১৮ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চামড়াশিল্পকে বাঁচাতে হবে

কোরবানির চামড়ার বাজারে ধস নামার নেপথ্য কারণ হিসেবে ‘কারসাজি’ শব্দটি উচ্চারণ করেছে বাণিজ্যমন্ত্রী। এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। চামড়ার দাম এত কম হওয়া ব্যবসায়ীদের ‘কারসাজি’ বলে অভিযোগ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী স্বয়ং। ব্যবসায়ীরা মুনাফার জন্য সিন্ডিকেট গড়বেন, কারসাজি করবেন- এ তো চলেই আসছে যুগ যুগ ধরে। তাহলে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কী দক্ষতা প্রদর্শন করল?

গতবারও কোরবানি ঈদের সময় চামড়ার বাজারে ধস নেমেছিল। কিন্তু এবার শুধু ধস বললে কমই বলা হয়, বলতে হবে মহাধস। মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা এলাকায় ঘুরে ঘুরে চামড়া সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু আড়তে এসে সেই চামড়ার ন্যায্য দাম পাননি। ৩০০-৪০০ টাকায় কেনা একেকটি চামড়ার দাম যদি আড়তদাররা ৫০ থেকে ১০০ টাকা বলেন, তাহলে উপায় কি থাকে! চট্টগ্রামে ঈদের পরদিন চামড়ার আড়ত এলাকায় প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে রাগে-দুঃখে ও হতাশায় সড়কের ওপর চামড়া ফেলে বাড়ি ফিরে যান মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। এমন ঘটনা বাংলাদেশে এই প্রথম। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী ফেলে যাওয়া ওই চামড়ার সংখ্যা এক লাখ হবে। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ এই ঘটনা থেকে সহজেই অনুমান করা যায়। এবারও কোন কোন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের সংগৃহীত চামড়া মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে বাধ্য হন। কেন এমন পরিস্তিতির উদ্ভব হলো- এই প্রশ্নের সদুত্তর খুঁজতে হবে জাতীয় স্বার্থেই। কেননা কোরবানির সময়েই সবচেয়ে বেশি পশুর চামড়া সংগৃহীত হয়ে থাকে।

ঈদের ছুটির আগে জনকণ্ঠের প্রথম পাতায় ‘কোরবানির পশুর চামড়া সন্ত্রাস রোধে হার্ডলাইনে সরকার’- এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, পশুর চামড়া নিয়ে যাতে সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সরকার চামড়ার দামও নির্ধারণ করে দিয়েছিল বরাবরের মতো। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য হলো, ‘ ঈদের আগে ট্যানারি মালিক ও চামড়া ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভা করে আমরা চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা লক্ষ্য করলাম ঈদের দিন দাম এমন কমে এলো যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ প্রশ্ন হলো, ব্যবসায়ীরা বার বার চামড়া নিয়ে বাজার নয়ছয় করবে, আর তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কর্তৃপক্ষ পিছিয়ে থাকবে কেন?

এবার চামড়াবাজারে ধসের জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করছে ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের সংগঠন। ট্যানারি মালিকরা বলছেন, আড়তদারেরা নিজেরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছে। এতে তারাই লাভবান হবেন। আর আড়তদারদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকরা গতবারের চামড়ার দাম পরিশোধ না করায় এবার বেশির ভাগ আড়তদার বা ব্যবসায়ী চামড়া কেনা থেকে বিরত থেকেছেন। ফলে চামড়ার দাম কমে গেছে। এই উভয় পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখতে হবে সরকারকে। বাস্তবতা হলো চামড়ার উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাঁচা চামড়া রফতানির অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারই পারে চামড়াশিল্প বাঁচাতে। এ জন্য কয়েকটি পর্যায়ে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে চামড়ার দামে স্বেচ্ছাচারিতা না করা যায় সে জন্য জোরালো ব্যবস্থা নিতে হবে আগেভাগেই। আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করে প্রাপ্ত সিদ্ধান্ত যে কোন মূল্যে কার্যকর করা চাই। বলা বাহুল্য, বর্তমানে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানিতেও মন্দা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে গতি আনার জন্য চামড়া প্রক্রিয়াকরণের কার্যক্রম অবশ্যই পরিবেশের আন্তর্জাতিক মানদন্ডে (কমপ্লায়েন্ট) উন্নীত করতে হবে। সেজন্যও চাই সক্রিয় উদ্যোগ। যে কোন মূল্যে দেশের চামড়াশিল্পকে বাঁচাতে হবে।