১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খেলাপী ঋণ কমাতে সব ব্যাংকের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে ॥ অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ খেলাপী ঋণ কমাতে দেশের সকল ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, সরকারী ব্যাংকগুলো সুদের হার ইতোমধ্যে সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে এনেছে। সিঙ্গেল ডিজিট না হলে খেলাপী ঋণ বাড়ে। ফলে ব্যবসায়ী ও ঋণগ্রহীতা কেউ লাভবান হন না। ঋণগ্রহীতা ও ব্যবসায়ী উভয়কেই লাভবান করতে আমরা এটি করতে চাইছি। এটি বাস্তবায়ন করা গেলেই আমরা লাভবান হব।

সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। খেলাপী ঋণ কমেছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, খেলাপী ঋণ অবশ্যই কমেছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের জুনে অধিকাংশ ব্যাংকে খেলাপী ঋণ কমে এসেছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেয়ার সময় বলেছিলাম যে আর খেলাপী ঋণ বাড়বে না। কিন্তু আপনারা বিভিন্ন পত্রিকায় লিখেছেন যে বেড়েছে। তবে আমাদের কাছে যে তথ্য আছে সে অনুযায়ী বাড়েনি। তিনি বিভিন্ন সরকারী ব্যাংকের তথ্য তুলে ধরে বলেন, গত ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সোনালী ব্যাংকের খেলাপী ঋণ ছিল ৩০ দশমিক ৩৮ শতাংশ তা মার্চে ২৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ, জনতা ব্যাংক অনেক বেড়ে গেছে সেখানে ছিল ৩৭ দশমিক ৩২ শতাংশ সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অগ্রণী ব্যাংকে ছিল ২০ দশমিক ২৫ শতাংশ এটি কমে মার্চে হয়েছে ১৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। রূপালী ব্যাংক ছিল ১৭ দশমিক ৯২ শতাংশ সেটি হয়েছে ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশ সামান্য একটু বেড়েছে, বেসিক ব্যাংক ৫৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ যা মার্চে একই অবস্থায় আছে। বিডিবিএল ৫৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ তা এখন ৫৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ একটু কমেছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ছিল ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ, রাকাব ছিল ২৩ দশমিক ১৬ শতাংশ এগুলোর সর্বশেষ পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি, তবেএই দুই ব্যাংক বলেছে খেলাপী ঋণ বাড়েনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন জুন নাগাদ সোনালী ব্যাংক ২৫ শতাংশে এ আসছে, জনতা বাংকের ৩৫ শতাংশে, অগ্রণী ব্যাংকেরও কমেছে ১৪ শতাংশ এবং রূপালী ব্যাংক ১৭ এসেছে। তবে বেসিক ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংক একই হার রয়েছে। তিনি বলেন, এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, খেলাপী ঋণ কমে আসছে। খেলাপী ঋণ থেকে এক্সিটের জন্য যে সুযোগ দিয়েছি সেটা বাস্তবায়ন হলে এটা আরও কমে যাবে। তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণে সুদহার আমরা সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসব। সিঙ্গেল ডিজিটে সুদ না হলে খেলাপী ঋণ বাড়ে। এতে করে ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা উভয়ই ক্ষতিতে পড়ে। যদি ৯ শতাংশ সুদও হয় সেটাও পৃথিবীর প্রায় সব দেশের ওপরে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সকালে ১০০ টাকা ছিল। বিকেলে ১০ শতাংশ সুদ যোগ করে হিসেব করে। পরের দিন আবার একটু বাড়ে। কেউ ৩ মাস পরপর এটা হিসাব করে, কেউ ৬ মাস পরপর হিসাব করে। এটা কিন্তু ঠিক না। ১০ শতাংশ সুদ এক বছরের জন্যই সিম্পল সুদ হওয়ার কথা।

ব্যাংকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা আপনাদের অনুরোধ করছি প্রজ্ঞাপন দেয় আর না দেয় এটা আপনারা বাস্তবায়ন করবেন। এতে করে ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা উভয়ই লাভবান হবেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ত্রুটি করে কেউ যদি বলে আমরা ভুল করেছি এখন ঋণ পরিশোধ করব সেটা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু যারা অন্যায়ভাবে ব্যাংক থেকে টাকা দেশের বাইরে নিয়ে গেছে কিংবা টাকা নিয়ে দেশে বালিশের নিচে রেখে দিয়েছে আমরা দেশের প্রচলিত আইন অনুয়ায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে অন্যায়ের কারণে বর্তমানে অনেকেই জেলে রয়েছে। জনতা, ফর্মাসসহ অন্যান্য ব্যাংকের অনেকেই জেলে রয়েছে। শুধু এমডি বা চেয়ারম্যানই নয় পরিবারসহ জেলে রয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা কাউকে ছাড় দেব না। তিনি বলেন, আজকে ব্যাংকিং সেক্টরে নিয়ে একটা এ্যাসেসমেন্ট করলাম। এতে দেখলাম আমরা সেভ। এমনিভাবে প্রতি তিনমাস পরপর আমরা বসব।