২০ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাফল্যের সোনারোদে ইংল্যান্ডের ক্রীড়াঙ্গন

  • টি ইসলাম তারিক

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ফুটবলের জনকরা চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও চৌকস পারফরমেন্স প্রদর্শন করে সেমিফাইনালে খেলেছে * ভাগ্য সহায় থাকলে হয়ত চ্যাম্পিয়নও হতে পারত * ফুটবল বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত শিরোপার ছোঁয়া না পেলেও সদ্য শেষ হওয়া ক্রিকেট বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড * যা দেশটির ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপের ট্রফি জয় * এর আগে চলতি বছরই অর্থাৎ ২০১৮-১৯ ক্লাব ফুটবল মৌসুমেও চোখ ধাঁধানো সাফল্য পেয়েছে ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলো * ইউরোপিয়ান ফুটবলে সবচেয়ে মর্যাদার আসর চ্যাম্পিয়ন্স লীগ * ২০১৮-১৯ মৌসুমে আসরের ফাইনালে খেলেছে লিভারপুল ও টটেনহ্যাম হটস্পার * চ্যাম্পিয়ন্স লীগে অল-ইংলিশ ফাইনাল নিশ্চিতের পর ইউরোপের দ্বিতীয় সেরা আসর ইউরোপা লীগেও দুই ইংলিশ ক্লাব ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করে। ক্লাব দুটি হলো চেলসি ও আর্সেনাল

এমন স্বর্ণসময় বোধহয় আর আসেনি ইংলিশ ক্রীড়াঙ্গনে। অতীতের বদনাম ঘুচিয়ে ইংল্যান্ডের ক্রীড়াঙ্গন নিজেদের ইতিহাসে সাফল্যময় সময় অতিবাহিত করছে। কি ক্লাব, কি জাতীয় দল সবখানেই তাক লাগানো সাফল্য পাচ্ছে ইংলিশ ক্রীড়াঙ্গন।

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ফুটবলের জনকরা চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও চৌকস পারফরমেন্স প্রদর্শন করে সেমিফাইনালে খেলেছে। ভাগ্য সহায় থাকলে হয়ত চ্যাম্পিয়নও হতে পারতো! ফুটবল বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত শিরোপার ছোঁয়া না পেলেও সদ্য শেষ হওয়া ক্রিকেট বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। যা দেশটির ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপের ট্রফি জয়। এর আগে চলতি বছরই অর্থাৎ ২০১৮-১৯ ক্লাব ফুটবল মৌসুমেও চোখ ধাঁধানো সাফল্য পেয়েছে ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলো। ইউরোপীয়ান ফুটবলে সবচেয়ে মর্যাদার আসর চ্যাম্পিয়ন্স লীগ। ২০১৮-১৯ মৌসুমে আসরের ফাইনালে খেলেছে লিভারপুল ও টটেনহ্যাম হটস্পার। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে অল-ইংলিশ ফাইনাল নিশ্চিতের পর ইউরোপের দ্বিতীয় সেরা আসর ইউরোপা লীগেও দুই ইংলিশ ক্লাব ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করে। ক্লাব দুটি হলো চেলসি ও আর্সেনাল।

এর মধ্য দিয়ে ইংলিশ ক্লাবগুলোর জয়জয়কারই শুধু হয়নি, গৌরবময় অনেক রেকর্ডের সঙ্গী হয়েছে তারা। ক্লাব ফুটবলের দুই সেরা আসরে অল-ইংলিশ ফাইনাল হয়। যাতে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে চ্যাম্পিয়ন হয় লিভারপুল আর ইউরোপা লীগে চেলসি। এবারই প্রথমবারের মতো ক্লাব পর্যায়ে ইউরোপের শীর্ষ দুই ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনালে পা রাখে একই দেশের চারটি ক্লাব। এর আগে ক্লাব পর্যায়ে ইউরোপের শীর্ষ কোন প্রতিযোগিতার ফাইনালে দুটি দলই ইংল্যান্ডের এমন ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুইবার। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে উয়েফা কাপের ফাইনালে ওলভারহ্যাম্পটনকে হারিয়েছিল টটেনহ্যাম। আর ২০০৭-০৮ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে চেলসিকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ইউরোপা লীগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফাইনাল মিলে চারটি দলের মধ্যে তিনটি স্প্যানিশ দল ছিল একবার। ২০১৫-১৬ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে মুখোমুখি হয় মাদ্রিদের দুই ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল মাদ্রিদ। আর ইউরোপা লীগের শিরোপা জয় করে সেভিয়া।

অর্থাৎ সার্বিক বিচারে অল-ইউরোপিয়ান আসরে ইংল্যান্ড ও স্পেনের ক্লাবগুলোর ধারেকাছে নেই অন্য কোন দেশ। এবার স্প্যানিশ ক্লাবগুলোর সাফল্য ছাপিয়ে গেছে চার ইংলিশ জায়ান্ট। ইংল্যান্ডের ফুটবলের জন্য এর চেয়ে সুখের আর কি হতে পারে! তাদেরই চার ক্লাব লিভারপুল, টটেনহ্যাম হটস্পার, চেলসি ও আর্সেনাল চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ও ইউরোপা লীগের ফাইনাল মহারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। স্বাভাবিকভাবেই ইংলিশ ক্লাবগুলোর প্রশংসায় ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ইংল্যান্ডের সাবেকরা তো বটেই, অন্য দেশের কিংবদন্তিরাও ইংলিশ ক্লাবগুলোর প্রশংসায় ব্যতিব্যস্ত হয়েছেন।

ফুটবলের এই ডামাডোল শেষ হওয়ার পরপরই আরও একটি গৌরবময় অর্জনে সিক্ত হয়েছে ইংলিশ ক্রীড়াঙ্গন। জনক হওয়া সত্ত্বেও এতদিন ওয়ানডে ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি তারা। গত ১৪ জুলাই ঐতিহাসিক লর্ডসে ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ম্যাচ খেলে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। ১৯৭৫ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হওয়ার পর ৪৪ বছরে এটাই প্রথম শিরোপা ইংলিশদের। এর আগে তিন তিনবার ফাইনালে গিয়েও হারের বেদনায় নীল হতে হয়েছিল তাদের। এবার ধারাবাহিকভাবে নান্দনিক ক্রিকেট খেলে আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন স্টোকস, বাটলাররা। গত চার/পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে প্রত্যাশিতভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইয়ন মরগানের দল।

তবে এ জন্য ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ম্যাচ খেলতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনাল মহারণ দু’দফা ‘টাই’ হয়। প্রথমে ৫০ ওভার করে ১০০ ওভারের খেলা ‘টাই’ হয়। এরপর অবিশ্বাস্যভাবে এক ওভার করে খেলা সুপার ওভারও ‘টাই’ হয়। সঙ্গতকারণেই কোন দল না হারলেও পুরো ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি মারার কারণে ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়। আর না হেরেও বেদনায় সিক্ত হতে হয় কিউইদের। সবমিলিয়ে এখন অবলীলায় বলা যায়, ইংল্যান্ডের ক্রীড়াঙ্গন স্মরণকালের সাফল্যময় সময় অতিবাহিত করছে।

জনক হওয়া সত্ত্বেও এতদিন ওয়ানডে ক্রিকেটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে না পারার আক্ষেপ ছিল ইংল্যান্ডের। দীর্ঘ ৪৪ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে গত ১৪ জুলাই প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংলিশরা। স্বাভাবিকভাবেই এর পর থেকে পুরো ইংল্যান্ডজুড়ে চলছে উৎসব আর আনন্দ। আনন্দের এই বন্যায় শামিল হয়েছেন সবাই। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও রানী এলিজাবেথও উৎসবে মাতোয়ারা হয়েছেন। এর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী বীরদের নিয়ে উৎসব করেছে ইংল্যান্ড এ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। ওভালে বিজয় প্যারেডের আয়োজন করা হয়। যেখানে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন ভক্ত-সমর্থকরা। এছাড়া লন্ডনের ১০নং ডাইনিং স্ট্রিটে মঞ্চ করে সেখানে ইয়ন মরগানের দলকে দেয়া হয় রাজকীয় সংবর্ধনা।

ইংল্যান্ডের অবিস্মরণীয় সাফল্যগাথায় খুশির জোয়ার বইছে পুরো ইংল্যান্ড জুড়ে। অভিনন্দন জানাতে বিজয়ী বীরদের ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে আমন্ত্রণ জানান তার নিজ বাসভবন লন্ডনের ১০নং ডাইনিং স্ট্রিটে। সেখানেই স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রপি নিয়ে যান স্টোকস, রুট, বাটলাররা। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয় ও উদযাপন নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বলেন, ফাইনালে অসাধরণ পারফরমেন্স করেছে পুরো ইংল্যান্ড দল। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে যা করা দরকার তাই করেছে তারা। বিচার বুদ্ধি এবং সাহস দেখিয়েছে মরগানরা। ঘরের মাটিতে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের এমন অর্জন ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, এটা সত্যিই ভাল লাগার মতো ব্যাপার যে, কত শিশু এই জয় দেখে ব্যাট ও বল হাতে নিতে অনুপ্রাণিত হবে। আশা করি, তারাও ভাল ক্রিকেটার হবে এবং ভবিষ্যতে আমাদেরকে বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেবে।

প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিশ্বজয়ী ইংল্যান্ড দলকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। রানী তার অভিনন্দন বার্তায় লিখেন, বিশ্বকাপের ফাইনালে রোমঞ্চকর জয় দিয়ে শিরোপা জয়ী ইংল্যান্ডকে আমি এবং প্রিন্স ফিলিপ উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী ও রানী এলিজাবেথের অভিনন্দন ছাড়াও দ্য ওভালে বিজয় প্যারেডের আয়োজন করে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। সেখানে বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপন করতে আসেন ইংলিশ খেলোয়াড়রা। কথা বলা, ছবি তোলার পাশাপাশি একসঙ্গে নেচে গেয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন তারা। ক্রিকেটারদের সঙ্গে এই উৎসবে শামিল ছিলেন হাজার হাজার ভক্ত-সমর্থক। সমর্থকদের সামনে আনন্দ উল্লাস, ছবি তোলা, সেলফিতে মেতে ওঠেন মরগানের দল। এ সময় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে করে অধিনায়ক মরগান বলেন, সকলকে ধন্যবাদ, মাঠে এসে দলকে উৎসাহ ও সমর্থন দেয়ার জন্য। আপনাদের মনের আশা পূরণ করতে পেরে আমরা গর্বিত।