২৬ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কঙ্গোয় ফের যুদ্ধের পদধ্বনি

কঙ্গোর মাটিতে সরকারীভাবে কোন বিদেশী সৈন্য না থাকলেও বর্তমানে সহিংসতায় তাদের অতীতের মতো জড়িয়ে পড়ার সমূহ আশঙ্কা আছে। ২০০৩ সালে যেমন হয়েছিল তেমনি এবারও হাজার হাজার আতঙ্কিত সিভিলিয়ান স্কুল, গির্জা ও ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। কঙ্গোর সেনাবাহিনী সংঘর্ষ উপদ্রুত এলাকায় কিছু সৈন্য পাঠিয়েছে। তেমনি সৈন্য পাঠিয়েছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী। কিন্তু সংঘর্ষ যে ব্যাপকতা লাভ করেছে তাতে এরা কার্যকর কিছু করতে পারছে না। মিলিশিয়াদের অনেক স্থানে আপাতত হটিয়ে দেয়া হয়েছে বটে। তবে তাদের হাতে প্রচুর অস্ত্র আছে এবং তারা সুযোগের অপেক্ষায় আত্মগোপন করে আছে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো আবার অশান্ত হয়ে উঠছে। সেখানে নতুন করে যুদ্ধের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশে পশুচারণজীবী হেমা সম্প্রদায় এবং কৃষিজীবী লেংদু সম্প্রদায় ফের সহিংসতায় মেতে উঠেছে। সশস্ত্র লোকেরা বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়ে, লোকজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে গ্রামের পর গ্রাম জনশূন্য করে ফেলেছে। একটি গ্রামেই কোলের শিশু, কিশোরসহ ১৬১ জনের গণকবরের সন্ধান মিলেছে।

বুনিয়ার সমাজকর্মীদের হিসাবে কমপক্ষে ২৭৫ জন নিহত হয়েছে। প্রায় ৪ লাখ নর-নারী পালিয়ে গেছে। হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের বেশিরভাগই হেমা সম্প্রদায়ের। ২০১৮ সালের প্রথমভাগের পর এটাই কঙ্গোর ভয়াবহতম সহিংসতা। অনেকের ধারণা হেমা ও লেংদু সম্প্রদায়ের জাতিগত ঘৃণা ও বিদ্বেষ থেকে সংঘর্ষের উৎপত্তি। কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। জাতিগত বিদ্বেষ আছে সত্য। তবে এই বিদ্বেষকে বাইরের শক্তিগুলো লালন করে হানাহানির কাজে লাগিয়েছে। বেলজিয়ান উপনিবেশবাদীরা হেমা সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেছিল। তাদের ভাল ভাল পদ দিয়েছিল। ইতুরির উৎকৃষ্টতম জমিগুলো তাদের দিয়েছিল। লেংদু উপজাতি উপেক্ষিত, অবহেলিত, বঞ্চিত থেকেছে। জনসংখ্যার দিক দিয়ে বৃহত্তর এই সম্প্রদায়টির মনে সেই থেকে ক্ষোভ ও বিদ্বেষের জন্ম নেয়। উপনিবেশবাদীর দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা লালন করে জিইয়ে রেখেছিল বিশেষ উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য। তাদের লোলুপ দৃষ্টি ছিল ইতুরি নদীর তলদেশের স্বর্ণ ও এলবার্ট হ্রদের তলদেশের তেলের ওপর।

সেই থেকেই এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ ও হানাহানি চলে আসছে। সন্দেহ করা হয় এবারের বিরোধে উস্কানি দিয়েছে কঙ্গোর অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলানো প্রতিবেশী দেশগুলোর একটি। সেই দেশটি লেংদু সম্প্রদায়ের প্রচুর পরিমাণে পেট্রোল, অস্ত্র ও গোলাবারুদ যুগিয়েছে। কাজেই বর্তমান সহিংসতা আপনা থেকে হয়নি। এটা সুপরিকল্পিত। ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত স্থায়ী দ্বিতীয় কঙ্গো যুদ্ধের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের অন্যতম মিত্র ছিল ইতুরি। মিলিশিয়ারা ৫৫ হাজার লোককে হত্যা করে। সহিংসতার সিংহভাগের জন্য রুয়ান্ডা ও উগান্ডার হানাদার সেনাবাহিনীকে দায়ী করা যেতে পারে।

দুটো দেশই কঙ্গোর প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনের জন্য প্রক্সি মিলিশিয়াদের ব্যবহার করেছিল। উগান্ডা সশস্ত্র লেংদু মিলিশিয়াদের সমর্থন দেয়। অন্যদিকে রুয়ান্ডা সমর্থন দেয় হেমা মিলিশিয়াদের। দু’পক্ষের হানাহানি ও হত্যাযজ্ঞ তুঙ্গে পৌঁছার পর আন্তর্জাতিক চাপে ২০০৩ সালে বাইরের সব পক্ষ সৈন্য সরিয়ে নেয়। কঙ্গোর মাটিতে সরকারীভাবে কোন বিদেশী সৈন্য না থাকলেও বর্তমানে সহিংসতায় তাদের অতীতের মতো জড়িয়ে পড়ার সমূহ আশঙ্কা আছে। ২০০৩ সালে যেমন হয়েছিল তেমনি এবারও হাজার হাজার আতঙ্কিত সিভিলিয়ান স্কুল, গির্জা ও ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। কঙ্গোর সেনাবাহিনী সংঘর্ষ উপদ্রুত এলাকায় কিছু সৈন্য পাঠিয়েছে। তেমনি সৈন্য পাঠিয়েছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী। কিন্তু সংঘর্ষ যে ব্যাপকতা লাভ করেছে তাতে এরা কার্যকর কিছু করতে পারছে না। মিলিশিয়াদের অনেক স্থানে আপাতত হটিয়ে দেয়া হয়েছে বটে। তবে তাদের হাতে প্রচুর অস্ত্র আছে এবং তারা সুযোগের অপেক্ষায় আত্মগোপন করে আছে। ইতোমধ্যে ৫ লাখ নাগরিক গৃহহারা হয়েছে এবং ৪ লাখ লোক সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আশপাশের দেশগুলোতে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছে।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট