১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ময়লার দুর্গন্ধে নাকাল শেরপুর পৌরবাসী

  • কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি

নিজস্ব সংবাদদাতা, শেরপুর, ২২ জুলাই ॥ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাগাতার ধর্মঘটের কারণে সোমবার পর্যন্ত টানা নয় দিনে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী শেরপুর পৌরসভাসহ জেলার চারটি পৌরসভার সকল কার্যক্রম। অন্যদিকে শহরের ডাস্টবিনগুলো উপচেপড়া ময়লার দুর্গন্ধে নাকাল হয়ে পড়ছেন শহরবাসী। রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় স্বাভাবিক চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা যায়, রাজস্ব খাত থেকে বেতন-ভাতা প্রাপ্তির দাবিতে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত ১৪ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীতে অংশ নিতে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছেন। এতে একমাত্র পৌর পানি সরবরাহ শাখা ব্যতীত জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, ট্রেড লাইসেন্স প্রদান, কর ও নানা বিলসংক্রান্তসহ অন্য সকল বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে বিশেষ করে কনজার্ভেন্সি বিভাগের আওতায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পয়ঃনিষ্কাশন কার্যক্রমও বন্ধ থাকায় শেরপুর, নালিতাবাড়ী, নকলা ও শ্রীবরদী পৌরসভা এলাকার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচী মুখ থুবড়ে পড়েছে। সোমবার বিকেলে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শহরের গোয়ালপট্টি মোড়, বটতলা কালিরবাজার, খরমপুর, তেরাবাজার, নিউমার্কেট মোড়, থানামোড়, নবীনগর, নতুন বাস টার্মিনাল, অষ্টমীতলা, পূর্বশেরী মোড়, জেলা সদর হাসপাতাল এলাকাসহ বিভিন্ন মোড়ে, প্রান্তেসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থাপিত স্থায়ী ও অস্থায়ী ডাস্টবিনগুলো উপচেপড়াসহ বৃষ্টিপাতে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ছড়িয়ে পড়ছে শহরময়। এতে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। জনসাধারণের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরাও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তাদের নাকে রুমাল দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এছাড়া কোন কোন এলাকায় পাকা ও কাঁচা ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। আবার শহরের নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা বন্যা প্লাবিত হয়ে পড়ায় বেড়েছে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ। আর ওইসব সমস্যা নিয়ে পৌর মেয়রসহ স্থানীয় কাউন্সিররা পড়েছেন বিপাকে।

নাগরিক সমস্যা প্রসঙ্গে নানাজনের সঙ্গে কথা হলে শেরপুর শহরের দমদমা কালীগঞ্জ মহল্লার আশিক জাহান জানান, তার নাগরিকত্ব সনদের প্রয়োজন হলেও পৌরসভার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কয়েকদিন যাবত ঘুরেও তা সংগ্রহ করতে পারছেন না। একই এলাকার ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন আগে তার মা মারা গেলেও মৃত্যুর নিবন্ধন করাতে পারছি না। শহরের সজবরখিলা এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার বলেন, পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের উৎকট গন্ধে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাগাতার ধর্মঘটের কারণে পৌরসভার সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নাগরিক দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। তার মতে, উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজস্ব খাতের আওতায় নেয়া উচিত। তবে দাবি আদায়ের চলমান সংস্কৃতিটাও পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে শেরপুর পৌরসভার সচিব আবু লায়েছ মোঃ বজলুল করিম, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী সংসদের নবনির্বাচিত সভাপতি ফারুক আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ঝন্টু জানান, সরকারের রাজস্ব খাত থেকে বেতন-ভাতাদি প্রাপ্তির দাবিতে সারাদেশে আমাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট চলছে। এজন্য আমরা এখনও ঢাকাতে আন্দোলন কর্মসূচীতে যুক্ত রয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না। এ বিষয়ে শেরপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন বলেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতাদি প্রদানের দাবিতে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাগাতার ধর্মঘটের কারণে নয়দিন যাবত পানি সরবরাহ ব্যতীত কার্যত পৌরসভার সকল কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। তিনি পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপিন্সসহ বিভিন্ন দেশে মেয়র হিসেবে পরিদর্শন করে জানতে পেরেছি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরকারী কোষাগার থেকে প্রদান করা হয়ে থাকে। কাজেই আমাদের দেশের পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিও দাবি জানান তিনি।