২১ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশের স্বার্থে অভিমান ভুলে আবারও জাতীয় হ্যান্ডবল দলে শিল্পী ...

দেশের স্বার্থে অভিমান ভুলে আবারও জাতীয় হ্যান্ডবল দলে শিল্পী ...

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ১৪ জুন, ২০১৮। দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত একটি খবরে তোলপাড় সৃষ্টি হলো বাংলাদেশের হ্যান্ডবল অঙ্গনে। সংবাদটির শিরোনাম ছিল ‘হ্যান্ডবলের এক অভিমানী শিল্পী ...’। জাতীয় দলের কিছু সতীর্থ খেলোয়াড়দের ‘পলিটিক্স’-এ বীতশ্রদ্ধ-হতাশ হয়ে একমাত্র জনকন্ঠের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল থেকে অবসর নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শিল্পী আকতার। ২৬ বছর বয়সী সেই শিল্পীই দেশের স্বার্থে অভিমান ভুলে অবসরের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছেন। আবারও ফিরে এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা হ্যান্ডবল দলে। সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমস উপলক্ষ্যে কদিন আগেই শুরু হয় পুরুষ ও মহিলা জাতীয় হ্যান্ডবল দলের আবাসিক ক্যাম্প। বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের ডাকে ক্যাম্পে যোগ দেন আট বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৩০ গোলের ‘মালকিন’ শিল্পী। এখন অবশ্য কোরবানীর ঈদের ছুটির কারণে ক্যাম্প ছেড়ে খেলোয়াড়রা যে যার দেশের বাড়ি চলে গেছেন। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার সারিয়ালজাট গ্রামে যাবার আগের দিন শিল্পী জনকণ্ঠকে যে সাক্ষাতকার দেন, তাতে তিনি বলেন, ‘আসলে আমি জাতীয় দলে আর খেলতে চাইনি। কিন্তু সিনিয়র ৬-৭ খেলোয়াড় এবার ক্যাম্পে আসেননি। ফলে জাতীয় মহিলা হ্যান্ডবল দল এবার যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। গভীরভাবে ভেবে দেখলাম দেশের স্বার্থে আমার এই অবস্থায় অবশ্যই খেলা উচিত। দলের আমাকে প্রয়োজন আছে। তাই ক্যাম্পে এসেছি।’

গত বছরের জুনে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে জাতীয় দলের সতীর্থরা শিল্পীকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শিল্পী নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। হ্যান্ডবলের প্রতি তিনি এতটাই বিরক্ত ছিলেন, ভবিষ্যতে কোনদিনই হ্যান্ডবলের সংগঠক বা কোচ হবেন না বলেও জানিয়েছিলেন।

অথচ ১৪ মাস যেতেই শিল্পীর মনোভাব বদলে গেছে আমূল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তখন খেলবো না বলেছিলাম। সেটা আমার নিজের ইচ্ছা ছিল। তবে নিজের ইচ্ছের চেয়েও দেশের চাওয়াটা অনেক বড় বলে মনে করি। সেজন্যই আমার ফিরে আসা।’

ডালিয়া, শাহিদা, রাজিয়া, ঝর্ণা, শিলা, ইসমত আরা নিশি ... এই কজন সিনিয়র-অপরিহার্য খেলোয়াড় এসএ গেমসের হ্যান্ডবল ক্যাম্পে নেই। কারোর পারিবারিক সমস্যা, কেউ মা হয়েছেন, কেউ ডাক পাননি, কেউ অন্তঃস্বত্ত্বা । ফলে বিপাকে পড়েছে হ্যান্ডবল ফেডারেশন। ফলে শিল্পীর মতো অভিজ্ঞ-সিনিয়র খেলোয়াড়কে ফেরানোর জন্য তারা যে উদ্দোগ নিয়েছে, তা সফলই হয়েছে বলতে হবে।

এসএ গেমস খেলার পরও কি আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল খেলা চালিয়ে যাবেন, নাকি এসএ গেমসই শেষ? চিন্তিত শিল্পীর উত্তর, ‘এখনই বলতে পারছি না। এটা সময়ই বলে দেবে।’

উল্লেখ্য, এসএ গেমসে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মহিলা হ্যান্ডবলে স্বর্ণপদক জিততে পারেনি। রৌপ্যপদক পেয়েছে ২০১৬ আসরে। সেবার তারা হেরেছিল ভারতের কাছে। ‘ভারত এবারও অনেক শক্তিশালী। আমাদের লক্ষ্য থাকবে আগের আসরের সাফল্যকে ধরে রাখা।’ শিল্পীর ভাষ্য। ‘তবে এটা অনেক কঠিন হবে এবার। কেননা আমাদের দলটি এবার তেমন শক্তিশালী নয়, তার ওপর অন্য দেশগুলোও উঠে আসছে। তবে আমরা সর্বাত্নক চেষ্টা করবো।’

ভারতের লক্ষণৌতে অনুষ্ঠিত ‘দক্ষিণ এশিয়ান মহিলা হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল ভারত ২৭-১১ গোলে বাংলাদেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। এই আসরে বাংলাদেশ তৃতীয় স্থান অধিকার করে। বাংলাদেশের পক্ষে শিল্পী ২টি গোল করেন। ওই দুটি গোলই ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে শিল্পীর সর্বশেষ গোল।

কৃষিজীবি বাবা আব্দুল কুদ্দুস, মা গৃহিণী আনোয়ারা বেগমের তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে শিল্পী দ্বিতীয়। স্কুলে পড়ার সময়ই অন্যদের খেলতে দেখে হ্যান্ডবল খেলার প্রেমে পড়ে যান তিনি। অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় একবার তিনি ১০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নিয়ে প্রথম হন। তার দৌড়ের গতি দেখে স্কুলের আবুল হোসেন স্যার শিল্পীকে হ্যান্ডবল খেলতে উৎসাহিত করেন। এভাবেই এ খেলায় আসা। শিল্পী অবশ্য ভলিবলও খেলতেন।

২০০৮ সালে ফরিদপুরের হয়ে জাতীয় লিগ খেলেন তিনি। ভাল খেলার সুবাদে বিজেএমসিতে ডাক পান পরের বছর। ওখানেই তার চাকরি হয়। ওখানেই এখনও চাকরি করছেন। ঘরোয়া পর্যায়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলছেন বিজেএমসরি হয়েই। ২০১০ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় শিল্পীর, ভারতের হলদিয়ায়, স্বাগতিক দলের বিরুদ্ধে (চার জাতির ওই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ)। ২০১২ সালে নেপালে জুনিয়র দলের হয়ে আইএইচএফ ট্রফিতে রানার্সআপ (দলের অধিনায়ক ছিলেন), সিঙ্গাপুরে ২০১৫ আসরে তৃতীয়, এবং ২০১৬ এসএ গেমসে রানার্সআপ দলের সদস্য ছিলেন।

বিভিন্ন সময় লিগ খেলেছেন মোহামেডান, মেরিনার, ঊষা এবং আরামবাগের হয়ে। এখন দেখার বিষয়, এসএ গেমসে জাতীয় দলের হয়ে শিল্পী কি অর্জন করেন।

নির্বাচিত সংবাদ