১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৫ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমার নীচে শেয়ারবাজার

৫ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক  সীমার নীচে শেয়ারবাজার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অব্যাহত পতনের কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে গেছে। আতঙ্কে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়েছে। এমনকি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে শেয়ারের ফোর্সড সেলের ঘটনাও ঘটছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি শ্রেণীর বড় বিনিয়োগকারীদের নিস্ক্রিয় আচরণ সোমবারও বজায় ছিল। বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক সীমা ৫ হাজার পয়েন্টের নীচে নেমে যাওয়ার পরও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। সবমিলে লোকসানে বিনিয়োগকারীদের হতাশা আরও বাড়ছে।

বাজার পর্যালোচনায় জানা গেছে, সকাল থেকেই আগের দিনের ধারাবাহিকতায় পতনে লেনদেন শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিএসইর সার্বিক সূচকের পতন বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে আগের দিনের চেয়ে সূচক ১০৫ পয়েন্ট কমে যায়। তখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের একটি পক্ষ শেয়ার কেনার আদেশ বাড়াতে থাকে। দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৬৬ পয়েন্টে। যা ডিএসইতে ২ বছর ৭ মাস বা ৬২৫ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর সোমবারের চেয়ে কম পয়েন্টে অবস্থান করছিল। ওই দিন ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪ হাজার ৯৫৬ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১৮ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৩৯ ও ১ হাজার ৭৭৬ পয়েন্টে।

ডিএসইতে সোমবার ৩৬৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৬৮ কোটি টাকার। অর্থাৎ ডিএসইতে লেনদেন ৪ কোটি টাকা কম হয়েছে।

ডিএসইতে ৩৫৩টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭৭টির বা ৭৮ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। দর বেড়েছে ৬০টির বা ১৭ শতাংশের এবং ১৬টি বা ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

টাকার অংকে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ফরচুন সুজের। এদিন কোম্পানিটির ২০ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা স্কয়ার ফার্মার ১২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার এবং ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে ইউনাইটেড পাওয়ার।

ডিএসইর সার্বিক লেনদেনে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে : ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, সী পার্ল, সিনো বাংলা, মুন্নু সিরামিক, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, গ্রামীণফোন এবং বৃটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ১৯৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ২১৫ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৫১টির, কমেছে ২১৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টির দর। ২১ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।