০৮ আগস্ট ২০১৯

শিমুলিয়ায় পারাপারে অপেক্ষায় ৫শ’ যান

শিমুলিয়ায় পারাপারে অপেক্ষায় ৫শ’ যান

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ শিমুলিয়ায় ফেরি চলাচল অবশেষে স্বাভাবিক হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া এবং নদীতে অস্বাভাবিক ঢেউ থাকায় ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। স্রোতে এবং বড় বড় ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিঘাটের পন্টুনের সংযোগ সড়ক বিনষ্ট হয়। সব মেরামতের পর এবং নদীর অবস্থা কিছুটা শান্ত হওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টা থেকে ১৬টি ফেরি চলাচল শুরু হয়। বহরের সব ক’টি ফেরি চলাচলের কারণে যানবাহন পারাপার হচ্ছে সমানে। তবে সময় বেশী লাগছে। এদিকে ঈদেঘরমুখো মানুষের চাপ এই ঘাটে বেড়ে যাওয়ায় যানবাহনের দীর্ঘ লাইন কমছে না। যাত্রীবাহী বাসসহ ৫ শতাধিক যান এখন শিমুলিয়াঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। যাত্রীরা দুর্ভোগে রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় ১৭ ঘন্টা পর শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুটে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল শুরু হয়। সকাল ৬ টায় ৪টি ফেরি দিয়ে সীমিত আকারে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে ফেরি সার্ভিস সচল করা হয়। সেই সাথে সকাল থেকে চলাচর শুরু করেছে লঞ্চ ও স্পীড বোটও।

বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে পদ্মায় প্রবল ঢেউরে কারণে বন্ধ হয়ে যায় ফেরি, লঞ্চ ও স্পীড বোট চলাচল। পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্রোতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। বাতাস বইছে, উত্তাল পদ্মায় বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে। এদিকে প্রবল স্রোতে এবং পানি বৃদ্ধির কারণে শিমুলিয়া চারটি ফেরিঘাট ডুবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১ ও ২নং ফেরিঘাটের র্যাম সরে যায়। তাছাড়া ১ ও ২ নং ঘাটের র্যাম ছুটে ও নোঙর ছিঁড়ে ঘাট সংলগ্ন ২টি হোটেল ও ৮টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ৩ নং ফেরিঘাটটি ঠিক করে সীমিত আকারে সার্ভিস সচল করা হয়েছিল। পরে বাকী ফেরিঘাট জরুরি সংস্কার করা হয়।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২ টার পর ফেরি চলাচল বন্ধ হয়। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ঘাট মেরামতের পর বুধবার সকাল ৬টার পর থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয়। ৬টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছিল। তবে নদী আরও বেশী উত্তাল হওয়ায় দুপর সোয়া ১টা থেকে ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আর লঞ্চ ও স্পীট বোটসহ অন্যান্য নৌযান সকাল থেকেই বন্ধ রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি'র শিমুলিয়া ঘাট ম্যানেজার আব্দুল আলিম জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়াতে পদ্মায় একটু ঢেউ কমেছে। তাই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফেরি ও অন্যান্য নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে। দুপুরে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে বলা যায়।

এদিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জয়েদুল আলম পিপিএম (বার) বলেছেন, ঘাটে নিরাপত্তায় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদে ঘরমুখোমী মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে পারাপার হতে পারে সেব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।