২০ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আনসারের ক্রীড়াবিদদের প্রায় ৪৫ লাখ টাকার প্রাইজমানি প্রদান

আনসারের ক্রীড়াবিদদের প্রায় ৪৫ লাখ টাকার প্রাইজমানি প্রদান

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ২০১৮ সালে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সাফল্য বয়ে আনা পাঁচ শতাধিক ক্রীড়াবিদদের প্রায় ৪৫ লাখ টাকার প্রাইজমানি দিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি। মঙ্গলবার খিলগাঁওস্থ বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির সদর দপ্তরে এসব ক্রীড়াবিদদের হাতে প্রাইজমানি তুলে দেন আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ, এনডিসি, পিএসসি, জি। এ সময় আনসারের পরিচালক (ক্রীড়া) নুরুল হাসান ফরিদী ও ক্রীড়া অফিসার রায়হান উদ্দিন ফকিরসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের ২৯টি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি ক্রীড়া দল ১৬০ স্বর্ণ, ৯৬ রৌপ্য ও ৯০ তাম্রপদক জেতে। এর মধ্যে ২০টি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন, পাঁচটিতে রানার্সআপ এবং একটিতে তৃতীয় ও তিনটিতে চতুর্থ হয়।

এছাড়া জাপানের টোকিও ২০২০ অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী বাংলাদেশের অন্যতম সেরা তীরন্দাজ রোমান সানা, গৌহাটি সাউথ এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত এবং সদ্যসমাপ্ত জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে তিনটি ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন শাপলা আক্তারের হাতে প্রাইজমানি তুলে দেয়া হয়।

মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ বলেন, ‘অনেক ক্রীড়াবিদই ভাতা সৈনিক হিসেবে কাজ করছেন। আমরা সব ক্রীড়াবিদকেই পর্যায়ক্রমে স্থায়ী ভাতার আওতায় নিয়ে আসছি। ক্রীড়াবিদদের মানোন্নয়নের জন্য গাজীপুরের সফিপুরে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এ্যাথলেটিক্স টার্ফ বসছে, সুইমিং পুল তৈরি করা হবে। ক্রীড়াবিদদের মানোন্নয়নের জন্য আমরা সব ব্যবস্থাই করবো।’ পরিচালক (ক্রীড়া) নুরুল হাসান ফরিদী বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক বছর বড় আকারে আয়োজন করে ক্রীড়াবিদদের প্রাইজমানি দিয়ে থাকি। আগামীতেও দেয়ার চেষ্টা করবো।’ ক্রীড়া অফিসার রায়হান উদ্দিন ফকির বলেন, ‘প্রাইজমানিতে উৎসাহ পান ক্রীড়াবিদরা। যার প্রমান ফি বছর আনসারের ক্রীড়াবিদদের পদক জয়। সামনেও আনসার ক্রীড়া দল সেরা পারফরম্যান্স দেখাবে আশা করি।’

টোকিও অলিম্পিকে সরাসরি খেলার সুযোগ পাওয়া আরচার রোমান সানা বলেন, ‘আনসার বাহিনীতে আসার পেছনে স্যারদের সহানুভূতি ছিল। উনারা বলেছিলেন, তুমি আনসারে আসো। সকল সুবিধা দেয় হবে। আসলে আমার চাহিদার চেয়ে বেশি দেয়া হয়েছে। সবাই আমাকে সহযোগিতা করেন। অনুষ্ঠান করে আর্থিকভাবে আনসার যেভাবে সহযোগিতা করছে, তাতে আমাদের পরিবারেরও অনেক সাহায্য হয়। তাই আমরা খেলায় মনযোগ দিতে পারছি। অনেক টুর্নামেন্ট খেলতে গেলেও আনসার সহযোগিতা করে। তাছাড়া অলিম্পিকে খেলতে যাবো, এটাই আমার জন্য বড় প্রাপ্তি।’ রোমান আরও বলেন, ‘অলিম্পিকের আগে ভালো কিছু দেখানোর ইচ্ছা আছে। অলিম্পিকের আগে যত খেলবো অভিজ্ঞতা তত বাড়বে।’

ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত বলেন, ‘সাউথ এশিয়ান গেমসের পর দু’চারটি আন্তর্জাতিক টুর্নামন্টে পদক এসেছি। যা মিডিয়ায় আসেনি। পারফরম্যান্সের কথা বললে নিজেকে যাচাই করার চেষ্টা করেছি। গেমসের আগে যে টুর্নামেন্টগুলো পাবো তাতে ভালো করার চেষ্টা করবো। গুয়াহাটির গেমসে যেহেতু স্বর্ণপদক পেয়েছি, এবারও পাবো। তবে অন্য দেশের ক্রীড়াবিদদের তুলনায় আমরা সরকারী সহযোগিতা কম পাই। যার কারণে আমাদের ক্রীড়াবিদরা বেশিদূর এগুতে পারে না।’