১৯ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেখ হাসিনার নির্দেশ বন্যাকবলিত একজনও যেন না খেয়ে না থাকে ॥ রাজ্জাক

শেখ হাসিনার নির্দেশ বন্যাকবলিত একজনও যেন না খেয়ে না থাকে ॥ রাজ্জাক

নিজস্ব সংবাদদাতা, মানিকগঞ্জ, ২৩ জুলাই ॥ কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আওয়ামী লীগের সরকারের সময় দেশে একজন মানুষও না খেয়ে মারা যায়নি। শেখ হাসিনার নির্দেশ বন্যাকবলিত একটি মানুষও যেন না খেয়ে না থাকে। প্রতিটি বন্যাদুর্গতদের বাড়িতে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হবে। বন্যার সময় যেমন খাদ্যসামগ্রী দেয়া হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসনে সহযোগিতা করা হবে। মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চল বাচামারা, শিবালয় উপজেলার অন্বয়পুর এবং বিকেলে হরিরামপুর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটির পক্ষ থেকে বন্যাকবলিতদের ত্রাণ সহায়তা প্রদানকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী সংসদ সদস্য মীর্জা আজম, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল, স্থানীয় সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন, মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বাবুল মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহীউদ্দিন আহমেদ, শিবালয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান জানু, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম রাজা, হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ কমিটির পক্ষ থেকে মানিকগঞ্জের তিন উপজেলায় নদী ভাঙ্গন ও বন্যাকবলিত ৩ হাজার পরিবারের মধ্য ৩০ কেজি করে চাল, ডাল, তেল, চিড়া, আলু ও লবণ বিতরণ করা হয়।

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপি নেতাদের বন্যা নিয়ে কোন মাথাব্যথ্যা নেই, বন্যার্তদের সহযোগিতা করারও কোন উদ্যোগ নেই। বিএনপি নেতা রিজভী শুধু মাত্র দলীয় অফিসের বসে প্রেসরিলিজ দেন আর সাংবাদিকরা তা মিডিয়াতে তুলে ধরেন। এছাড়া বিএনপি নেতাদের কোন কাজ নেই। ২০০১ সনে থেকে ২০০৬ সন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে ছিল। ওই সময় উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা ও বন্যার সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সারাদেশে দুর্গতদের পাশে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। গত ১১ বছরে বিএনপির কোন নেতা কর্মী দুর্গতদের পাশে দাঁড়ায়নি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশ নদীমাতৃক দেশ, ভাঙ্গন ও বন্যা স্বাভাবিক ব্যাপার। বর্তমান সরকার বন্যা ও ভাঙ্গন মোকাবেলায় স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। চাঁদপুর থেকে পদ্মা ও যুমনা নদী ড্রেজিং করা হবে। ড্রেজিংয়ের মাটি নদীর পাড়ে ফেলে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এতে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পাবে এবং নদীর পাড় বাঁধ নির্মাণ হলে ভাঙ্গন রোধ হবে।

কৃষি মন্ত্রী আরও বলেন, বন্যা সবচেয়ে ক্ষতি হয় কৃষিতে। বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন করার জন্য কৃষকদের বিনামূল্যে সার, সরিষার বীজ, ভুট্টার বীজ, আলু বীজসহ বিভিন্ন সব্জি বীজ প্রদান করা হবে। এর জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আশা করা যায় কৃষি পুনর্বাসনে কোন সমস্যা হবে না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শুধু বন্যা নয়, যে কোন দুর্যোগে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াবে।