১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেয়ারবাজারে দরপতন

ঢাকায় গত রবিবার একদিনে শেয়ারবাজারের সূচক যতখানি কমেছে তা ২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারির পর শতাংশের হিসাবে সর্বোচ্চ। রবিবার কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। এটি উদ্বেগজনক। সর্বশেষ বড় ধরনের ধসের পর নানা সংস্কার উদ্যোগের কারণে বিগত কয়েক বছরে দেশের শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা বিরাজ করছিল। মানুষের মধ্যেও আস্থা ফিরে এসছিল। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এক সেমিনারে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘এতদিনে পুঁজিবাজার একটি ভিত্তি পেয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারের উন্নতি দৃশ্যমান হবে। শেয়ারবাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আইনকানুনে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে।’ দুর্ভাগ্যজনক হলো, চলতি বছরের শুরু থেকেই কমবেশি দরপতনের প্রবণতার ভেতরে রয়েছে পুঁজিবাজার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে বাজারে প্রায় টানা দরপতন চলছে। ৩০ জুন বাজেট পাসের পর ১৪ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচকটি প্রায় ৪০০ পয়েন্ট কমে গেছে। বাজারের সাম্প্রতিক এ দরপতনকে ‘অস্বাভাবিক’ মনে করছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অস্বাভাবিক দরপতনের কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

১৯৯৬ ও ২০১০ সালে যে চক্র শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সরিয়েছে তারাই আবার বাজারে সক্রিয় হয়েছে কিনা সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে। ব্যাংক খাতের তারল্য সঙ্কট এবং খেলাপী ঋণ বেড়ে যাওয়ায় পুঁজিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে কিনা সেটিও বিশ্লেষণের অপেক্ষা রাখে। ২০১০ সালে শেয়ারবাজার ধসের তদন্তে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করা হয়েছিল সেগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্বিবেচনা ইতিবাচক ফল দিতে পারে। সেসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা (ডিমিউচুয়ালাইজেশন) হলেও সেটি যথাযথভাবে হয়নি বলেই প্রতীয়মান হয়।

আমরা এর আগেও বলেছি, শেয়ারবাজারে বুঝেসুজেই বিনিয়োগ করা সমীচীন। শেয়ারবাজারে গিয়ে কিছু লোক যেমন অল্পকালের ভেতর কোটিপতি হয়েছেন, তেমনি আবার মূল পুঁজি হারিয়ে পথে বসে পড়ার মতো অবস্থাও হয়েছে বহু লোকের। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অনেককেই সর্বস্বান্ত হতে হয়েছে। পরবর্তীকালে তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাই শেয়ারবাজার সম্বন্ধে সম্যক ধারণা নিয়েই এখানে বিনিয়োগ করা উচিত বলে আমরা মনে করি।

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ওঠানামা খুব বেশি হয়। তাছাড়া বহু বিনিয়োগকারী না বুঝেই শেয়ারবাজারে পুঁজি খাটান। বুঝেসুজে বিনিয়োগ করলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। বেশিরভাগ শেয়ার অতি মূল্যায়িত। কোম্পানির অস্তিত্ব নেই, অথচ শেয়ারের দাম বাড়ছেÑ এ ধরনের চিত্রও পাওয়া যায়। শেয়ারবাজার আসলে তথ্যের বাজার। যার কাছে তথ্য আছে সেই বেশি লাভবান। অর্থনীতির শাস্ত্র অনুযায়ী শেয়ারবাজার ফাটকা বাজারেরই অংশ এবং এর মূল কথাই হচ্ছে ঝুঁকি। এটা ঝুঁকির বাজার। সুতরাং ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখেই কেবল এই বাজারে টিকে থাকা যায়। আরেকজনকে দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া সঠিক পদ্ধতি হতে পারে না। কোম্পানি প্রোফাইল দেখে বিনিয়োগ করাই বিচক্ষণতা। কখন কিনতে হয় আর কখন বিক্রি করতে হয় সেটি বুঝতে হয়। মোটকথা, জেনে-বুঝেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। মানুষ আশা করে, সঙ্কট কাটিয়ে শেয়ারবাজার আবারও চাঙা হয়ে উঠবে। কিন্তু সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য চাই সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ।