২১ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেখ তো পালিয়ে যাচ্ছে না!

১৯৭১ সালের ১২ আগস্ট দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। এই মুহূর্তে বাঙালীর একমাত্র প্রশ্ন হলো শেখ কি এখনো জীবিত? ইয়াহিয়ার হঠাৎ করে দেওয়া সবচেয়ে কমসময়ে সম্ভবপর-সঠিকভাবে বললে ৪৮ ঘণ্টার নোটিসে বিচারের তারিখ ঘোষণার পূর্বেই কি উন্মাদনাগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাকে শেষ করেনি? কেন তারা তাড়াহুড়া করছে? শেখ তো পালিয়ে যাচ্ছে না! সে তাদের হাতেই আছে এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে আছে, যেখানে পরাজয় পাক সেনাবাহিনীকে খুব ধীরে নয় কিন্তু অটলভাবে চূর্ণ করে দিচ্ছে। বিচারের সময় নির্ধারণে তাদের বিচার ব্যবস্থার উজ্জ্বলতা দেখানোর চেয়ে বড় কোন কারণ অবশ্যই লুকিয়ে আছে। শেখ কে গ্রেফতার করার পর থেকেই নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করা জঘন্য ব্যক্তিরা বাদে তাকে আর কেউ দেখেনি। অবশ্যই, শহীদ সোহরাওয়ার্র্দীর কন্যা বেগম রইসি সুলাইমান এবং বর্তমানে যিনি সামরিক জান্তার পক্ষ হয়ে বাংলাদেশ বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন, মে মাসের শেষের দিকে ঢাকায় দাবি করে যে, খুনী জেনারেলগণ কর্তৃক উদ্ভাবিত আপস রফা পরিচালনা করার আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সামরিক জেলে সে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেছে। বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান মুজিবনগরে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এখন কেবল মুক্তিফৌজ ও দখলদার পাকিস্তানী বাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই লড়াই এখন জনযুদ্ধে পরিণত হয়েছে। দেশবাসী হানাদারদের বিতাড়িত করে স্বদেশ ভূমিকে মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। ৮নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনী পাকবাহিনীর পোটখালী বিওপি ঘাঁটির উপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে পাকহানাদার সৈন্যরা পোটখালী বি ও পি অবস্থান ছেড়ে পালিয়ে যায়। মুক্তিবাহিনীর বীর যোদ্ধারা পোটখালী বিওপি দখল করে সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যূহ স্থাপন করে। ন্যাভাল সিরাজ ৫ জন মাত্র মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে নরসিংদীর জিনারদী পাকসেনা ক্যাম্প আক্রমণ করে অস্ত্রসহ ১৫ জন পাকসেনাকে বন্দী করে। মুক্তিফৌজ মন্দভাগ বাজারে আক্রমণ করে ৫৫ পাকসেনাকে হত্যা করে। পাকনেভী সুন্দরবনের ভিতরে মুক্তিবাহিনীর লাওতাড়া ঘাঁটির ওপর দুদিক থেকে আক্রমণ চালায়। পাকহানাদারদের এ আক্রমণে মুক্তিবাহিনী পিছু হটে খুলনা জেলার আশাশুনি থানার বড়দল ঘাঁটিতে ফিরে আসে। কাদের সিদ্দিকীর নির্দেশে কমান্ডার হাবিবের নের্তৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা দল যমুনা নদীতে হানাদারদের অস্ত্র বোঝাই ৭টি জাহাজের ওপর তীব্র আক্রমণ চালায়। এতে জাহাজগুলো বালুচরে আটকে যায় এবং ১৪-১৫ জন খানসেনা নিহত হয় ও অন্যান্যরা পালিয়ে যায়। জাহাজের লগবুগ ও মুভমেন্ট অর্ডারের হিসাব অনুসারে জাহাজগুলোতে এক লাখ কুড়ি হাজার বক্সে একুশ কোটি টাকার নানা ধরনের চাইনিজ, বৃটিশ ও মার্কিন অস্ত্রশস্ত্রের হিসেব পাওয়া যায়। মুক্তিযোদ্ধারা এ থেকে প্রচুর পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে এবং নেয়া সম্ভব নয় এরূপ প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ জ্বালিয়ে দেয়। স্থানীয় সহচরদের প্ররোচনায় হানাদাররা কমলগঞ্জের আদিবাসী গ্রাম ভানুবিল, মঙ্গলপুর, ফুলতলি ও হোমেরজান গ্রামে প্রবেশ করে তমাল সিংহ, মদন সিংহ, চিত্ত সিংহ ও সার্বভৌম শর্ম্মাসহ ১৪ জন আদিবাসী মনিপুরিকে ধরে এনে গুলি করে হত্যা করে। ভারতে যাওয়ার পথে পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে প্রাণ হারান মঙ্গলপুর গ্রামের খাম্বা সিংহ ও উত্তর পলকির পাড়া গ্রামের আরজু মিয়া। এছাড়া মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চবিদ্যালয়ে মাইন বিস্ফোরণে নিহত হয় কৃষ্ণপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ। অসংখ্য মা-বোনকে সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হাতে। ফটিকছড়ি থানা মুক্তিবাহিনীর সিইনসি (স্পেশাল) আবদুল হালিম ও ফটিকছড়ি থানার বিএলএফ প্রধান আনোয়ারুল আজিম দলবল নিয়ে ফটিকছড়ি প্রবেশ করে। পর্যায়ক্রমে ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবির থেকে আহাম্মদ ছাফা গ্রুপ, মইনুদ্দিন গ্রুপ, দবির গ্রুপ, গৌরিশংকর গ্রুপ, রণবিক্রম ত্রিপুরা গ্রুপ যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রবেশ করে। অন্যান্য গ্রুপের মুক্তিযোদ্ধারা দলে দলে ফটিকছড়ি থানার অভ্যন্তরে আসতে শুরু করে। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ফটিকছড়ি থানাকে ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়। মুক্তিযোদ্ধারা ফটিকছড়ি থানায় প্রবেশ করে পাকিস্তানী সৈন্য ও রাজাকার ঘাঁটির ওপর প্রচ- হামলা শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধারা বাবুনগর মাদ্রাসা, নাজিরহাট, রোসাংগিরি, সুয়াবিল, ভুজপুর, নানুপুর ও লেলাং এলাকায় হানাদার বাহিনীর ওপর বেপরোয়া হামলা করতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে পাকিস্তানী সৈন্যরা তাদের ঘাঁটিতে বাঙ্কার তৈরি করে অবস্থান নেয়। শেখ মুজিবুর রহমানের ‘প্রহসনের বিচারের’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরুপ লন্ডনে কর্মরত পাকিস্তান হাই কমিশনের সহকারী লেবার কমিশন ফজলুল হক চৌধুরী আজ বাংলাদেশের প্রতি তার আনুগত্য প্রকাশ করেন। জনাব চৌধুরী ব্রিটেনে চতুর্থ পদত্যাগী পাকিস্তানী কূটনীতিক ছিল। সে তার এ সিদ্ধন্ত গতকাল জানিয়েছিল যখন প্রায় ২০০০ বাঙালী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিটে গিয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির জন্য। বিক্ষোভকারীরা হাইড পার্কে সমবেত হয় এবং শেষ হবার আগ পর্যন্ত লন্ডনের প্রধান রাস্তা দিয়ে মিছিল করে। জনাব চৌধুরী বলেন, এটা বিদ্রƒপাত্মক ছিল যে শেখ রহমানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পরিচালনা পরিষদে সাজানো মামলা করার চেষ্টা করা হয়েছিল একটি চক্রের মাধ্যমে যেটার কোন আইনি বৈধতা ছিল না। এই চক্র ডাহা মিথ্যা বলেছে জনগণের নির্বাচিত নেতাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার সম্পর্কে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ওপর প্রভাব বিস্তারের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব ও ২৪টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি আবেদন জানান। লন্ডনে পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদুল হক চৌধুরী বৃটিশ মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বর্তমানে যেসব অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছে, তা সেনাবাহিনীর সৃষ্ট নয়। এর জন্য দায়ী সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী (মুক্তিযোদ্ধা)। ঢাকা শহর শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন ও সেক্রেটারী মোহাম্মদ মনসুর আলী প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যথাযথভাবে আজাদী দিবস পালনের আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অবশ্যই আমাদের দুষ্কৃতকারী ও বিছিন্নতাবাদীদের হাত থেকে দেশের আদর্শ ও অখ-তা রক্ষার জন্য নতুন করে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। দৈনিক যুগান্তরের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গীশাহী ও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর সেনাসজ্জা তৎপরতা বাড়িয়ে তুলেছে। পাক জঙ্গীবাহিনী সীমান্তের ষাটটি চৌকিতে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করেছে। কিন্তু সেনাকমান্ডের নির্দেশ সত্ত্বেও ভারত নদী, জলপথ, পাহাড় দিয়ে বিস্তৃত ২৭০টি সীমান্ত ফাঁড়ির ওপর সফল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এখনো সফল হয়নি। মুক্তিবাহিনী সমগ্র সীমান্ত বরাবর বাংলাদেশের পঞ্চাশ কিলোমিটার ভিতর পর্যন্ত নিজ নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং নানা অঞ্চলে অনেকখানি অভ্যন্তরে ও ঢুকে পড়েছে। বিবিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র বলেছেন, মহাসচিব উ.থান্ট, পূর্ব পাকিস্তানের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যাপারে কূটনৈতিক বুঝাপড়ার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছেন। মুখপাত্র আরও বলেন যে উ.থান্ট প্রকাশ্যে এই ব্যাপার সম্পর্কে কিছু বলার জন্য প্রস্তুত নন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, জাতিসংঘের ভারতীয় রাষ্ট্রদূত উ.থান্টের হাতে শেখ মুজিবের বিচার সম্পর্কে মিসেস গান্ধীর থেকে প্রাপ্ত একটি পত্র হস্তান্তর করেছে। শেখের বিচার পশ্চিম পাকিস্তানের কোন এক স্থানে বুধবার শুরু হয়েছে। কিন্তু তার কোন সংবাদ প্রকাশ করা হয়নি এবং এটি জানা যায়নি যে আদৌ শুরু হয়েছে কিনা। দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন আজ এক যুক্ত বিবৃতিতে পূর্ববঙ্গ সমস্যার ‘রাজনৈতিক সমাধানের’ জন্য জরুরী ব্যবস্থা অবলম্বনের দাবি জানান। এই সমস্যার কোন ‘সামরিক সমাধান’ হতে পারে না বলে ভারত ও সোভিয়েত সরকারদ্বয় সুস্পষ্ট অভিমত প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ সমস্যা সম্পর্কে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মতামত প্রায় অনুরূপ বলে সরকারী সূত্রে বলা হয়। সদ্য সম্পাদিত চুক্তির নবম অনুচ্ছেদে উপমহাদেশে যুদ্ধ আশঙ্কা আলোচনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পরিস্থিতিকে বিবেচনা করা হয়। শরণার্থীরা যাতে নিরাপদে তাঁদের ঘরবাড়ীতে ফিরে যেতে পারেন সেরকম অবস্থা সৃষ্টির জন্য দাবি জানিয়ে যুক্ত-বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, একমাত্র ঐ অবস্থায় পাকিস্তানের সমগ্র জনগণের স্বার্থ এবং ঐ এলাকায় শান্তি রক্ষিত হতে পারে। একমাত্র রাজনৈতিক সমাধানই পাকিস্তানের সমগ্র জনগণের চাহিদা পূরণ করতে পারে এবং তা না হলে শুধু পূর্ববঙ্গের নয়, সমগ্র পাকিস্তানের ভবিষ্যত বিপদাপন্ন হতে পারে। পূর্ববঙ্গের জনগণের পক্ষে গ্রহণযোগ্য সমাধানেই ভারত রাজি হবেন। বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই ব্যাপারে পাকিস্তান সরকার আলোচনা করুক সেটাই ঐ এলাকার জনগণের দাবি। শান্তি, মৈত্রী ও সহযোগিতার ভারত-সোভিয়েত চুক্তিকে ঐতিহাসিক ঘটনা বলে বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়েছে। এশিয়া তথা বিশ্বে শান্তি বজায় রাখার সংগ্রামকে জোরদার করাই ভারত-সোভিয়েত শান্তি, মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির লক্ষ্য বলে বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়েছে। দি স্টেটসম্যান পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার সময় সম্প্রতি বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির সেক্টর কমান্ডারদের কয়েকজন মনে করেন মুক্তি বাহিনীর কমান্ডো ও গেরিলারা অপারেশনে মুখোমুখি অবস্থানে বেশ কয়েকটি এলাকায় পাকবাহিনী যুদ্ধে তেমন যুক্ত হয়নি। কমান্ডাররা মনে করেন যে, এটি কৌশলগত কারণে হতে পারে। এটা এখন স্পষ্ট যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ববাংলার কাঁদা এবং কাঁটাঝোপে সম্পূর্ণ হতাশ হয়ে পড়ে। সমগ্র বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ক্যাম্পে গেরিলাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চালু আছে। অস্ত্র সরবরাহের ঘাটতির জন্য এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বেশিরভাগকে সম্পূর্ণরুপে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। কিছু গেরিলা ইউনিট বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে প্রবেশ করেছে এবং সেখানে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে স্থানীয় জনগণের প্রতিক্রিয়া অসাধারণ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু কমান্ডার এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন যে তারা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম। তারা আশা করেছিল যে বাংলাদেশ সরকার অস্ত্র সংগ্রহের জন্য যথাসাধ্য চেস্টা করবে এবং বর্ষা মৌসুমে আরও ভাল ব্যবহার করা হবে। যেহেতু যত অস্ত্র পাওয়া যাবে ততই মুক্তিবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি করবে তাদের কৃতিত্ব গর্বিত করবে যেভাবে অন্য কোন সেনাবাহিনী গর্বিত হয়।