১৪ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাক্ষুসী ‘সাচনা’ অভিযান

  • ৮ আগস্ট, ১৯৭১;###;শাহাব উদ্দিন মাহমুদ

১৯৭১ সালের ৮ আগস্ট দিনটি ছিল রবিবার। উলিপুরের হাতিয়া, কুড়িগ্রাম সদরের কাঁঠালবাড়ী ছিল পাকবাহিনীর নৃশংসতম গণহত্যা। সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান সাচনা মুক্তিযুদ্ধের সময় সেখানে পাকিস্তানী বাহিনীর শক্তিশালী একটি ঘাঁটি ছিল। ১৯৭১ সালের এইদিন বৃষ্টি স্রোত রাত। নিঃশব্দে একদল মুক্তিযোদ্ধা এগিয়ে চলছিলেন। নিঝুম কাল রাত, মুষলধারে বৃষ্টি, চারদিকে ভরা বর্ষায় শনির হাওড়ের অথৈ জলরাশি ভেদ করে কমান্ডার সিরাজের নেতৃত্বে ৩টি ছিপ নৌকায় ২৭ জন মুক্তিযোদ্ধা এগিয়ে চলছিলেন রাক্ষুসী সাচনা মুক্ত করতে। ঢাকা সিলেট নৌপথে সাচনার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এ পথে পাকবাহিনী সৈন্য, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহ করত। কয়েকবার অপারেশন চালিয়েও সাচনা মুক্ত করতে না পেরে সাচনা রাক্ষুসী হিসাবে অভিহিত হয়। তাঁদের লক্ষ্য পাকসেনাদের একটি ঘাঁটি। পাকসেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাঙ্কার থেকে ব্যাপক গুলি শুরু করে। আকস্মিক ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধারা কিছুটা হতচকিত হয়ে পড়লেও, পাল্টা আক্রমণ শুরু করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। মুক্তিযোদ্ধারা চেষ্টা করছেন ক্রলিং করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু প্রবল গুলির কারণে তাঁরা সামনে এগোতে পারছেন না। কিছুটা বেকায়দায় পড়েছেন। হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আর্তনাদ আর চিৎকার। গুলিতে একজন সহযোদ্ধা শহীদ এবং দুজন আহত। এ অবস্থায় সিরাজুল ইসলাম সহযোদ্ধাদের সামনে না এগিয়ে ওই অবস্থানে থেকে গুলি চালাতে বললেন। তারপর কয়েকটি গ্রেনেড নিয়ে তিনি একাই ক্রলিং করে এগিয়ে চললেন শত্রুর বাঙ্কার অভিমুখে। শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে সফলতার সঙ্গেই তিনি গ্রেনেড চার্জ করলেন। তাঁর সফল গ্রেনেড চার্জে শত্রুর দুটি বাঙ্কার ধ্বংস হয় যায়। এ ঘটনায় পাকিস্তানী সেনারা একেবারে হতবুদ্ধি। মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের আক্রমণ আরও জোরদার করলেন। এরপর পাকিস্তানী সেনারাই কোণঠাসা হয়ে পড়ে। জয়ের অদম্য নেশায় তিনি পাকিস্তানী সেনাদের তৃতীয় বাঙ্কারে গ্রেনেড চার্জ করতে গেলেন। আর ঠিক তখনই শত্রুর একটি গুলি এসে ডান চোখে গুলিবদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন সিরাজুল ইসলাম। আহত কমান্ডারকে সহযোদ্ধারা মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতে পাঠানো হয়। কিন্তু পথেই তিনি মারা যান। মুক্তিযোদ্ধাদের গ্রেনেড বিস্ফোরণে গোলাপগঞ্জের পোস্ট অফিস এবং টেলিফোন অফিস ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ভারতীয় লোকসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার শরণ সিং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক সামরিক আদালতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বিচার অনুষ্ঠানের ঘোষণায় ভারত সরকারের উদ্বেগ ও ক্ষোভের কথা জানান।

এদিন দি টাইমস অফ ইন্ডিয়া ‘অসংখ্য মিথ্যাচারে ভরা শ্বেতপত্র’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে।

আজ সরকারী প্রেসনোটে এ কথা ঘোষণা করা হয়। বলা হয়Ñ ১৯৭১ সালের ২৮ জুন তারিখে প্রেসিডেন্ট তাঁর বেতার ভাষণে বলেন, তিনি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন, তবে যারা অপরাধমূলক কাজ করেছেন তারা ব্যতীত এ বিলুপ্ত পার্টির নির্বাচিত অপর এমএন ও এমপিএ-গণ ব্যক্তিগতভাবে তাদের আসনে বহাল থাকবেন। সেইহেতু পাকিস্তান সরকার আজ বিলুপ্ত আওয়ামী লীগের যেসব নির্বাচিত এমএন এ জাতীয় পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য হিসেবে তাদের আসনে বহাল থাকবেন তাদের তালিকা ঘোষণা করেছেন। বিলুপ্ত আওয়ামী লীগের অপর সকল এমএন এ যাদের নাম এই তালিকায় উল্লেখিত হয়নি।

লেখক : শিক্ষাবিদ ও গবেষক

sumahmud78@gmail.com

নির্বাচিত সংবাদ