২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেরপুরে বন্যার প্রভাব পড়েছে কামারপাড়াতেও

শেরপুরে বন্যার প্রভাব পড়েছে কামারপাড়াতেও

নিজস্ব সংবাদদাতা, শেরপুর ॥ ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতি বছরই এক মাস ব্যস্ত সময় পার করেন শেরপুরের কামাররা। এবারও কোরবানির পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম তৈরিতে তাদের ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও কামাররা বলছেন, সাম্প্রতিক বন্যার প্রভাব পড়েছে তাদের কর্মকাণ্ডেও। এজন্য তাদের নেই তেমন ব্যস্ততা। এরপরও এবার কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভও হচ্ছে না তাদের। সদর উপজেলার হাওড়া কামারপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে পাওয়া গেছে এমন তথ্য।

জানা যায়, পশু কোরবানি করার অন্যতম অনুষঙ্গ ছুরি, দা, বটি ও চাপাতি। সারা বছর ওইসব জিনিসের চাহিদা তেমন একটা না হলেও কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তাই কোরবানী ঈদের একমাস আগে থেকেই ব্যস্ত সময় পার করেন জেলার সদর উপজেলার হাওড়া কামারপাড়া, মোবারকপুর, শ্রীবরদী, নকলা, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীর কামারপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানের কামাররা। তবে এবার ঈদের মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি থাকলেও সম্প্রতি হয়ে যাওয়া বন্যার প্রভাবে গতবারের অর্ধেকও বেচা-কেনা হচ্ছে না বলে জানান স্থানীয় কামাররা।

সরেজমিনে কামারপাড়াতে গিয়ে দেখা যায়, হাতুড়ি পেটানোর টুং-টাং শব্দে তৈরি হচ্ছে ছুরি, দা, বটিঁ ও চাপাতি। কয়েকটি দোকানে মোটরচালিত মেশিনে শান দেয়ার কাজও চলছে। তবে এখনও পুরোদমে বিক্রি শুরু হয়নি। বর্তমানে প্রতিটি দা তৈরিতে প্রকারভেদে মজুরি নেওয়া হচ্ছে ২শ-৪শ টাকা পর্যন্ত। বটি তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে দেড়শ টাকা থেকে আড়াইশ টাকা। চাকু তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ১শ টাকা। বড় ছুড়ি তৈরিতে নিচ্ছেন ৪শ-৫শ টাকা করে।

এমনিতেই ক্রেতা কম, তার উপর খরচ বেশি থাকায় তারা বেকায়দায় পড়েছেন। কফিল উদ্দিন জানান, একদিকে বন্যা, অন্যদিকে কয়লার দাম বেশি থাকায় এবার বাজার খুব খারাপ। গতবার যে কয়লার বস্তা ৭শ টাকায় কিনেছেন এবার সেই বস্তা ১৬শ টাকায় কিনতে হচ্ছে। কয়লার দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কামার আয়নাল মিয়া বলেন, আগে ইটভাটা থেকে পোড়া গুটি কয়লা কমদামে কিনে নিয়ে তারা কাজ করতেন। এখন ইটভাটায় কয়লা গুড়ো করে পোড়ানোর কারণে ওই কয়লা ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে বাসা-বাড়ি বা হোটেলের কাঠ কয়লাসহ বাইরে থেকে বেশি দামে কয়লা কিনতে হচ্ছে তাদের।