১৮ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উজবেকিস্তানে ঝড়ের গতিতে সংস্কার

  • ধতৌফিক অপু

উজবেকিস্তানে বর্তমান সরকার রুদ্ধশ্বাস গতিতে সংস্কারের পথে এগিয়ে চলছে। অর্থনৈতিক সংস্কারের চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেশটির প্রেসিডেন্ট সাফকাত মিরজিওইয়েভ কিরঘিজস্তানের সঙ্গে সীমান্ত আবার খুলে দিয়েছেন। দুই দেশের দুই নগরী আবিজান ও ওশের মধ্যে বাণিজ্য চলছে। সিমেন্ট থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক সামগ্রী পর্যন্ত নানা পণ্যবাহী ট্রাক আসা-যাওয়া। উজবেক রাজধানী তাসখন্দে হোটেলগুলো পশ্চিমী পরামর্শক, সৌদি শাহজাদা ও এশিয়ার উৎসাহী বিনিয়োগকারীদের কর্মব্যস্ততায় মুখরিত।

বর্তমান পরিবেশটা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক দ্বারোন্মোচনের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে উজবেকিস্তানে কখনই সত্যিকার অর্থে কমিউনিজমের পতন ঘটেনি। প্রতিশোধ রাষ্ট্র কাজাখস্তান পুঁজিবাদ গ্রহণ এবং বিদেশী বিনিয়োগকে স্বাগত জানালেও ২০১৬ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট ও লৌহমানব ইসলাম করিমভ উজবেক অর্থনীতিকে বহুলাংশেই রুদ্ধ রেখে তাতে রাষ্ট্রের প্রাধান্য বজায় রেখেছিলেন। বেসরকারী খাতকে খুচরা ব্যবসা ও অন্যান্য সার্ভিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। মুদ্রা ও পুঁজির ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকার ফলে শুধু ডলার নয়, যে কোন ধরনের নগদ অর্থের সরবরাহ স্বল্পতা দেখা দেয়। দুর্নীতিবাজ অফিসাররা রাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বানচাল করে দিত। প্রায় ২০ লাখ উজবেক কাজের সন্ধানে রাশিয়ায় চলে যায়। সরকার প্রাকৃতিক গ্যাস ও তুলা রফতানির ওপর একচেটিয়া আধিপত্য কায়েম করে নিজের অর্থের সংস্থান করে। নিরাপত্তা সার্ভিসগুলোর দোর্দ- প্রতাপের কাছে সবকিছু ম্লান হয়ে থাকত।

করিমভের উত্তরসূরি মিরজিওইয়েভ কখনই প্রকাশ্যে করিমভের নীতি পরিত্যাগ না করলেও গত দু’বছর তিনি তার নীতি ও কর্মসূচী বানচাল করার পেছনেই ব্যয় করেছেন। তিনি আগের সর্বক্ষমতাধর নিরাপত্তা প্রধান রুস্তম ইনোইয়াটভকে বরখাস্ত করেছেন। ব্যবসায়বান্ধব টেকনোক্র্যাটদের এখন কদর করা হচ্ছে। পুঁজি ও মুদ্রার ওপর সরকারের বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয়া হয়েছে। বাধ্যতামূলক শ্রম নাটকীয়ভাবে খর্ব করা হয়েছে এবং সীমান্তগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। উপঅর্থমন্ত্রী রাভশান গুলইয়ামভ বলেন আমরা ২০ বছর সময় নষ্ট করেছি। সেটা পুষিয়ে নিতে আমাদের অনেক কিছুই করতে হবে।

নিবন্ধিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাগত বছরে দ্বিগুণ হয়েছে বিদেশী বিনিয়োগ চারগুণ বেড়েছে যদিও এর প্রবৃদ্ধির হার সম্প্রতি হ্রাস পেয়েছে। অর্থমন্ত্রী জামশেদ কুচকারভ বলেন এ পর্যন্ত যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে সেগুলো সহজেই ঘটেছে। কারণ সাধারণ মানুষের কাছে সেগুলো জনপ্রিয় বলে বিবেচিত হয়েছে। তবে ইউটিলিটির মূল্য বৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো বিরাষ্ট্রীয়করণ এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র কৃষির উৎপাদন শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা অনেক বেশি বিতর্কিত হবে। তদুপরি জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বয়স ৩০ বছরের নিচে বিধায় তাদের জন্য কর্মসংস্থানের গতি বাড়ানোর প্রয়োজন আছে।

দেশের বেশিরভাগ আবাদযোগ্য জমিতে তুলা ও গম চাষ করা হয়ে থাকে যা আর্থিক ও পরিবেশগতভাবে তেমন অর্থ বহন করে না। এই দুই ফসলে প্রচুর পানি লাগে অথচ মুনাফা খুব একটা হয়নি। সরকার এখন কৃষকদের এই দুই ফসলের পরিবের্ত ফল ও সবজি চাষে উৎসাহিত করছে। এক হেক্টর তুলা চাষে মাত্র দু’জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এক হেক্টর টমোটো চাষে ১০ জনের কর্মসংস্থান হয়। তাও আবার পরিবহন ও মজুদের হিসাবটা না ধরে। উজবেকের চেরি ও টমেটোর জন্য ক্ষুধার্ত চীন ও রাশিয়ার বিশাল বাজার পাশেই রয়েছে সরকার কাঁচা তুলা রফতানি দারুণভাবে সীমিত করে দেশীয় বস্ত্রশিল্প গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। বস্ত্র রফতানি ১০ বছর আগে ছিল বছরে ১০ কোটি ডলার। গত বছর তা ১৯০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৫ সাল নাগাদ তা ৭শ’ কোটি ডলারের উন্নীত করা। উজবেক কূটনীতিকদের বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে কিছু কাজও হচ্ছে। পাশ্চাত্যের এক কূটনীতিকও বলেন, উজবেকরা এত দ্রুতগতিতে সংস্কারকে এগিয়ে নিচ্ছে যে তাতে মুগ্ধ হতে হয়। এটা বিদেশী বিনিয়োগের জন্য সহায়ক হবে।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট