২০ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফার্নেস অয়েলে গন্ধকের মাত্রা কমাতে চাইছেন বিদ্যুত উৎপাদনকারীরা

  • বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে নিতেই কি এই প্রস্তাব?

রশিদ মামুন ॥ পরিবেশ দূষণের নিয়ন্ত্রিত মাত্রার মধ্যে থাকলেও ফার্নেস অয়েলে সালফারের মাত্রা আরও কমাতে চায় বেসরকারী বিদ্যুত উৎপাদনকারীরা। গত বছর নানামুখী চেষ্টার পরও সালফারের মাত্রা কমাতে পারেনি উদ্যোক্তারা। সম্প্রতি তারা আবার সক্রিয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে বিদ্যুতের দাম যেমন বাড়বে তেমনি সিন্ডিকেটের হাতে চলে যাবে ফার্নেস অয়েলের সরবরাহ।

বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার এ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) নেতারা সম্প্রতি বিদ্যুত, জ্বালানি, খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে দেখা করে কম সালফারযুক্ত ফার্নেস অয়েল ব্যবহারে বিদ্যুত বিভাগের অনুমোদন চান। বিআইপিপিএ লিখিত দাবিতে বলছে, এখন দেশে বিদ্যুত উৎপাদনে যে ফার্নেস অয়েল ব্যবহার হচ্ছে তাতে সালফারের মাত্রা ৩ দশমিক ৫। এর বিপরীতে তারা এখন দুই মাত্রার সালফারযুক্ত ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করতে চান।

বিদ্যুত বিভাগ ও বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, সব পরিশোধনাগার দুই মাত্রার সালফারের ফার্নেস অয়েল উৎপাদন করে না। বিশেষ আদেশেই কেবল তা তৈরি করে দেয়া হয়। এক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিশোধনাগার এই তেল উৎপাদন করে। ফলে এক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের কবলে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

বিএসটিআই ও বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, গত বছর ৩১ মে বিদ্যুত বিভাগ ৩ দশমিক ৫ এর পরিবর্তে ২ মাত্রার সালফার ব্যবহার করা যায় কি-না তা খতিয়ে দেখতে বিএসটিআইকে অনুরোধ করে। বিএসটিআই গত বছরের ৮ জুলাই এ বিষয়ে একটি বৈঠক করে। বৈঠকে দেশে অনুমোদিত ফার্নেস অয়েলে সালফারের মাত্রা ৩ দশমিক ৫ সঠিক রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি শিল্প সচিবকে ওই মাসের ১৫ তারিখে চিঠিতে জানিয়ে দেন বিএসটিআই মহাপরিচালক। আর শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে বিদ্যুত বিভাগের সচিবকে গত বছর ২ আগস্ট এক চিঠিতে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়। ফলে গত বছরের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। এবার ঠিক একই সময়ে এসে আবারও উদ্যোক্তারা দাবি করছেন তাদেরকে ২ মাত্রার ফার্নেস অয়েল ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) চেয়ানম্যান সামছুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, আমরা তিন দশমিক ৫ মাত্রার সালফারের ফার্নেস অয়েলই আমদানি করি। তবে তেল পরিশোধনাগারকে ক্রয় আদেশ দিলে তারা এর চেয়ে কম মাত্রার ফার্নেস অয়েল তৈরি করে দিতে পারে।

বিশ্ববাজার থেকে জ্বালানি তেল কেনার ক্ষেত্রে সরাসরি কেনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী ক্রয় আদেশের মাধ্যমে তেল কেনা হয়। তবে কম সালফারের তেল কেনার ক্ষেত্রে বাড়তি দর গুনতে হবে। এক্ষেত্রে বিদ্যুত উৎপাদনের খরচও বৃদ্ধি পাবে।

বিআইপিপিএর সভাপতি লতিফ খানের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিবেশের কথা চিন্তা করেই আমরা ২ মাত্রার সালফারসমৃদ্ধ ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করতে চাইছি। বিশ^বাজারে এমন তেলের সঙ্কট রয়েছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, সিঙ্গাপুরের বাজারে এই তেল রয়েছে। এতে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে কি না জানতে চাইলে বলেন, আমরা হিসেব করে দেখেছি প্রতি ইউনিটে উৎপাদন খরচ ৭ পয়সা করে বাড়বে।

দেশে এখন চার হাজার ৩৬৮ মেগাওয়াটের ফার্নেস অয়েল চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র রয়েছে। দেশের মোট তেল চালিত বিদ্যুত কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা পাঁচ হাজার ৭১৪ মেগাওয়াট। বিআইপিপিএ তাদের যুক্তিতে বলেছে আগে কম বিদ্যুত উৎপাদন করা হতো এজন্য তেলও কম ব্যবহৃত হতো। এখন বেশি বিদ্যুত উৎপাদনে তেলও বেশি ব্যবহার হয়। ফলে বেশিমাত্রায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

যদিও বিদ্যুত বিভাগের কেউ কেউ বলছেন, তেল বাণিজ্যের জন্যই বিআইপিপিএ এই চেষ্টা চলাচ্ছে। সরকার বেসরকারী কোম্পানিকে ফার্নেস অয়েল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এর সঙ্গে তাদের ১০ ভাগ সার্ভিস চার্জও দেয়া হচ্ছে। মূলত তেল আমদানির যে বাণিজ্য তাই সম্প্রসারিত হবে ২ মাত্রার সালফারসমৃদ্ধ তেল আমদানির সুযোগ দিলে। এতে কোন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানই বেশি লাভবান হবে।