২৪ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে, রাজধানীর বাইরে বেশি শনাক্ত

  • আরও পাঁচজনের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বৃষ্টিতে বেড়েছে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র এবং ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। সরকারী হিসেবেই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। তবে এই সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়ে গেছে বলে বেসরকারী সূত্রসমূহ দাবি করেছে। গত চারদিন ধরে রাজধানীর তুলনায় ঢাকার বাইরে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় শনাক্তকৃত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। এমন আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এডিস মশার প্রজনন দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীতে এক সিআইডি সদস্য, খুলনায় এক যুবক, মাদারীপুরে একজন, নোয়াখালীতে একজন এবং ফরিদপুরে ও লক্ষ্মীপুরে দু’টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

অধিদফতরের ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সর্বমোট ডেঙ্গু আল্ডান্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৬৩৫১ জন এবং ছাড়া পাওয়া মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩৮৪৪২ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতালে সর্বমোট ডেঙ্গু আক্রান্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭৮৫৯ জন। রাজধানীসহ সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ১৮৯৬ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৪০ জন। গত ৮ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সাতদিনে সারাদেশে দৈনিক আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২৩২৬, ২০০২, ২১৭৬, ২৩৩৪ , ২০৯৩, ১২০০ ও ১৮৮৫ জন। আর ১-১৪ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ২৭৮৯০ জন।

সূত্রটি আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৪৭ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৮৩ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ২০ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৭৩ জন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩১ জন, রাজারবাগের পুলিশ হাসপাতালে ১৫ জন, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪৭ জন, পিলখানার বিজিবি হাসপাতালে ৩ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১১ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫২ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।

আর ঢাকা শহর ব্যতীত ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলায় ২৭৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি জেলায় ৭০ জন, চট্টগ্রামের ১১টি জেলায় ১৯৪ জন, খুলনা বিভাগের ১০টি জেলায় ১৬৫ জন, রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলায় ১৩২ জন, রংপুর বিভাগের ৮টি জেলায় ১১৪ জন, বরিশালের ৬টি জেলায় ১৫৬ জন এবং সিলেট বিভাগের ৪টি জেলায় ২১ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।

আর বর্তমানে ঢাকা শহর ব্যতীত ঢাকা বিভাগে ৭৮৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৭৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬২৩ জন, খুলনা বিভাগে ৬৬৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪১৭ জন, রংপুর বিভাগে ২৯৯ জন, বরিশাল বিভাগে ৬৩১ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঈদের দিন সোমবার বিকেল থেকেই বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হাল্কা বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়ার এমন অবস্থা ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডীন অধ্যাপক ডাঃ এবিএম আব্দুল্লাহ বুধবার সন্ধ্যায় জনকণ্ঠকে জানান, ভারি বৃষ্টি হলে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজনন ব্যাহত হতো। পানিতে ভেসে যেত এডিসের লার্ভা। কিন্তু অব্যাহত ঝিরঝির বৃষ্টি এডিস মশার প্রজননে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এমন আবহাওয়ায় এডিস মশার প্রজনন দ্রুত বাড়ে, যা ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমকে ব্যাহত করে তুলতে পারে বলে জানান অধ্যাপক ডাঃ এবিএম আব্দুল্লাহ।

ফরিদপুর ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর থেকে জানান, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তানজিদ মোল্লা (৯) নামে এক শিশু মারা গেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। শিশুটিকে রবিবার ভর্তি করা হয়েছিল। তানজিদ ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মাঝকান্দি এলাকার বাসিন্দা ভ্যান চালক জাহিদ মোল্লার ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তানজিদ সবার বড়।

তানজিদ ফুপু রিনা বেগম জানান, তিন দিন জ্বরে ভোগার পর গত ১১ আগস্ট শিশুটিকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে।

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কামদা রঞ্জন সাহা জানান, তানজিদ মধুখালীতে নিজ বাড়ি থেকেই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়। এ নিয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট তিনজন মারা গেল।

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা জানান, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গত ২০ জুলাই থেকে বুধবার পর্যন্ত মোট রোগী ভর্তি হয়েছেন ৫৭১ জন। এর মধ্যে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন ২৪৬ জন, ১০ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩১২ জন। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে ১৫৬ জন ফরিদপুরে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন এনামুল হক জানান, গত ২০ জুলাই থেকে বুধবার পর্যন্ত ফরিদপুরের বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ভর্তি হয়েছে ৮৯৭ জন। গতকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৭৩ জন। চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন ৪২০ জন। রেফার্ড করা হয়েছে ১০১ জনকে।

লক্ষ্মীপুর ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা, লক্ষ্মীপুর থেকে জানান, লক্ষ্মীপুরে কমলনগরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৪ বছরের শিশু পরশ। সোমবার রাতে লক্ষ্মীপুর থেকে নোয়াখালীতে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে জানান স্বজনরা। মৃত পরশ কমলনগর উপজেলার চরজাঙ্গালীয়ার দাসপাড়া এলাকার কামরুজ্জামানের ছেলে।

পরশের খালু মোঃ ইব্রাহিম জানান, শনিবার সকাল থেকে পরশের জ্বর দেখা দেয়। দুই দিনেও জ্বর ভাল না হওয়ায় সোমবার বিকেলে ফেয়ার ডায়াগনস্টিক নামে লক্ষ্মীপুরের একটি প্যাথলজিতে তার ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোরশেদ আলম হিরু। ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এ চিকিৎসক। পরে নোয়াখালী নেয়ার পথে রাত ১০টায় মারা যায় পরশ। বুধবার দুপুর পর্যন্ত গত ১৯ দিনে সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ১৬৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী। সদর হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কিশোরগঞ্জ ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ থেকে জানায়, ঈদের দিন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কিশোরগঞ্জবাসী সিআইডিতে কর্মরত জামাল আহমেদ মারা গেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিআইডি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এই সদস্যের মৃত্যু হয়। তিনি জেলা শহরের বত্রিশ মনিপুরঘাটের বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে জামাল আহমেদ ছিলেন দ্বিতীয়। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। মঙ্গলবার বাদ জোহর নিজবাড়ি কিশোরগঞ্জের বত্রিশ মনিপুরঘাট জামে মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে।

খুলনা ॥ স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস থেকে জানান, খুলনায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোঃ রাসেল (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ঈদের দিন বিকেলে তিনি মারা যান। মৃত রাসেল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়ী গ্রামের মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে।

রাসেল ঢাকার রমনা পার্কে ক্লিনারের কাজ করতেন। সম্প্রতি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডাঃ পার্থ প্রতিম দেবনাথ জানান, রাসেলের অবস্থার অবনতি হলে গোপালগঞ্জ থেকে গত ১১ আগস্ট তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ আগস্ট সোমবার বিকেলে তিনি মারা যান।

এ পর্যন্ত ডেঙ্গু জরে আক্রান্ত হয়ে খুলনায় একজন বৃদ্ধাসহ মারা গেছেন ৪ জন। এর মধ্যে তিন জন খুলনার বাইরে থেকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আসা রোগী।

মাদারীপুর ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর থেকে জানান, মাদারীপুরের শিবচরে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাজী আবদুল মজিদ (৭৫) নামে আরও এক রোগী মারা গেছেন। সে গত এক সপ্তাহ ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। মৃত আবদুল মজিদ উপজেলার উত্তর বহেরাতলা ইউনিয়নের সুতারপাড় গ্রামের মৃত সিরাজউদ্দিন পোজতারের ছেলে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে জেলার শিবচরের নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে মাদারীপুরে এখন পর্যন্ত ৬ জন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন। যার মধ্যে কালকিনি ও শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই জন মারা গেছেন। বাকি ৪ জন ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ, বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল।

বাগেরহাট ॥ স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট থেকে জানান, বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম রাজ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি পবিত্র ঈদ-উল-আজহার আগের দিন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রথমে বাগেরহাটে পরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। বুধবার তাঁর অবস্থার উন্নতি হলে চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নোয়াখালী ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী থেকে জানান, নোয়াখালীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আমির হোসেন (৬০) নামে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঈদের আগের দিন (রবিবার) সকালে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার গ্রামের বাড়ি পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার দত্তপাড়া এলাকায়। তিনি শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এ নিয়ে নোয়াখালীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হলো।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোঃ খলিল উল্যাহ বলেন, আমির হোসেন নামের ওই রোগী গত শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তির পর হাসপাতালে তাকে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা-সেবাই দেয়া হয়। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। রবিবার সকাল ছয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তিনি মারা যান।

জেলা সিভিল সার্জন মোঃ মোমিনুর রহমান বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৫৬ জন। তিনি বলেন, জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে ৩৩৬ জন।

নীলফামারী ॥ স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী থেকে জানায়, ঈদের দিন হতে বাকি তিন দিন বুধবার পর্যন্ত নীলফামারীতে আরও ১২-২৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ২৫ জুলাই থেকে গত ২১ দিনে থেকে জেলায় ১১৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তরা সকলেই রাজধানী থেকে জ্বর নিয়ে নিজ জেলায় ফিরে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী ছিল।

নতুন করে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ১৭ জন নীলফামারীতে ও বাকিদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সিভিল সার্জন রনজিৎ কুমার বর্মন বলেন, নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসার কোন সমস্যা নেই। ডেঙ্গু যাতে না ছড়ায় সে ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। জ্বর হলে সরকারী হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তিনি জানান নীলফামারীতে স্থানীয়ভাবে কোন ডেঙ্গু রোগী নেই। যারা আক্রান্ত তারা সকলেই ঢাকা হতে এসেছে।

নির্বাচিত সংবাদ