১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশদ্রোহিতার শামিল

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৬ জুলাই মঙ্গলবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার এমন ১৬টি দেশের ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাত করেন। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনে’র কর্মকর্তা জয় ক্যানসারার উদ্যোগে প্রিয়া সাহা ওই সম্মেলনে যান। এতে দোষের কিছু নেই। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক হলো, প্রিয়া সাহা বাংলাদেশের বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুরবস্থা ও নিপীড়ন নিয়ে যেসব তথ্য-পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিযোগ করেন ও প্রতিকার চান তা সর্বৈব মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, সর্বোপরি দেশবিরোধী ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। প্রিয়া সাহার বক্তব্য, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীস্টান ব্যক্তি নিখোঁজ (ডিসএ্যাপিয়ার) রয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে মাত্র এক কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছেন। তাদের জন্যও দেশে থাকা অনিরাপদ। তিনি তার বাড়িঘর হারিয়েছেন অর্থাৎ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভূমি দখল করে নিয়েছে একশ্রেণীর ধর্মীয় মৌলবাদী মুসলমান। এর প্রতিকার চেয়ে তিনি কোন বিচার পাননি ইত্যাদি ইত্যাদি। অতঃপর এসব বিষয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহায়তা চান। প্রিয়া সাহার এই সচিত্র বক্তব্য ফেসবুকসহ গণমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই বাংলাদেশে তো বটেই, এমনকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তীব্র নিন্দা, সমালোচনা, ক্ষোভ-বিক্ষোভ, সর্বোপরি প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে এক কথায় ডাহা মিথ্যা, কাল্পনিক, এমনকি দেশদ্রোহী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান। পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও লিখিত বিবৃতি এবং বক্তব্যে সংখ্যালঘু নিপীড়ন ও বিতাড়ন সম্পর্কে প্রিয়া সাহার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে ফিরলে প্রিয়া সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রদত্ত বক্তব্যের যথাযথ নথিপত্র ও প্রমাণ দিতে হবে তাকে। তা না করতে পারলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর বাইরেও দেশের বিভিন্ন সংগঠন এমনকি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংশ্লিষ্ট একাধিক সংগঠনও প্রিয়া সাহার বক্তব্যের প্রতিবাদসহ ঘৃণা প্রকাশ, ক্ষোভ-বিক্ষোভ-প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেছে। ট্রাম্পের কাছে যাওয়ার আগে প্রিয়া সাহার অবশ্য কর্তব্য ছিল তার অভিযোগ লিখিতভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জানানো। অন্যদিকে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্ত জানিয়েছেন প্রিয়া সাহা সংগঠনটির ১১ সাংগঠনিক সম্পাদকের একজন এবং সংগঠনের যে তিনজন প্রতিনিধিকে সেখানে পাঠানো হয়েছে তিনি আদৌ সেই দলের অন্তর্ভুক্ত নন।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে প্রিয়া সাহার পৈত্রিক বাড়িতে সম্প্রতি কোন সাম্প্রদায়িক হানাহানি কিংবা আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেনি। সেখানে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করছেন দীর্ঘদিন থেকে। চলতি বছরের শুরুতে প্রিয়া সাহার ভাইয়ের বাড়ির একটি অব্যবহৃত ঘরে যে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে সেটি রহস্যজনক। পিরোজপুরে অবস্থানরত গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমও উক্ত উপজেলায় হিন্দু-মুসলমানের পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রিয়া সাহা ‘শারি’ নামে একটি এনজিওর পরিচালক এবং ‘দলিতকণ্ঠ’ নামে একটি পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। তার স্বামী একজন সরকারী কর্মকর্তা এবং দুই কন্যা যুক্তরাষ্ট্রে থেকে লেখাপড়া করছেন। নিজ পরিবার তথা মেয়েদের যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীন কার্ড সহজে পাওয়ার জন্যও প্রিয়া সাহা দুরভিসন্ধিমূলকভাবে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ ও মিথ্যাচার করে থাকতে পারেন। যা হোক, এসবের যথাযথ তদন্তপূর্বক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান নির্বিশেষে দেশ ও জনগণের ঐকান্তিক দাবি। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বলেছেন, কোন আইনী ব্যবস্থা নেয়ার আগে প্রিয়া সাহাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার জন্য। বাংলাদেশের মতো পারস্পরিক ধর্মীয় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের একটি দেশে এমন ভিত্তিহীন ও অমূলক অভিযোগ মেনে নেয়া যায় না কোন অবস্থাতেই।