২১ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাশ্মীর কোন পথে

  • শাহরিয়ার কবির

॥ দুই ॥

কাশ্মীরের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলাম ১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধের পরই। কয়েক দফা শূটিংও করেছিলাম। স্ক্রিপ্টের খসড়া রূপরেখাও দাঁড় করিয়েছিলাম। ছবির নাম ঠিক করেছিলাম ‘ক্রাই ফর এ্যামিটি।’ এ ছবির দৃশ্য ধারণের জন্য শ্রীনগরের এক এতিমখানায় গিয়েছিলাম। তখন ছিল রমজান মাস। শিয়া কাশ্মীরের ধর্মীয় নেতা ও জাতীয়বাদী রাজনীতিবিদ ইফতেখার আনসারী বলেছিলেন, রমজান মাসে যাচ্ছেন, বাচ্চাদের জন্য কিছু ইফতার নিয়ে যাবেন। ওরা চার/পাঁচ বছর বয়স থেকে রোজা রাখে, সন্ধ্যায় ইফতার করে লবণ দেয়া জাউ খেয়ে।

কাশ্মীরে জঙ্গী, মৌলবাদীদের সন্ত্রাস শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত সরকারী হিসেবে ৪২ হাজার ৫শ’ বেসরকারী হিসেবে ৫০ হাজারের বেশি নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সেসব নিহতজনের সন্তানদের জন্য শ্রীনগরে কয়েকটি এতিমখানা আছে, যা চালায় গোঁড়া মুসলিমরা।

আমি যে এতিমখানায় গিয়েছিলাম সেখানে শিশুর সংখ্যা প্রায় একশর মতো। ওদের জন্য আপেল, জিলাপি আর কাশ্মীরী রুটি নিয়ে গিয়েছিলাম। এতিমখানার পরিচালককে ইফতেখার আনসারী আগেই জানিয়েছিলেন আমার আগমন সম্পর্কে। দোতলা এক জরাজীর্ণ বাড়িতে বাচ্চারা থাকে। ছেলেরা থাকে দোতলায়, মেয়েরা এক তলায়। আমার গাড়ি, ক্যামেরাম্যান আর সহকারীদের দেখে বাচ্চারা ঘিরে ধরল।

সামনের আঙিনায় বসে আমি বিভিন্ন বয়সের তিনটি ছেলেকে বেছে নিলাম। সবচেয়ে ছোট যে তার বয়স ৮ বছর। ওকে জিজ্ঞেস করলাম- তোমার বাবা কীভাবে মারা গেছেন?

ফুলের মতো ফুটফুটে বাচ্চাটা বলল, মিলিট্যান্টরা ওর বাবাকে মেরেছে।

দ্বিতীয় শিশুটির বয়স বছরদশেক হবে। বলল, ওর বাবাকে ইন্ডিয়ান আর্মি মেরেছে। তৃতীয়টি প্রায় কিশোর, বারো/তেরো বছর বয়স। ও বলল, ওর বাবা মারা গেছেন ইন্ডিয়ান আর্মি আর মিলিট্যান্টদের ক্রসফায়ারে।

শ্রীনগরের এই তিন এতিম বাচ্চার কথা শুনে বুক কেঁপে উঠেছিল। ম্লান মুখে কী অবলীলায় বলে গেল পিতার মৃত্যুর কথা। ওদের পিতারা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, নিরীহ খেটেখাওয়া মানুষ, রাজনীতির ধারেকাছে ছিলেন না। কাশ্মীর ভারতে থাকল না পাকিস্তানে গেল কিংবা স্বাধীন হলো তাতে তাদের মাথাব্যথা ছিল না। তাদের একমাত্র চিন্তা ছিল সারাদিনের আয় থেকে পরিবারের দুবেলা খাবার জোটানো। এতিমখানার এই শিশুরা জানে না তাদের পিতারা কেন নিহত হলেন। সন্তানদের ভরণপোষণ সম্ভব নয় বলে গরিব মায়েরা তাদের এতিমখানায় রেখে গেছেন। কারও কারও মা কেউ দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, অন্য বিধবাদের দেখেছি শ্রীনগরের রাস্তায় বসে ভিক্ষা করতে।

কাশ্মীরের নারী-পুরুষের সৌন্দর্যের তুলনা হয় না। কালো বোরখা পরা অনেক মেয়ে এত সুন্দর দেখতে যে বোম্বে গেলে মডেল হতে পারত, অথচ শ্রীনগরের রাস্তায় ভিক্ষা করছে। এতিমখানায় আমি বাচ্চাদের সঙ্গে একবেলা কাটিয়েছিলাম। এতিমখানার পাশে মাদ্রাসা, বাচ্চারা সেখানে পড়ে। পাঠ্যসূচী মান্ধাতা আমলের, যুগের কোন ছোঁয়া নেই। আরিফ নামের কিশোরটি আমার সঙ্গে ছায়ার মতো ঘুরছিল। একা পেয়ে আমাকে বলল- আঙ্কল, আমার এখানে থাকতে ভাল লাগে না। পড়া না পারলে, নামাজ-রোজায় গোলমাল হলে ওস্তাদরা ভীষণ মারে।

ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি কী করতে চাও? কোথায় যেতে চাও?

আরিফ বলেছিল, আমাকে বাংলাদেশে নিয়ে চলুন। আমি মেডিক্যাল পড়তে চাই। ডাক্তার হতে চাই। আমার মা বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে।

এতিমখানা থেকে হোটেলে ফেরার পথে দেবদূতের মতো দেখতে অসহায় আরিফ আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিল। জানতে চেয়েছিল আমি আবার কখন আসব। মানবতার এই বিপর্যয় আমাকে রক্তাক্ত করেছিল।

এর পরদিন কাশ্মীরে জামাতে ইসলামীর আমির ‘অল পার্টি হুরিয়াত কনফারেন্স’র গুরুত্বপূর্ণ নেতা আলী শাহ গিলানীর সঙ্গে এ নিয়ে আমার কথা হয়েছিল। শ্রীনগরের অভিজাত এলাকায় এক সুরক্ষিত বাড়িতে থাকেন তিনি। তিনি ও তার দল কাশ্মীরের পাকিস্তানভুক্তির পক্ষে হলেও গিলানী তা স্বীকার করেননি। তিনি কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বর্বরতা আর আজাদীর জন্য তাদের জিহাদের কথা বলছিলেন। কথা প্রসঙ্গে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, গিলানী সাহেব, আপনারা হুরিয়াত কনফারেন্স গঠন করে যখন থেকে জিহাদ করছেন, এ পর্যন্ত কাশ্মীরে কতজন মানুষ শহীদ হয়েছেন? তার এই সাক্ষাতকার আমি গ্রহণ করেছিলাম ২০০৪ সালে। কাশ্মীরে জঙ্গী, মৌলবাদী সন্ত্রাস শুরুর পনেরো বছর পর। আমার প্রশ্নের জবাবে কাশ্মীরের জামাত প্রধান বললেন, পঞ্চাশ হাজারের মতো হবে।

প্রশ্ন করলাম, এই জিহাদের কারণে কত বাচ্চা এতিম হয়েছে?

গিলানী একটু ভেবে বললেন, ত্রিশ/পঁয়ত্রিশ হাজার হতে পারে।

কত মেয়ে বিধবা হয়েছে?

তা বিশ/বাইশ হাজার হতে পারে।

এসব এতিম আর বিধবার পুনর্বাসনের জন্য আপনাদের কোন কর্মসূচী আছে?

আমরা কেন ওদের দায়িত্ব নেব? ওদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব সরকারের।

আপনি কোন্ সরকারকে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিতে বলছেন? কেন্দ্র না রাজ্য সরকার?

রাজ্য নিতে পারে। কেন্দ্র নিতে পারে। ইন্ডিয়ান আর্মির অপারেশনে কাশ্মীরের মানুষ মারা যাচ্ছে।

আমি বিনীতভাবে কাশ্মীরের এই জঙ্গী জামাত নেতাকে বলেছিলাম, আপনারা তো সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন। আপনাদের জিহাদের কারণে নিরীহ মানুষ মারা যাচ্ছে। ওদের এতিম সন্তান ও বিধবাদের জন্য আপনাদের কিছুই কি করার নেই?

গিলানী একটু অপ্রস্তুত হয়ে বললেন, দেখুন, আমি নিজেই তো ইন্ডিয়ান আর্মির বর্বরতার শিকার। আর্মি আমার গ্রামের বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। আমার এক কাযিনকে হত্যা করেছে।

আপনি এখন যে বাড়িতে আছেন এটা কি আপনার নিজের বাড়ি?

না, সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়েছি।

আপনার বাড়িতে এত যে নিরাপত্তা কর্মী এরা কি আপনার দলের লোক?

না, আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের।

আপনারা সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদ করছেন। সরকার আপনাদের বাড়ি দিয়েছে, নিরাপত্তা দিয়েছে। আপনাদের কারণে যেসব শিশু এতিম হচ্ছে, নারী বিধবা হচ্ছে; আপনারা বা সরকার তাদের জন্য কিছুই করছে না।

আমার এ কথার জবাবে গিলানী কিছু বলেননি। পরে জেনেছিলাম সরকার শুধু সেসব পরিবারের দায়িত্ব নেয়, যারা মিলিট্যান্টদের হাতে নিহত হয়। সরকারী বাহিনীর হামলায় যারা নিহত হয় তাদের পরিবারের পুনর্বাসনের দায়িত্ব সরকার নেয় না।

ভূস্বর্গ কাশ্মীরের ভাগ্যাকাশে দুর্যোগের কালোমেঘ যদিও দেখা দিয়েছিল ’৪৭-এ ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তানের জন্মলাভের পর থেকেই। কাশ্মীরকে কবজা করার জন্য পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে ’৪৭ থেকে ’৯৯ পর্যন্ত চারবার যুদ্ধ করেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কাশ্মীরের পাকিস্তানভুক্তি বা ‘স্বাধীনতা’র জন্য জিহাদ করছে তিরিশ বছর ধরে। কাশ্মীরের জাতীয়তাবাদী নেতারা সত্তর বছর ধরে ভারতের সঙ্গে থেকে অধিকতর স্বায়ত্তশাসনের জন্য সংসদীয় কাঠামোর ভেতর লড়ছেন। কিন্তু তারপরও গোটা কাশ্মীর উপত্যকা গত তিরিশ বছর ধরে দাউ দাউ করে জ্বলছে মৌলবাদের আগুনে। মৌলবাদের সর্বগ্রাসী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে কাশ্মীরের পাঁচ হাজার বছরের সভ্যতা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক মানবিক মূল্যবোধ।

১৯৮৯ সাল থেকে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ সমর্থনপুষ্ট পনেরোটি মৌলবাদী জঙ্গী সংগঠন কাশ্মীরে হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ, ধ্বংস ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সেখানকার জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। যে কাশ্মীর এক সময় শুধু উপমহাদেশীয় নয়, পশ্চিমা বিশ্বের পর্যটকদের একটি প্রধান আকর্ষণ কেন্দ্র ছিল, যে কাশ্মীরের সৌন্দর্য ধারণ করে শিল্প-সাহিত্যের ভা-ার সমৃদ্ধ হয়েছে সেই কাশ্মীর আজ পর্যটকশূন্য। আনন্দোচ্ছল, বর্ণোজ্জ্বল রাজধানী শ্রীনগর আজ শ্রীহীন বিরাণ জনপদে পরিণত হয়েছে। সাধারণ কর্মজীবী মানুষ যাপন করছে কর্মহীন ভীতিকর জীবন।

পাকিস্তানের মদদপুষ্ট মৌলবাদী জঙ্গীদের তৎপরতা আজ শুধু কাশ্মীর উপত্যকায় সীমাবদ্ধ নয়। তারা তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পরিধি বিস্তৃত করেছে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলসহ বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশে। তাদের যোগাযোগের বেড়াজাল মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই মৌলবাদ বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি ও মানুষের শ্রেয়-চেতনার প্রধান শত্রু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

কাশ্মীর সম্পর্কে পাকিস্তানী গণমাধ্যসমূহের প্রচার ভারতের তুলনায় অনেক বেশি আগ্রাসী ও আক্রমণাত্মক। এর কারণ নিহিত রয়েছে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ে। চরিত্রগতভাবে পাকিস্তান একটি মৌলবাদী সমরতান্ত্রিক রাষ্ট্র। শিক্ষা-সংস্কৃতিগতভাবে পশ্চাদপদ, দরিদ্র, দুর্নীতিগ্রস্ত ও দেউলিয়া এই রাষ্ট্রটি টিকে আছে অব্যাহতভাবে যুদ্ধোন্মাদনা জারি রাখার মাধ্যমে। জাতীয় বাজেটের যে পরিমাণ অর্থ পাকিস্তান সামরিক খাতে ব্যয় করে ভারতের ব্যয় শতকরা হিসেবে তার অর্ধেকেরও কম। যে কারণে ’৪৭, ’৬৫, ’৭১ ও ’৯৯-এ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে সব সময় দেখা গেছে পাকিস্তানকে আক্রমণকারী হিসেবে। এই চারটি যুদ্ধের ভেতর ’৭১ ছাড়া ভারতের বিরুদ্ধে বাকি তিনটি যুদ্ধে পাকিস্তান লিপ্ত হয়েছিল কাশ্মীর কবজা করার জন্য, যার ওপর পাকিস্তানের রাজনীতিগত কিংবা আইনগত কোন অধিকার নেই।

পাকিস্তানের আগ্রাসী প্রচারের কারণে বাংলাদেশেরও কিছু মানুষ এ রকম ধারণা পোষণ করেন যেÑ ভারত জবরদস্তি করে কাশ্মীর দখল করে রেখেছে। যেহেতু কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী মুসলমান সেহেতু ’৪৭-এ ভারত বিভক্তির সময় কাশ্মীর পাকিস্তানের ভাগে পড়া উচিত ছিল, যা ভারতের কারণে সম্ভব হয়নি। সেই থেকে কাশ্মীরের মানুষ ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করছে স্বাধীনতার জন্য। বাংলাদেশে যারা পাকিস্তানী দর্শনের অনুসারী, যারা বাংলাদেশকে দ্বিতীয় পাকিস্তান বানাবার দিবাস্বপ্ন দেখে তারা কাশ্মীর সম্পর্কে এ ধরনের কথা জোরেশোরেই প্রচার করে তাদের প্রচার মাধ্যমে এবং সভা-সমাবেশে। ভারতের পার্লামেন্টে কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদাপ্রদানকারী সংবিধানের ৩৭০ ধারা এবং ৩৫ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর বাংলাদেশে পাকিস্তানপন্থীরা কাশ্মীরের মানুষের জন্য যেভাবে মায়াকান্না করছে, কাশ্মীরীরা ঈদ করতে পারবে না বলে যেভাবে মাতম করছে, যে মাতমে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। তারা কী জানে না, ১৯৯৫ সালে কোরবানির ঈদের দিন পাকিস্তান থেকে আসা লস্করে তৈয়বার জঙ্গীরা ঘোষণা দিয়ে শ্রীনগরে কাশ্মীরের সুফী সাধক হযরত নূরউদ্দিন ওয়ালির মাজার ধ্বংস করেছিল? কাশ্মীরের মুসলিমরা তাদের অনুরোধ করেছিল এ ধরনের বর্বরোচিত কাজ না করার জন্য। কারণ, কাশ্মীরে ইসলাম প্রচার করেছিলেন হযরত নূরউদ্দিন ওয়ালি, যাকে তার হিন্দু ভক্তরা সম্বোধন করে নুন্দ ঋষি নামে। পাকিস্তান ও পাকিস্তানপন্থীদের এ ধরনের প্রচার যে সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা বোঝা যাবে কাশ্মীরের সমকালীন ইতিহাস পর্যালোচনা করলে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের গুরুত্ব সম্পর্কে ৮ আগস্ট (২০১৯) জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে বলেছেন, জম্মু-কাশ্মীরের জন্য নতুন সূর্য উঠেছে। আমরা দেখতে চাই এই সূর্যের আলো কাশ্মীরের সকল মানুষের জন্য, না নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর জন্য।

(চলবে)

নির্বাচিত সংবাদ