২১ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তাড়ুয়ার নাটক লেট মি আউটের ষষ্ঠ প্রদর্শনী

 তাড়ুয়ার নাটক লেট মি আউটের ষষ্ঠ প্রদর্শনী
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পেশাদার নাট্যচর্চার তাগিদেই গড়ে ওঠে তাদের সংহতি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত নাট্যদলের সদস্যরা নতুনভাবে মিলিত হন এক ছাতার তলে। সেই নাট্যকর্মীরা মিলে গড়ে তোলেন ওপেন স্টেজ প্ল্যাটফর্ম। জন্ম নেয় নাট্যদল তাড়ুয়া। আর এ বছরই প্রথম প্রযোজনার মাধ্যমে দলটি হাজির হয় দর্শকের সামনে। লেট মি আউট নামের নাটকটি ইতোমধ্যে সমাদৃত হয়েছে নাট্যপ্রেমীদের কাছে। রুনা কাঞ্চনের লেখা নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন বাকার বকুল। রবিবার বেইলি রোডের মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে প্রযোজনাটির ষষ্ঠ প্রদর্শনী হয়।

প্রযোজনাটি প্রসঙ্গে নির্দেশক বাকার বকুল বলেন, ১৯২৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস এ্যাঞ্জেলেসে ঘটে যাওয়া সত্য ঘটনাটি ইতিহাস হলেও অতীত হতে পারেনি। বর্তমানে দাঁড়ানো পায়ের নিচের মাটিতে একই কম্পন অনুভূত হয়। ভাবনাতাড়িত সেই অনুভূতিরই মঞ্চ প্রকাশ এই প্রয়োজনা। নির্বোধ ঝুঁকিহীন জীবনের আকাক্সক্ষায় আমাদের থাকে প্রয়োজনে হাজারো সরল যুক্তি। সেই নির্বোধ জীবনের বিপরীতে এক আর্তচিৎকার ‘লেট মি আউট’। সে চিৎকার সমাজ বাস্তবতার কংক্রিট দেয়ালে আঘাত করে কিনা জানা নেই, তবে সন্তানহারা এক মায়ের স্বর-নালীর শিরাতে রক্ত জমে। ক্ষমতাবানের অনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারে ব্যবহার্য শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ঘৃণার প্রকাশ এই নাটক।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ১৯২৮ সাল। লস এ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এলপিডি। এই ডিপার্টমেন্টের রয়েছে স্পেশাল ফোর্স গান স্কোয়াড। ওই পুলিশ ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে ক্রিস্টিন কলিন্স নামে এক মায়ের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে নাটকের গল্প। নয় বছরের ছেলে ওয়াল্টার কলিন্সকে হারিয়ে ক্রিস্টিন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের দারস্থ হয়। ক্রিস্টিন কলিন্স ফিরে পেতে চায় তার প্রকৃত সন্তানকে। কিন্তু প্রশাসনিক পদ্ধতির জটিলতায় অসহায় হয়ে পড়ে ক্রিস্টিন। এদিকে বিচারবহির্ভূত হত্যার ভয়াবহতায় মানসিক অবসাদের মধ্য দিয়ে যেতে থাকা এক পুলিশ অফিসার ভুগতে থাকে আত্মদ্বন্দ্বে। লস এ্যাঞ্জেলেসের নাগরিক জীবন ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শহরের শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জার ফাদার মিসেস ক্রিস্টিন কলিন্সের পাশে দাঁড়ায়। এভাবেই এগিয়ে যায় প্রযোজনাটির কাহিনী।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে রূপ দিয়েছেন ইশতিয়াক হোসেন, রুনা কাঞ্চন, সোহেল ম-ল, তাহসিন আহমেদ ইফতি, নুরুল আবসার পুলিশ, সাক্ষ্য শহীদ, খায়রুল আলম, জাভেদ জিমি, হাসিবা আহমেদ প্রমুখ। নাটকের মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন আসলাম অরণ্য। সঙ্গীত পরিকল্পনা করেছেন রবিউল ইসলাম শশী ও ইসমাইল পাটোয়ারী। পোশাক পরিকল্পনা করেছেন শাহনাজ জাহান। কোরিওগ্রাফি করেছেন ফরহাদ শামীম।

শেষ হলো জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী ॥ ১ জুন থেকে শুরু হয়েছিল শিল্পের সফরটি। সারাদেশের তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীদের শিল্পের সমাহার ঘটে সে আয়োজনে। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার চারটি প্রদর্শনালয়ে সজ্জিত শিল্পকর্মগুলো শিল্পরসিকরা অবলোকন করেছেন মনের আনন্দে। একুশ দিনের সেই শিল্প-যাত্রার শেষ দিন রবিবার। এদিন ছিল ২৩তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীর সমাপনী দিন। বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় চিত্রশালা মিলনায়তনে। এতে সমাপনী পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন শিল্পী মোস্তফা জামান ও শিল্পী শাওন আকন্দ। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক।

একুশ দিনের শিল্পসফরে দর্শকরা দেখেছেন সারাদেশের ৩১০ ল্পীর ৩২২টি শিল্পকর্ম। বিচিত্র শিল্পরেখায় উজ্জ্বল প্রদর্শনীতে দেখা মিলেছে বিভিন্ন মাধ্যমের ১৫৯টি চিত্রকলা, ৪৫ ভাস্কর্য়, ৫০টি ছাপচিত্র, ১৭ কারুশিল্প, ৮টি মৃৎশিল্প, ৩৭টি স্থাপনাশিল্প ও ভিডিও আর্ট। সেই সঙ্গে যুক্ত ছিল সাতটি পারফরমেন্স আর্ট।