২৪ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাতক্ষীরায় সাত বছরে একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা

  • নিরাপত্তা দাবি

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা ॥ ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৭ বছরে ৯ বার হামলা হয়েছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলামের পরিবারের ওপর। ৭ বছরে এই পরিবারের তিনজনকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা চালিয়ে হত্যা করেছিল নজরুল ইসলামের ভাই সিরাজুল ইসলামকে। এরপর ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল সাতক্ষীরা শহরে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে নজরুল ইসলামের ভাইপো সিরাজুল ইসলামের ছেলে রাসেল কবিরকে। গত ১৩ জুলাই কবিরের মামা আকবর আলীকে সদরের বালিয়াডাঙ্গায় একটি মসজিদের মধ্যে মারপিট করে দুর্বৃত্তরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি গত ১৬ জুলাই ঢাকায় মারা যান। সর্বশেষ নজরুল ইসলামকে (৪৮) গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। সোমবার (২২ জুলাই) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে শহরতলীর কাশেমপুর হাজামপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে নজরুল ইসলামকে।

নিহত নজরুল ইসলাম আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের কুঁচপুকুর গ্রামের মৃত নেছার উদ্দিনের ছেলে। মৃত্যুর পূর্বে নজরুল বহুবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাতকার দিয়ে বলেছিলেন, শক্ররা যে কোন সময় তার ও তার পরিবারের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালাতে পারে। নজরুলের পরিবার জীবনের ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও তাদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন বিশেষ তৎপরতা ছিলনা বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত তার পরিবারের ওপর নয়বার সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এসব হামলায় তার ভাই সিরাজুল ইসলাম ও ভাইপো যুবলীগ নেতা রাসেল নিহত হন। নজরুল ইসলাম নিজের নিরাপত্তার জন্য ’১৩ সাল থেকে দীর্ঘ সময় তিনি সদর থানায় রাত যাপন করতেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চলমান সংঘাতের মধ্যে সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার ভাই সিরাজুল ইসলামকে (৫৩) গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর রাতের এই হামলার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করেছিলেন আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তৎকালীন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম। ওই হামলার সময় নজরুলকে বাড়িতে না পেয়ে তার বড়ভাই সিরাজুল ইসলাম সরদারকে হত্যা করা হয়। ওই হামলায় আহত কওছার আলী একই গ্রামের আফতাব সরদারের ছেলে। তিনি নজরুল ও সিরাজুলের ভগ্নিপতি ।

একই পরিবারের ওপর ক্রমাগত হামলা ও হত্যার ঘটনায় উদ্বিগ্ন নজরুলের স্ত্রী পুত্রসহ স্বজনরা । পরিবারের সদস্যরা ক্রমাগতভাবে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হওয়ার ঘটনায় এই পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পূর্বের হত্যাগুলোর সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় এই পরিবারটির দিন কাটে আতঙ্কে । নজরুলের ভাই সিরাজুলকে বাড়িতে ঢুকে বোমা মেরে হত্যার ঘটনায় মামলার বাদী হয়েছিলেন তার পুত্র রাসেল কবির। আর ’১৭ সালে সাতক্ষীরা শহরের রাজারবাগান এলাকায় সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে নিহত সিরাজুলের পুত্র যুবলীগ কর্মী রাসেলকে। এই হত্যার ঘটনায় রাসেলের মা আমেনা খাতুন বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ ৫ জনকে আটক করে। এ সকল আসামিরা এখন জামিনে রয়েছে।

সর্বশেষ নজরুল ইসলামকে হত্যার ঘটনায় তার পুত্র এনামুল হক পলাশ বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে মঙ্গলবার জনকণ্ঠকে বলেন, এই হত্যা মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ইউপি সদস্যের সঙ্গে বিরোধের কারণে তার বাবা খুন হতে পারে নিহতের ছেলের এমন অভিযোগের বিষয়ে ওসি জানান, বিষয়গুলো আমলে নিয়েই তদন্ত কাজ চালানো হচ্ছে। নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে পলাশ এখন তার ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।