২১ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মার্কিন সমরাস্ত্রের চালান!

  • ১১ আগস্ট, ১৯৭১

শাহাব উদ্দিন মাহমুদ ॥ ১৯৭১ সালের ১১ আগস্ট দিনটি ছিল বুধবার। এদিন মেজর সালেকের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা সড়কে রসুল গ্রামের কাছে একটি রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণ করে। এই আক্রমণে ২০ জন রাজাকার নিহত হয় ও ৩০ জন বন্দী হয়। আক্রমণ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদে নিজের অবস্থানে ফিরে আসে। ৭ নং সেক্টরের মেহেদিপুর সাব সেক্টরে সুবেদার মেজর মজিদের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী পাকবাহিনীর কলাবাড়ি অবস্থানের উপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এতে পাকসেনারা কলাবাড়ি অবস্থান ত্যাগ করে নদী পেরিয়ে চাঁপাই নবাবগঞ্জের কানসাটে চলে যেতে বাধ্য হয়। কলাবাড়ি মুক্তিবাহিনীর পুনর্দখলে চলে আসে। মেজর এম.এ. মঞ্জুর ৮ নং সেক্টরের কমান্ডার পদে মেজর আবু ওসমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হন। মুক্তিবাহিনীর দুঃসাহসী গেরিলা যোদ্ধারা ঢাকার বিলাসবহুল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে টাইম বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আমেরিকার টাইমস পত্রিকার সংবাদদাতাসহ ২০ জন পাকসেনা গুরুতর আহত হয়। ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টালে দ্বিতীয় দফার মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটানোর নেপথ্যে মূল নায়ক ছিল ১৮ বছর বয়সী একটি ছেলে, ক্র্যাক প্লাটুনের সর্বকনিষ্ঠ গেরিলা মোহাম্মদ আবু বকর। ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টালে তার সেই দুঃসাহসিক এ্যাকশনের খবর বিশ্ব গণমাধ্যমে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানী মিলিটারিদের দাম্ভিকতা। কমান্ডার হাবিব এর নেতৃত্বে সাহসী মুক্তিযোদ্ধারা অত্যন্ত দূরদর্শিতার সঙ্গে সিরাজকান্দী অবস্থানরত অত্যাধুনিক অস্ত্রসস্ত্র ও গোলা বারুদ বোঝাই ২টি জাহাজ আক্রমণ করে। ...প্রথমে ছোট দুটি জাহাজ ঠিক মুক্তিবাহিনীর সামনে দিয়ে চলে গেল, কিন্তু কমান্ডার গুলি চালালেন না। এবার বহরের বড় দুটি জাহাজ মেশিনগানের রেঞ্জের মধ্যে চলে আসে। ৩ দিন ধরে পজিশন নিয়ে থাকা মুক্তিবাহিনী তাদের নীরবতা ভাঙলো। কাদেরিয়া বাহিনী একঝাঁক বুলেট দিয়ে স্বাগত জানালো জাহাজ দুটিকে। পেছনে থাকা দুটি জাহাজ তাড়াতাড়ি পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধা রেজাউলের নিখুঁত নিশানায় ১২টি মর্টার দুই জাহাজের ব্রিজে আঘাত করে। ডানপাশে ছিলেন মঞ্জু, প্রায় কুড়িটি মর্টার শেল নিক্ষেপ করেন তিনি। তবে জাহাজের পুরু লোহার কাছে মর্টার ছিল সামান্য টোকা। এই ক্ষতি নিয়ে দুই জাহাজ অনায়াসেই পালিয়ে যেতে পারত। কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীনভাবে জাহাজ দুটো সামনের চরে গিয়ে আটকে যায়, এরপর কিছুক্ষণ গুলি চলতে থাকে। ৩ জন শহীদ হন। ২০-২৫ জন পাক সেনা নিহত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা জাহাজের দখল নেয়। বন্দী করা হয় সবাইকে। মুক্তিযোদ্ধারা অবাক বিস্ময়ে আবিষ্কার করলেন, গোলাবারুদের অভাবে ঠিকমতো যুদ্ধ করতে পারছে না সেই আধুনিক অস্ত্র ও গোলা-বারুদে ঠাসা জাহাজটি। অন্যটি ছিল তেলের ট্যাংকার, যাতে ১ লাখ ৮০ হাজার গ্যালন ডিজেল ছিল। অস্ত্র ছাড়াও জাহাজের রান্নাঘর ভর্তি মুরগির মাংস এবং প্রচুর উপাদেয় খাদ্যও ছিল। শুরু হয় অস্ত্র নামানো। আশপাশের সব গ্রামের শারীরিকভাবে সক্ষম সব লোক এসে যোগ দেয় এই কাজে। আটক সারেং-এর থেকে কাছে জানা গেল, পাক বাহিনী বারবার সাহায্য চেয়ে ওয়্যারলেস বার্তা পাঠাচ্ছিল। যেকোনো সময় তারা পাল্টা আঘাত হানতে পারে। রাত ১০টা নাগাদ কমান্ডার জাহাজ ত্যাগ করতে নির্দেশ দেন। জাহাজে তখনও প্রচুর অস্ত্র। কিন্তু বিপদের আশংকা ছিল। নিরাপদ দূরত্ব থেকে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জাহাজে আগুন ধরানো হয়। ৩০ কিলোমিটার উপরে ওঠা আগুনের লেলিহান শিখা শুধু জাহাজ দুটি নয়, পাক বাহিনীর মনোবলকে একেবারে ভেঙে চুরমার করে দেয়। তেলের ট্যাংকারটি ছিল পাবনার কুখ্যাত মুসলিম লিগ নেতা মতিনের। রাজাকারদের দম্ভও সম্পূর্ণভাবে ধূলিসাৎ হয় আগুনের ফুলকিতে। পরদিন আঞ্চলিক ক্যাম্পে স্বয়ং কাদের সিদ্দিকী এসে হাজির হন। আটক সারেংকে হাজির করা হয় তার সামনে। মুক্তিযোদ্ধাদের অবাক করে সারেংকে বুকে জড়িয়ে ধরেন কাদের সিদ্দিকী। চট্টগ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা। ২৫ মার্চের তা-ব থেকে রক্ষা পায়নি তার পরিবার। চালনা বন্দরে কর্মরত গোলাম মোস্তফা নজরবন্দী হন। পরে তাকে অনেকটা জোর করেই জাহাজে কাজ দেয়া হয়। মাতৃভূমির ঘ্রাণে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেবার পরিকল্পনা করেন তিনি। কিন্তু এক বন্ধুর পরামর্শে পাকিস্তানের সঙ্গে থেকেই বড় রকম ক্ষতি করার ছক কাটেন তিনি। মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল তার। আক্রমণের পুরো ছকই জানতেন তিনি। এজন্যই আক্রমণ শুরুর পরপরই তিনি জাহাজ থামিয়ে দেন। এদিন পটুয়াখালী শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে তখনকার সময়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন মাদারবুনিয়া গ্রামে দুপুরে সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বাধীন শাহজাহান ফারুকীর ৩৪ সদস্যের একটি মুক্তিযোদ্ধা দলের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায় পাক সেনারা। গ্রুপ কমান্ডার হাবিলদার মতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা তা প্রতিরোধ করে। নরসিংদীর পুটিয়া বাজারে মজনু মৃধার নেতৃত্ব স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধ সংগঠিত হয়। এতে একজন ক্যাপ্টেনসহ বেশ কজন পাকসেনা নিহত এবং দুজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

রংপুর শান্তি কমিটির বৈঠকে টিক্কা খান রাজাকারদের কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাজাকাররা না থাকলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হতো না।’ ঢাকার ২৫ মাইল দূরে আড়িখোলার কাছে পাকবাহিনীর সহযোগী রাজাকাররা এক নৌকা অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদসহ একজন মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেফতার করে। মার্কিন সিনেটে এডওয়ার্ড কেনেডির বক্তৃতা বিবৃতির ক্রম থেকে সহজেই বাংলাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুরতার স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। তিনি ছুটে এসেছিলেন ভারতে, খুলনা সীমান্তের শরণার্থী শিবিরে। স্বচক্ষে দেখেছেন মানুষের দুর্দশা। একাত্তরের এইদিন মাদার তেরেসাসহ কলকাতায় একটি ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শন করেন কেনেডি। এরপর দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে নিক্সন-নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি পাকিস্তানেও যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইয়াহিয়া তাঁকে ভিসা দিতে রাজি হননি। এডওয়ার্ড কেনেডি ছিলেন মার্কিন সিনেটের শরণার্থীবিষয়ক জুডিশিয়ারি উপকমিটির চেয়ারম্যান। দি স্টেটসম্যান পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারী সূত্রে জানা গেছে যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অপরাধে আওয়ামী লীগ নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান বিচারকাজ আজ শুরু হয়েছে। মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করতে সরকার অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সরকার সামরিক আদালতের অবস্থান, বিচারকদের নাম বা বিবাদী পক্ষের আইনজীবীর নাম প্রকাশ করতেও অস্বীকৃতি জানায়। তিনটি বিদেশী রেডিও স্টেশন, রেডিও আক্রা, রেডিও কোলন এবং রেডিও অস্ট্রেলিয়া প্রচার করেছে। আজ শেখ মুজিবুর রহমানের বিচারকাজ শুরু হয়েছে কিন্তু তারা কোন সূত্র উল্লেখ করেনি। মিসেস গান্ধী বিশে^র ২৪টি দেশের কাছে শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনরক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও একই আবেদন জানানোর সম্ভাবনা রয়েছে এই বিষয়ে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মিঃ শরন সিং একই বিষয়ে একটি তারবার্তা পাঠিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে। যুক্তরাষ্ট্র আজ পাকিস্তান সরকারের প্রতি দ্বিতীয়বারের মতো তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, শেখ মুজিবুর রহমানের যে কোন ‘সংক্ষিপ্ত বিচার’ করা হলে তা পূর্ববাংলার সঙ্কটের রাজনৈতিক মীমাংসার জন্য সব ধরনের সম্ভাবনা নষ্ট করে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব মিঃ রজার্স, পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মিঃ আগা হিলালির কাছে ১১ জন সিনেটরের পক্ষ থেকে একটি টেলিগ্রাম এবং ৫৮ জন কংগ্রেস সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি হস্তান্তর করেন যেখানে তাঁরা সবাই শেখ মুজিবের প্রতি করুণা প্রদর্শনের জন্য পাকিস্তানের প্রতি আবেদন জানান। ইউএনআই এর প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গেছে, শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী যিনি ঢাকায় গৃহবন্দী ছিলেন তাঁকে কয়েকদিন আগে বিমানযোগে করাচী নিয়ে আসা হয়। সকল পরাশক্তি, পশ্চিমা দেশগুলো এবং আফ্রিকার বিশেষ কিছু দেশ, এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর সরকার প্রধানদের উদ্দেশ্য প্রেরিত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর তারবার্তা সেসব দেশের ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। তিনি এই তারবার্তায় বলেন, ‘ভারতের সরকার ও জনগণ সেইসঙ্গে আমাদের সংবাদ মাধ্যম এবং সংসদ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের উল্লিখিত বিবৃতিতে অত্যন্ত বিচলিত হয়েছে যে, তাঁকে কোন ধরনের বৈদেশিক আইনি সহায়তা নেয়ার সুযোগ না দিয়েই জনাব মুজিবুর রহমানের গোপন সামরিক বিচার শুরু করতে যাচ্ছেন। আমরা বুঝতে পেরেছি যে এই তথাকথিত বিচার শুধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকা- আড়াল করার কাজেই ব্যবহার করা হবে। এতে করে পূর্ববঙ্গের পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে এবং ভারতেও গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে কেননা এ ব্যাপারে আমাদের জনগণ এবং সব রাজনৈতিক দলের গভীর অনুভূতি রয়েছে। এ কারণেই আমাদের গভীর উদ্বেগ। আমরা আপনাদের কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি এই অঞ্চলে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বৃহত্তর স্বার্থে একটি বাস্তবসম্মত মনোভাব গ্রহণ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে আপনাদের প্রভাব খাটাতে। উ.থান্ট বলেন, তিনি জাতিসংঘে অনেক দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে একই অনুভূতির অংশীদার ‘যে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্য নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়ে যে কোন পরিবর্তনে পাকিস্তানের সীমান্তের বাইরে অবধারিতভাবে তার প্রতিক্রিয়া হবে। ‘তিনি বলেন, এই বিচারকার্যটি অনেকের কাছেই মানবিক সেইসঙ্গে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত কৌতূহল এবং উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, পূর্ববঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা প্রায় প্রতিদিনই তার কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এখন করে যাচ্ছেন। জেনেভাতে, আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ কমিশন সুকাল শেখ মুজিবুর রহমানের নির্ধারিত বিচারকার্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে। লন্ডন থেকে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনে অবস্থানরত শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবীরা দাবি করেন যে তাঁকে সব ধরনের আইনগত সাহায্য গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখা হয়েছে। আইনজ্ঞ বার্নার্ড শেরিডান এ্যান্ড কোম্পানি এই মামলার ব্যাপারে টাইমস পত্রিকার কাছে একটি চিঠি লেখার মতো অস্বাভাবিক পদক্ষেপ নেয়।

এই চিঠিতে আরও বলা হয় যে তারা জুন মাসে লন্ডনের পাকিস্তান দূতাবাসে গিয়েছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়ে লিখিত আবেদন করেছিলেন, কিন্তু এই আবেদনের প্রতি-উত্তর পাননি। এই প্রতিষ্ঠানের একজন সদস্য মিঃ শন ম্যাকব্রাইড পাকিস্তানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আরেকটি আবেদন করেন যেটির প্রাপ্তিস্বীকারও পাওয়া যায়নি বলে এই চিঠিতে বলা হয়। কায়রো থেকে এক প্রতিবেদনে জানা যায় ইউএআর-এর শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা আল আহরাম, সামরিক আদালতে পূর্ববঙ্গের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার হতে যাচ্ছে এই ঘোষণায় সুকাল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই পত্রিকায় বলা হয়, ‘সামরিক বা গোপন বিচার করে জাতীয় ঐক্য নিশ্চিত করা যাবে না এবং জনসংখ্যার বেশিরভাগ মানুষকে লৌহকঠিন শাসনে রেখে একে রক্ষা করা যাবে না।’ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরের মুক্তিবাহিনীর গেরিলাদের সিরিজ আক্রমণের ফলে দখলদার সেনাদের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মনোবল এখন কেবল ভাটির দিকে যাচ্ছে। ঢাকা শহর দিনের বেলায় থাকে পাকিস্তানী সৈন্যদের অধিকারে কিন্তু সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই সম্পূর্ণ চিত্রটি বদলে যায়। রাত্রি সমাগমের সঙ্গে সঙ্গে বিকট আওয়াজে বোমা ও গ্রেনেড বিস্ফোরণ, মুক্তি সংগ্রামীদের সাথে পাকসেনাদের অবিরাম গুলি বিনিময়ের শব্দ। পাকবাহিনীর ইঞ্জিনিয়াররা গেরিলাদের আক্রমণে বিধ্বস্ত সেতু, কালভার্ট, বৈদ্যুতিক থাম প্রভৃতি মেরামতের কাজ করছে। কয়েকদিন আগে মুক্তি বাহিনী সিরাজগঞ্জ, বৈদ্যুতিক স্টেশন এবং গুলবাগের স্টেশনটিও ধ্বংস করে দিয়েছেন।

লেখক : শিক্ষাবিদ ও গবেষক

sumahmud78@gmail.com

নির্বাচিত সংবাদ