশ্বাসী নন।’